১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
মানব–মনের মৌলিক জিজ্ঞাসা
কিন্তু মানুষ প্রথমত জীব হলেও মানুষ ও জীবন মূলত এক ও অভিন্ন নয়। বস্তুগত দিক দিয়ে এক হলেও মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্নতর সৃষ্টি-সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র সত্তা। মানুষের ক্ষেত্রে যে প্রশ্ন প্রকট, জীব-জন্তুর ক্ষেত্রে সেসব প্রশ্ন শুধু অবান্তরই নয়, হাস্যকরও বটে।
মানুষের মনে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই তিনটি মৌলিক প্রশ্ন জেগে ওঠে। প্রথম প্রশ্নঃ আমি যে বিশাল বিশ্বলোকে জন্ম নিয়েছি ও বেঁচে আছি, এর স্রষ্টা কে? কি উদ্দেশ্যে তিনি এই বিশ্বলোক ও এর মধ্যকার এই অসংখ্য জীব-জন্তু ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন? কেননা উদ্দেশ্যহীন কোন কাজই সম্পন্ন হতে পারে না। মহান স্রষ্টার এই মহতী সৃষ্টিকর্ম কোনরূপ উদ্দেশ্য ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, একথা কল্পনাও করা অসম্ভব।
মানব মনের দ্বিতীয় পশ্নঃ এই বিশ্বলোকে আমার ‘অবস্থানটা’ কি? আমি নিজের ইচ্ছা বা চেষ্টায় এখানে জন্মাইনি। স্রষ্টাই নিজ ইচ্ছা ও শক্তিকে আমাকে এখানে সৃষ্টি করেছেন? স্রষ্টার সাথে আমার সম্পর্ক কি? তাঁর প্রতি আমার কর্তব্য কি? পৃথিবীতে আমারই মতো আরও যে অসংখ্য মানুষ বাস করছে, তাদের সঙ্গেই বা আমার সম্পর্ক কি? তাদের প্রতি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি? প্রতিনিয়ত-প্রতিমুহূর্ত অসংখ্য বস্তু-সামগ্রীকে আমি আমার প্রয়োজন পূরণে ব্যবহার করছি; কিন্তু কি মনোভাব নিয়ে, কি পন্থা ও পদ্ধতিতে এবং কি উদ্দেশ্যে আমি এসব ব্যবহার করব? এই দুনিয়ায় সুষ্ঠু জীবন যাপনের জন্যে আমার প্রয়োজন একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানের। সেই জীবন বিধান আমাকে কে দেবে? তা কি আমি নিজেই রচনা করব, না দুনিয়ার অন্য কোন মানুষ তা আমাকে রচনা করে দিবে? না দিবেন সেই মহান স্রষ্টা, যিনি নিজ ইচ্ছা ও অনুগ্রহে আমাকে এখানে জীবন যাপন করার ও এইসব দ্রব্য-সামগ্রী ভোগ-ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন?
আর তৃতীয় প্রশ্ন হল, মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি কি? মানুষ মরে গেলেই কি তার জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়, না তার পরও জীবনের কোন পর্যায় রয়েছে? থাকলে সেই পর্যায়ে আমার মঙ্গল-অমঙ্গলের সাথে আমার এই জীবনের কি সম্পর্ক?
এ তিন-তিনটি প্রশ্নই অত্যন্ত মৌলিক। এ প্রশ্নত্রয়ের সুস্পষ্ট জবাবের ওপরই এ দুনিয়ায় মানুষের সুষ্ঠু এই জীবন নির্ভরশীল। এগুলোর জবাব ছাড়া মানুষের জীবন সম্পর্কে কোনরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। ইতিবাচক হোক কি নেতিবাচক, অস্পষ্ট হোক কি সুস্পষ্ট, সর্বপ্রথম এই প্রশ্নগুলোর জবাব ঠিক করেই সম্মুখে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে। আর সত্যি কথা হচ্ছে, এ প্রশ্নগুলোর নির্ভুল জবাব দিতে পারে একমাত্র ধর্মই। অতএব শিক্ষার ব্যাপারে ধর্মের ভূমিকা আছে শুধু তা-ই নয়, ধর্মকে বাদ দিয়ে কোন যথার্থ শিক্ষার কল্পনাই করা যেতে পারেনা।
বস্তুবাদ মানব-মনের উপরোক্ত তিনটি মৌলিক প্রশ্নের কোনটিরই সঠিক ও নির্ভুল জবাব দিতে পারেনি। তবে প্রশ্নত্রয়ের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রশ্ন নিয়েই সে মাথা ঘামিয়েছে এবং অন্য দুটি প্রশ্নকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। দ্বিতীয় প্রশ্নটির জবাবে বস্তুবাদ মানুষের মন-মগজ তৈরী করতে চেয়েছে আল্লাহকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে। উপস্থিত যা যে রকম রয়েছে, তারই মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে মানুষের মানস-প্রবণতাকে এবং একান্তভাবে নির্ভর করেছে মানুষের নিজস্ব বিবেক-বুদ্ধি চিন্তাশক্তির ওপর। মানুষ এই দুনিয়ায় আছে এবং দুনিয়ার এসব দ্রব্য-সামগ্রী, শক্তি-সামর্থ্য ও উপকরণাদি ব্যবহার করতে পারছে, বস্তুবাদী দৃষ্টিতে এটাই যথেষ্ট। কিন্তু সে নিজে কোত্থেকে, কিভাবে, কার অনুগ্রহে এবং কেন এই দুনিয়ায় এসেছে, দুনিয়ার বস্তুসমূহ ভোগ-ব্যবহার করার এই সুযোগ কে দিয়েছে, কেন দিয়েছে আর এর চূড়ান্ত লক্ষ্যই বা কি? বস্তুবাদ এসব প্রশ্ন সম্পর্কে মানুষকে সম্পূর্ণ অজ্ঞতার মধ্যে রাখতে চেয়েছে। এসব বিষয়ে নির্ভুল ধারণা দেয়ার কোন প্রয়োজনীয়তাই সে বোধ করেনি। ফলে এই শিক্ষাকে ‘শিক্ষা’ না বলে চরম মূর্খতা বলাই সমীচীন।
মানুষের মনে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই তিনটি মৌলিক প্রশ্ন জেগে ওঠে। প্রথম প্রশ্নঃ আমি যে বিশাল বিশ্বলোকে জন্ম নিয়েছি ও বেঁচে আছি, এর স্রষ্টা কে? কি উদ্দেশ্যে তিনি এই বিশ্বলোক ও এর মধ্যকার এই অসংখ্য জীব-জন্তু ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন? কেননা উদ্দেশ্যহীন কোন কাজই সম্পন্ন হতে পারে না। মহান স্রষ্টার এই মহতী সৃষ্টিকর্ম কোনরূপ উদ্দেশ্য ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, একথা কল্পনাও করা অসম্ভব।
মানব মনের দ্বিতীয় পশ্নঃ এই বিশ্বলোকে আমার ‘অবস্থানটা’ কি? আমি নিজের ইচ্ছা বা চেষ্টায় এখানে জন্মাইনি। স্রষ্টাই নিজ ইচ্ছা ও শক্তিকে আমাকে এখানে সৃষ্টি করেছেন? স্রষ্টার সাথে আমার সম্পর্ক কি? তাঁর প্রতি আমার কর্তব্য কি? পৃথিবীতে আমারই মতো আরও যে অসংখ্য মানুষ বাস করছে, তাদের সঙ্গেই বা আমার সম্পর্ক কি? তাদের প্রতি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য কি? প্রতিনিয়ত-প্রতিমুহূর্ত অসংখ্য বস্তু-সামগ্রীকে আমি আমার প্রয়োজন পূরণে ব্যবহার করছি; কিন্তু কি মনোভাব নিয়ে, কি পন্থা ও পদ্ধতিতে এবং কি উদ্দেশ্যে আমি এসব ব্যবহার করব? এই দুনিয়ায় সুষ্ঠু জীবন যাপনের জন্যে আমার প্রয়োজন একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানের। সেই জীবন বিধান আমাকে কে দেবে? তা কি আমি নিজেই রচনা করব, না দুনিয়ার অন্য কোন মানুষ তা আমাকে রচনা করে দিবে? না দিবেন সেই মহান স্রষ্টা, যিনি নিজ ইচ্ছা ও অনুগ্রহে আমাকে এখানে জীবন যাপন করার ও এইসব দ্রব্য-সামগ্রী ভোগ-ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন?
আর তৃতীয় প্রশ্ন হল, মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি কি? মানুষ মরে গেলেই কি তার জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়, না তার পরও জীবনের কোন পর্যায় রয়েছে? থাকলে সেই পর্যায়ে আমার মঙ্গল-অমঙ্গলের সাথে আমার এই জীবনের কি সম্পর্ক?
এ তিন-তিনটি প্রশ্নই অত্যন্ত মৌলিক। এ প্রশ্নত্রয়ের সুস্পষ্ট জবাবের ওপরই এ দুনিয়ায় মানুষের সুষ্ঠু এই জীবন নির্ভরশীল। এগুলোর জবাব ছাড়া মানুষের জীবন সম্পর্কে কোনরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। ইতিবাচক হোক কি নেতিবাচক, অস্পষ্ট হোক কি সুস্পষ্ট, সর্বপ্রথম এই প্রশ্নগুলোর জবাব ঠিক করেই সম্মুখে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে। আর সত্যি কথা হচ্ছে, এ প্রশ্নগুলোর নির্ভুল জবাব দিতে পারে একমাত্র ধর্মই। অতএব শিক্ষার ব্যাপারে ধর্মের ভূমিকা আছে শুধু তা-ই নয়, ধর্মকে বাদ দিয়ে কোন যথার্থ শিক্ষার কল্পনাই করা যেতে পারেনা।
বস্তুবাদ মানব-মনের উপরোক্ত তিনটি মৌলিক প্রশ্নের কোনটিরই সঠিক ও নির্ভুল জবাব দিতে পারেনি। তবে প্রশ্নত্রয়ের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রশ্ন নিয়েই সে মাথা ঘামিয়েছে এবং অন্য দুটি প্রশ্নকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। দ্বিতীয় প্রশ্নটির জবাবে বস্তুবাদ মানুষের মন-মগজ তৈরী করতে চেয়েছে আল্লাহকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে। উপস্থিত যা যে রকম রয়েছে, তারই মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে মানুষের মানস-প্রবণতাকে এবং একান্তভাবে নির্ভর করেছে মানুষের নিজস্ব বিবেক-বুদ্ধি চিন্তাশক্তির ওপর। মানুষ এই দুনিয়ায় আছে এবং দুনিয়ার এসব দ্রব্য-সামগ্রী, শক্তি-সামর্থ্য ও উপকরণাদি ব্যবহার করতে পারছে, বস্তুবাদী দৃষ্টিতে এটাই যথেষ্ট। কিন্তু সে নিজে কোত্থেকে, কিভাবে, কার অনুগ্রহে এবং কেন এই দুনিয়ায় এসেছে, দুনিয়ার বস্তুসমূহ ভোগ-ব্যবহার করার এই সুযোগ কে দিয়েছে, কেন দিয়েছে আর এর চূড়ান্ত লক্ষ্যই বা কি? বস্তুবাদ এসব প্রশ্ন সম্পর্কে মানুষকে সম্পূর্ণ অজ্ঞতার মধ্যে রাখতে চেয়েছে। এসব বিষয়ে নির্ভুল ধারণা দেয়ার কোন প্রয়োজনীয়তাই সে বোধ করেনি। ফলে এই শিক্ষাকে ‘শিক্ষা’ না বলে চরম মূর্খতা বলাই সমীচীন।