hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৮

অনুকম্পা ও পরামর্শ গ্রহণ

এই পর্যায়ে কুরআন মজীদের দুটি আয়াত উল্লেখ্যঃ

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

‘‘(হে নবী!) এটা আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহের বিষয় যে, তুমি এই সব লোকের জন্যে খুবই নম্র স্বভাবের লোক হয়েছে। অন্যথায় তুমি যদি উগ্র স্বভাব ও পাষাণ হৃদয়ের অধিকারী হতে, তবে এরা তোমার চতুর্দিক হতে দূরে সরে যেত। অতএব এদের অপরাধ মাফ করে দাও, এদের মাগফিরাতের জন্যে দো’আ কর এবং দ্বীন-ইসলামের কাজ-কর্মে এদের সাথে পরামর্শ কর। অবশ্য কোন বিষয়ে তোমার মত যদি সুদৃঢ় হয়ে যায়, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা কর। বস্তুত আল্লাহ তাদের ভালবাসেন, যারা তাঁর ওপর ভরসা করে কাজ করে।’’ (সূরা আলে–ইমরানঃ ১৫৯)

وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ – وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ – وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

‘‘আর যা কিছু আল্লাহর নিকট রয়েছে তা যেমন উত্তম ও উৎকৃষ্ট, তেমনি চিরস্থায়ীও আর তা সেই লোকদের জন্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের রব্ব-এর ওপর নির্ভরতা রাখে, যারা বড় বড় গুনাহ ও নির্লজ্জ কাজকর্ম হতে বিরত থাকে। আর ক্রোধের সঞ্চার হলে ক্ষমা করে দেয়, যারা নিজেদের রব্ব-এর হুকুম মানে, নামায কায়েম করে এবং নিজেদের যাবতীয় সামষ্টিক ব্যাপার পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করে, আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’’ (সূরা শূরাঃ ৩৬–৩৮)

ইসলামী শিক্ষার পাঠ্যতালিকায় অবশ্যই এমন বিষয়াদি শামিল থাকতে হবে যা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অনুকম্পাশীল ও দয়ার্দ্রহৃদয় বানাবে এবং অভ্যস্ত বানামে সাথীদের থেকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণে। নিজের মতকে অন্য লোকের উপর চাপিয়ে দেয়ার বা অন্য সবকে নিজের মতের অন্ধ অনুসারী বানানোর প্রবণতা কখনো লালন করবেনা।

একজন শিক্ষিত মুসলিম পারিবারিক জীবনে পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি শুভ আচরণ ও প্রত্যেকের হক আদায়ে আন্তরিকভাবে প্রয়াসী হয়ে গড়ে উঠবে। এ পর্যায়ে আল্লাহর ঘোষণাঃ

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا – وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا –

‘‘তোমার রব্ব ফায়সালা করে দিয়েছেন (এক) তোমরা কারও ইবাদত করবে না-কেবল তাঁরই ইবাদত করবে। (দুই) পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করবে। তোমাদের নিকট যদি তাদের কোন একজন কিংবা উভয়ই বৃদ্ধাবস্থায় থাকে, তবে তুমি তাদেরকে ‘উহ!’ পর্যন্ত বলবে না, তাদেরকে ভর্ৎসনা করবে না; বরং তাদের সাথে বিশেষ মর্যাদা সহকারে কথা বলবে।’’ (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ২৩–২৪)

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً

‘‘তাঁর নিদর্শনাদির মধ্যে এও (একটি) যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদেরই জাতির মধ্যে থেকে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের নিকট পরম প্রশান্তি লাভ করতে পার।’’ (সূরা রূমঃ ২১)

সমাজের অসহায়, অভাবগ্রস্ত ও বিপন্ন লোকদের প্রতি সে নিজেকে দায়িত্বশীল মনে করবেঃ

وَآتِ ذَا الْقُرْبَىٰ حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا – إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا

‘‘নিকটাত্মীয়কে তার অধিকার দাও আর মিসকীন ও সম্বলহীন পথিককে তার অধিকার। তোমরা অপব্যয়-অপচয় করিও না। নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী লোকেরা শয়তানের ভাই আর শয়তার তার রব্ব-এর প্রতি অকৃতজ্ঞ।’’ (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ২৬–২৭)