hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

মিশনারী শিক্ষার মারাত্মক পরিণাম

এই পর্যায়ে দেশে জালের মতো ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক খৃস্টান মিশনারী স্কুল-কলেজগুলোর উল্লেখ করাও অপরিহার্য। মিশনারী শিক্ষা হল এই মুসলমান দেশের মুসলমানদের পিতামাতার ছেলে-মেয়েকে তাদেরই বাপ-মা’র টাকায় এবং সরকারী ঔদাসীন্যের সুযোগে খৃস্টান বানিয়ে দেয়ার শিক্ষা। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছুই নেই। আমাদের কর্তাব্যক্তিরা এ ব্যাপারে উটপাখির ভূমিকা অবলম্বন করেছেন। বাইরে প্রবল ঝড় উঠেছে, সব ঘরবাড়ি সংসার মিস্মার করে দিচ্ছে; কিন্তু মহামান্য উটপাখি সাহেব বালির পাহাড়ে মুখ ঢুকিয়ে দিয়ে আরামে নিদ্রা যাচ্ছে- মনে করছেন কোথাও কিছু হচ্ছে না, সর্বত্রই শান্তি বিরাজিত। কিন্তু আমি বলতে চাই, এ মিশনারী শিক্ষা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুনিয়ার মুসলিম জাতিগুলোকে খৃস্টান সভ্যতা ও সংস্কৃতির খপ্পরে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজে মুসলিম-খৃস্টান দ্বন্দ্বের পথ উন্মুক্ত করছে। [পৃথিবীর বৃহত্তর মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া ও সুদানের সাম্প্রতিক মুসলিম–খৃস্টান সংঘাত এ ভয়াবহ বিপদেরই প্রত্যক্ষ প্রমাণ বহন করছে।– সম্পাদক] আফ্রিকা ও এশিয়ার কতকগুলো মুসলিম দেশকে তা-ই আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়ে দিয়েছে। এদেশেও যে একদিন অনুরূপ কোন অঘটন ঘটবেনা, তা শুধু মূর্খ আর পাগলই মনে করতে পারে, কোন সচেতন মুসলমানই এ ব্যাপারে একবিন্দু গাফিলতিতে পড়ে থাকতে পারেনা। কিন্তু দেশের কর্তাদের নিকট বোধহয় এ ব্যাপারটির কোনই গুরুত্ব নেই। তাঁরা বোধহয় দেশের ক্ষতি হতে দিতে রাজী, কিন্তু রাজী নয় পাশ্চাত্য প্রভূদের বিরাগভাজন হতে। তাই মিশনারীদের অবাধে তৎপরতা চালানোর সুযোগই শুধু দেয়া হয়নি, জমি জায়গা, দালান-প্রসাদ এবং বিপুল অর্থও উদার হস্তে দেয়া হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানকে। এসব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পদ পদে ইসলামকে অপমান করা হচ্ছে, ঈমান আকীদার প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হচ্ছে এবং ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত খৃস্টানী আকীদা-বিশ্বাস মুসলমান ছেলেমেয়েদের মন-মগজে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখানে ইসলামী আচার-আচরণ ও সভ্যতা-সংস্কৃতি আদৌ বরদাশত করা হয়না। এক কথায় মুসলিম বংশধরদের এখানে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। অথচ কর্তাদের চোখে এর মারাত্মক কুফল আদৌ ধরা পড়ছেনা। বোধহয় চূড়ান্ত ধ্বংসের আগে এদের নাকে ও কানে পানি ঢুকবেনা। তাই এ ব্যাপারে দেশের মুসলিম জনগণের কর্তব্য হচ্ছে তাদের করণীয় নির্ধারণ করা। অন্যথায় এ জাতির ভবিষ্যত অন্ধকার ছাড়া আর কিছু নয়। [সম্প্রতি এর সাথে নতুন উপসর্গ হিসেবে যুক্ত হয়েছে উপ–আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তারের নামে পাশ্চাত্য মদদপুষ্ট কিছু কিছু এনজিও’র স্বাধীন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে শিক্ষা বিস্তার বলতে তেমন কিছুই হচ্ছেনা। তবে গ্রামের কোমলমতি ছেলেমেয়েদেরকে ইসলাম বিমুখ করার একটা সচেতন প্রয়াস এতে সুস্পষ্টতই লক্ষ্যনীয়।– সম্পাদক]