১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৬
ব্যক্তি মানুষ সম্পর্কে কুরআন
কুরআন মজীদে মানুষ সম্পর্কে যে ধারণ দেয়া হয়েছে, তা সর্বাত্মক, বৈশিষ্ট্য নির্ধারক ও পুরোমাত্রায় ভারসাম্যপূর্ণ। বস্তুবাদী দার্শনিকরা মানুষকে নিছক একটা রক্ত মাংসের জীব, নানা রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয় এবং নিছক যন্ত্র-সর্বস্ব মনে করেছে। কিন্তু কুরআন তা স্বীকার করেনি। কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ বস্তুসর্বস্ব নয়-নয় বস্তুনিরপেক্ষ নিছক আত্মা-সর্বস্ব। কুরআন মানুষকে বস্তু ও রূহের সমন্বিত সত্তারূপে পেশ করেছে। আর এ দুটি জিনিস পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত, সম্পর্ক-সংশ্লষ্ট এবং পরস্পর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন। মানুষ নিছক জন্তু বা জীব নয়। জন্তু ও জীবগুলোর আয়ুষ্কালের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই নিঃশেষ হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে তা হয় না। দেহ-সত্তার বস্তুনিষ্ঠ বিচারে মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তুর মধ্যে কোন মৌলিক পার্থক্য নেই। মানুষ এমন সত্তাও নয়, যার ওপর অধিক সম্মানার্হ আর কেউ নেই বলে মনে করা যেতে পারে। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ কথাটি কুরআনের দৃষ্টিতে কিছুমাত্র সত্য নয়।
তবে কুরআনে মানুষের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মানুষ সে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে কেবল তখন, যখন সে নিজেকে সঠিক ও যথার্থভাবে জানতে ও চিনতে পারবে এবং জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধি সমন্বিত হবে। মানুষ যদি এই গুণাবলী থেকে বঞ্চিত হয়ে নিষ্প্রাণ প্রস্তরবৎ হয়ে যায়, তাহলে তার মনুষ্যত্বই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করতে হবে।
কুরআন ব্যক্তি মানুষের মূল্য ও মর্যাদা স্বীকার করে। সে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হওয়া ও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য হওয়ার কথা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে। কুরআনের দৃষ্টিতে সমাজ-সমষ্টি গড়ে ওঠে এসব দায়িত্বশীল ও সামজিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। কুরআন ব্যক্তি-সত্তা ও ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যকে কিছুমাত্র উপেক্ষা করেনি, ক্ষুণ্ন বা চূর্ণ করেনি তার সম্মান ও মর্যাদা। তার অস্তিত্বকে কোন দিক দিয়েই অস্বীকার করা হয়নি- অর্থহীন বা অন্তঃসারশূণ্যও বলা হয়নি। অনুরূপভাবে সে ব্যক্তিসত্তাকে সমাজ-সমষ্টির যাঁতাকলেও নিষ্পেষিত হতে দিতে প্রস্তুত নয়। অবশ্য কুরআন ব্যক্তিকে সমাজ সত্তার অঙ্গ বলে উল্লেখ করেছে আর এ সমাজ গঠিত হয় সমাজপ্রবণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। মানুষ সম্পর্কে ধারণা দানকারী কয়েকটি আয়াত এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছে।
তবে কুরআনে মানুষের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মানুষ সে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে কেবল তখন, যখন সে নিজেকে সঠিক ও যথার্থভাবে জানতে ও চিনতে পারবে এবং জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধি সমন্বিত হবে। মানুষ যদি এই গুণাবলী থেকে বঞ্চিত হয়ে নিষ্প্রাণ প্রস্তরবৎ হয়ে যায়, তাহলে তার মনুষ্যত্বই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করতে হবে।
কুরআন ব্যক্তি মানুষের মূল্য ও মর্যাদা স্বীকার করে। সে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হওয়া ও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য হওয়ার কথা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে। কুরআনের দৃষ্টিতে সমাজ-সমষ্টি গড়ে ওঠে এসব দায়িত্বশীল ও সামজিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। কুরআন ব্যক্তি-সত্তা ও ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যকে কিছুমাত্র উপেক্ষা করেনি, ক্ষুণ্ন বা চূর্ণ করেনি তার সম্মান ও মর্যাদা। তার অস্তিত্বকে কোন দিক দিয়েই অস্বীকার করা হয়নি- অর্থহীন বা অন্তঃসারশূণ্যও বলা হয়নি। অনুরূপভাবে সে ব্যক্তিসত্তাকে সমাজ-সমষ্টির যাঁতাকলেও নিষ্পেষিত হতে দিতে প্রস্তুত নয়। অবশ্য কুরআন ব্যক্তিকে সমাজ সত্তার অঙ্গ বলে উল্লেখ করেছে আর এ সমাজ গঠিত হয় সমাজপ্রবণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। মানুষ সম্পর্কে ধারণা দানকারী কয়েকটি আয়াত এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছে।