১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮১
আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও ভূমিকা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
‘‘হে ইমানদার লোকেরা! আল্লাহর ওয়াস্তে সত্য নীতির ওপর স্থায়ীভাবে দণ্ডায়মান ও ইনসাফের সাক্ষ্যদাতা হও। কোন বিশেষ দলের শত্রুতা তোমাদেরকে যেন এতদূর উত্তেজিত করে না তোলে যে, (এর ফলে) ইনসাফ ত্যাগ করে ফেলবে। ন্যায়বিচার করো; কেননা খোদাপরস্তির সাথে এর গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে। আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাক। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি ওযাকিফহাল রয়েছেন।’’ (সূরা মায়িদাঃ ৮)
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
‘‘হে ঈমানদার লোকেরা! এই কাফিরদের সাথে লড়াই কর, যেন শেষ পর্যন্ত ফিতনা খতম হয়ে যায়।’’ (সূরা আনফালঃ ৩৯)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
‘‘হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা যখন একটি সৈন্য-বাহিনী রূপে কাফিরদের সম্মুখীন হও, তখন তাদের মুকাবিলা করা হতে কখনই পশ্চাদমুখী হবে না।’’ (সূরা আনফালঃ ১৫)
وَإِمَّا تَخَافَنَّ مِن قَوْمٍ خِيَانَةً فَانبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَىٰ سَوَاءٍ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ
‘‘আর যদি কখনো কোন জাতির পক্ষ হতে তোমরা ওয়াদা ভঙ্গের আশঙ্কা কর, তবে তাদের ওয়াদা-চুক্তিকে প্রকাশ্যভাবে তাদের সম্মুখে ছুঁড়ে মারো; আল্লাহ নিশ্চয়ই ওয়াদা ভঙ্গকারীদের পসন্দ করেন না।’’ (সূরা আনফালঃ ৫৮)
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ –
‘‘আর তোমরা যতদূর সম্ভব বেশী পরিমাণ শক্তিমত্তা ও সদাসজ্জিত ঘোড়া (বাহন) তাদের সঙ্গে মুকাবিলা করার জন্যে প্রস্তুত করে রাখ, যেন তার সাহায্যে আল্লাহর এবং নিজেদের দুশমনদের আর অন্যান্য এমন সব শত্রুদের ভীত-শংকিত করতে পারো যাদেরকে তোমরা জান না; কিন্তু আল্লাহ জানেন। আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পুরোপুরি বদলা তোমাদের ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তোমাদের সাথে কক্ষনই জুলুম করা হবে না।’’ (সূরা আনফালঃ ৬০)
وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّىٰ يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْلَمُونَ –
‘‘আর মুশরিকদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তি যদি আশ্রয় চেয়ে তোমাদের নিকট আসতে চায় (আল্লাহর কালাম শুনার উদ্দেশ্যে) তবে তাকে আশ্রয় দান কর, যেন সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছিয়ে দাও। এটা এই জন্যে করা উচিত যে, এই লোকেরা প্রকৃত ব্যাপার কিছুই জানে না।’’ (সূরা তওবাঃ ৬)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ –
‘‘হে ঈমানদার লোকেরা! যুদ্ধ কর সেই সত্য অমান্যকারী লোকদের বিরুদ্ধে, যারা তোমাদের নিকটবর্তী রয়েছে। তারা যেন তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা ও কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রাখ, আল্লাহর মুত্তাকী লোকদের সঙ্গেই রয়েছেন।’’ (সূরা তওবাঃ ১২৩)
ইসলামী পাঠ্যতালিকায় এমন বিষয়বস্তু থাকতে হবে যা শিক্ষার্থীদের মন-মানসিকতায় আদর্শবাদ, আদর্শিক বলিষ্ঠতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও অনমনীয়তার সৃষ্টি করবে এবং নিজেদের আদর্শিক বিজয় সাধনে নির্ভীক ও অগ্রসরমান বানাবে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি রক্ষা ও পরস্পরের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে ইসলামের নীতি অত্যন্ত দৃঢ়। বিশ্বশান্তি রক্ষায় এ নীতি অত্যন্ত সহায়ক। কিন্তু কোন রাষ্ট্র যদি সেদেশের মুসলিম সংখ্যালঘুকে দুর্বল ও অসহায় পেয়ে নির্যাতনের শিকার বানায় তাহলে মুসলিম মাত্রই সক্রিয় প্রতিবাদী হয়ে ওঠবে। তখন সে ব্যাপারটি আর সেদেশের ‘আভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ থাকবে না। বরং সে দেশটি আন্তর্জাতিক চুক্তি লংঘনের অপরাধে দায়ী হবে। এ বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্রদেরকে অনমনীয় বানাবার উপযোগী বিষয়াদি শিক্ষা দিবে।
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا –
‘‘কি কারণ থাকিতে পারে যে, তোমরা আল্লাহর পথে সেই সব পুরুষ, স্ত্রীলোক ও শিশুদের খাতিরে লড়াই করবে না, যারা দুর্বল হওযার কারণে নিপীড়িত হচ্ছে এবং ফরিয়াদ করছে যে, হে আমাদের রব্ব্! আমাদেরকে এ জনপদ হতে বের করে নাও, যার অধিবাসীগণ অত্যাচারী।’’ (সূরা আন–নিসাঃ ৭৫)
‘‘হে ইমানদার লোকেরা! আল্লাহর ওয়াস্তে সত্য নীতির ওপর স্থায়ীভাবে দণ্ডায়মান ও ইনসাফের সাক্ষ্যদাতা হও। কোন বিশেষ দলের শত্রুতা তোমাদেরকে যেন এতদূর উত্তেজিত করে না তোলে যে, (এর ফলে) ইনসাফ ত্যাগ করে ফেলবে। ন্যায়বিচার করো; কেননা খোদাপরস্তির সাথে এর গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে। আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাক। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি ওযাকিফহাল রয়েছেন।’’ (সূরা মায়িদাঃ ৮)
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
‘‘হে ঈমানদার লোকেরা! এই কাফিরদের সাথে লড়াই কর, যেন শেষ পর্যন্ত ফিতনা খতম হয়ে যায়।’’ (সূরা আনফালঃ ৩৯)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
‘‘হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা যখন একটি সৈন্য-বাহিনী রূপে কাফিরদের সম্মুখীন হও, তখন তাদের মুকাবিলা করা হতে কখনই পশ্চাদমুখী হবে না।’’ (সূরা আনফালঃ ১৫)
وَإِمَّا تَخَافَنَّ مِن قَوْمٍ خِيَانَةً فَانبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَىٰ سَوَاءٍ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ
‘‘আর যদি কখনো কোন জাতির পক্ষ হতে তোমরা ওয়াদা ভঙ্গের আশঙ্কা কর, তবে তাদের ওয়াদা-চুক্তিকে প্রকাশ্যভাবে তাদের সম্মুখে ছুঁড়ে মারো; আল্লাহ নিশ্চয়ই ওয়াদা ভঙ্গকারীদের পসন্দ করেন না।’’ (সূরা আনফালঃ ৫৮)
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ –
‘‘আর তোমরা যতদূর সম্ভব বেশী পরিমাণ শক্তিমত্তা ও সদাসজ্জিত ঘোড়া (বাহন) তাদের সঙ্গে মুকাবিলা করার জন্যে প্রস্তুত করে রাখ, যেন তার সাহায্যে আল্লাহর এবং নিজেদের দুশমনদের আর অন্যান্য এমন সব শত্রুদের ভীত-শংকিত করতে পারো যাদেরকে তোমরা জান না; কিন্তু আল্লাহ জানেন। আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তার পুরোপুরি বদলা তোমাদের ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তোমাদের সাথে কক্ষনই জুলুম করা হবে না।’’ (সূরা আনফালঃ ৬০)
وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّىٰ يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْلَمُونَ –
‘‘আর মুশরিকদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তি যদি আশ্রয় চেয়ে তোমাদের নিকট আসতে চায় (আল্লাহর কালাম শুনার উদ্দেশ্যে) তবে তাকে আশ্রয় দান কর, যেন সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছিয়ে দাও। এটা এই জন্যে করা উচিত যে, এই লোকেরা প্রকৃত ব্যাপার কিছুই জানে না।’’ (সূরা তওবাঃ ৬)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ –
‘‘হে ঈমানদার লোকেরা! যুদ্ধ কর সেই সত্য অমান্যকারী লোকদের বিরুদ্ধে, যারা তোমাদের নিকটবর্তী রয়েছে। তারা যেন তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা ও কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রাখ, আল্লাহর মুত্তাকী লোকদের সঙ্গেই রয়েছেন।’’ (সূরা তওবাঃ ১২৩)
ইসলামী পাঠ্যতালিকায় এমন বিষয়বস্তু থাকতে হবে যা শিক্ষার্থীদের মন-মানসিকতায় আদর্শবাদ, আদর্শিক বলিষ্ঠতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও অনমনীয়তার সৃষ্টি করবে এবং নিজেদের আদর্শিক বিজয় সাধনে নির্ভীক ও অগ্রসরমান বানাবে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি রক্ষা ও পরস্পরের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে ইসলামের নীতি অত্যন্ত দৃঢ়। বিশ্বশান্তি রক্ষায় এ নীতি অত্যন্ত সহায়ক। কিন্তু কোন রাষ্ট্র যদি সেদেশের মুসলিম সংখ্যালঘুকে দুর্বল ও অসহায় পেয়ে নির্যাতনের শিকার বানায় তাহলে মুসলিম মাত্রই সক্রিয় প্রতিবাদী হয়ে ওঠবে। তখন সে ব্যাপারটি আর সেদেশের ‘আভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ থাকবে না। বরং সে দেশটি আন্তর্জাতিক চুক্তি লংঘনের অপরাধে দায়ী হবে। এ বিষয়ে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্রদেরকে অনমনীয় বানাবার উপযোগী বিষয়াদি শিক্ষা দিবে।
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا –
‘‘কি কারণ থাকিতে পারে যে, তোমরা আল্লাহর পথে সেই সব পুরুষ, স্ত্রীলোক ও শিশুদের খাতিরে লড়াই করবে না, যারা দুর্বল হওযার কারণে নিপীড়িত হচ্ছে এবং ফরিয়াদ করছে যে, হে আমাদের রব্ব্! আমাদেরকে এ জনপদ হতে বের করে নাও, যার অধিবাসীগণ অত্যাচারী।’’ (সূরা আন–নিসাঃ ৭৫)