hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

বড় লোকের শিক্ষা

বর্তমানে শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা গরীব লোকদের আর্থিক সামর্থের সম্পূর্ণ বাইরে-অনেক দূরে চলে গেছে। এখনকার পাঠ্য-পুস্তক, কাগজ-কালি-কলম ইত্যাদির মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার অনেক ঊর্ধ্বে। তদুপরি মাসিক ছাত্র বেতনের পরিমাণও আকাশ-ছোঁয়া। কাজেই আমি বলব, এখনকার শিক্ষা একান্তভাবে নির্দিষ্ট হয়েছে বড় লোকদের ছেলেমেয়ের জন্যে। গরীবদের ছেলেমেয়ের জন্যে শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার দুয়ার তাদের সামনে চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্তাব্যক্তিদের বোধহয় তা-ই কাম্য। বেশী লোক লেখাপড়া জানলে কর্ম-সংস্থান তথা চাকুরী দেবার দায়িত্ব বাড়বে আর এ শিক্ষিত যুবকদের চাকুরী দিতে না পারলে সরকার বিরোধী আন্দোলন ও বিক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠবে। সর্বোপরি তাতে এখনকার শাসকদের তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সস্তা মূল্যের শ্রমিক-মজুরের অনটন দেখা দেবে, কল-কারখানার চাকা ঘুরবেনা এবং দেশী-বিদেশী পুঁজিদারদের শোষণের মাত্রা কমে যাবে। কাজেই শিক্ষাকে এতো বেশী ব্যয়-সাপেক্ষ করে দেয়া হয়েছে যেন গরীবরা লেখাপড়ার কথা চিন্তাই করতে সাহস না পায়। তারা এসব বাজে চিন্তা (?) না করে বরং নিম্নতম মজুরীর আত্ম-বিক্রয়ে বাধ্য হয়ে যেন সোজা মজুর মার্কেটে উপস্থিত হয়- মনে হচ্ছে কর্তাদের এই হল শিক্ষা নীতি। সরকার দেশে যে অসংখ্য পাবলিক স্কুল কায়েম করেছেন, তা আদৌ পাবলিক নয়; কারণ সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েদের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। তবু এইসব স্কুলকে পাবলিক স্কুল নাম দেয়ার উদ্দেশ্য জনগণকে ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কি হতে পারে?