১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭
বিশ্ব–মুসলিমের বর্তমান অবস্থা
পূর্বেই বলেছি, বর্তমান দুনিয়ার মুসলমান দ্বীন-ইসলাম-ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাদের বিপূল অংশ নিছক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও আনুষ্ঠানিক ধর্মশিক্ষা লাভ করছে বটে, কিন্তু জীবনের সামগ্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। তারা জানতে পারছেনা ইসলামের সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অর্থনীতির মূল সূত্রগুলো। দ্বীন-ইসলাম আধুনিক জীবন-জিজ্ঞাসা ও জীবন-সমস্যার কি সমাধান দেয় ও কিভাবে সমাধান করতে চায়, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ ও মূর্খ থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে যে সব দেশ বৃটেন, ফ্রান্স বা এই ধরণের কোন খৃস্টান সাম্রাজ্যবাদী শক্তির গোলামী থেকে মুক্তিলাভ করে সম্প্রতি স্বাধীন হয়েছে, সে সব দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও গোলামদের উপযোগী রয়ে গেছে, যেমন ছিল তাদের গোলামী যুগে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সে সব দেশে সম্পূর্ণ গায়র-ইসলামী শিক্ষা চালু করেছিল। সে শিক্ষা মানুষকে হয় খৃস্টান বানিয়েছে, না হয় ইসলামের প্রতি অবিশ্বাসী ও নৈতিক চেতনাহীন বানিয়েছে। এখনও তা-ই চলছে।
অপরদিকে বহু মুসলিমে দেশ ও জাতি এই আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষাকেও সম্পূর্ণ পরিহার করেছে এবং তারা ইউরোপের নাস্তিক্যবাদী ও ধর্মবিবর্জিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্বিত চর্বন করছে। এভাবে তারা ক্রমান্বয়ে হয়ে উঠছে অবিশ্বাসী ধর্মত্যাগী ও নৈতিক চরিত্রহীন। এহেন নৈতিকতা-বিবর্জিত বহু মুসলিম দেশ ইউরোপীয় পদ্ধতিতে দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার অপচয় করতে বাধ্য হচ্ছে এই কারণে যে, যেসব দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ওপর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব অর্পিত, চরিত্রহীন ও দুর্নীতিপরায়ন বলে তারাই বরাদ্দকৃত অর্থের শতকরা ৮০ ভাগই আত্মসাত করছে। এর ফলে শুধু যে উন্নয়ন প্রকল্পই ব্যর্থ হচ্ছে তা-ই নয় গোটা জাতিই দুর্নীতির গভীর পংকে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় সংস্কৃতির নির্বিচার অনুসরণ করতে গিয়ে তারা নিজেদের ধর্মশিক্ষা বিবর্জিত প্রতিষ্ঠানসমূহে যুবক-যুবতীদের জন্যে সহশিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে এবং তার ফলে এসব দেশের ভবিষ্যত বংশধররা চরম নৈতিক কদর্যতায় লিপ্ত হয়ে চরিত্রহীনতার ব্যাপক প্রসার ঘটাচ্ছে। অথচ এই সাধারণ বোধটুকুও তাদের হচ্ছে না যে, বিদ্যুৎবাহী তার বাল্বের সংযোগস্থলের বাইরে কোন এক স্থানে আবরণমুক্ত হলে ঘরকে আলোকোজ্জ্বল করার পরিবর্তে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেবে ও সবকিছু ভষ্ম করে ফেলবে। এটা যেমন বিজ্ঞানসম্মত কথা, তেমনি এ-ও অকাট্য যুক্তির কথা যে, বিবাহিত জীবনের বাইরে নারী-পুরুষ বা যুবক-যুবতীর অবাধ মিলনের সুযোগ থাকলে তা গোটা সমাজ ও জাতিকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তা ছাড়া এসব দেশে ছেলে ও মেয়েদের একই রকমের শিক্ষা দেয় হচ্ছে। ফলে নারী ও পুরুষ তাদের প্রকৃতিগত পার্থক্যের কথা ভুলে যাচ্ছে। মেয়েরা সেখানে পুরুষালী স্বভাব-চরিত্রের ধারক হয়ে নারীসুলভ কোমলতা হারাচ্ছে। [অধুনা কলেজ–ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে অনেক ছাত্রীকেই ছেলেদের মতো জীনসের প্যান্ট–শার্ট পরে এবং মাথার চুল ছোট করে কেটে যত্র–তত্র ঘুরাফিরা করতে দেখা যায়। এ থেকেই সহশিক্ষার পরিণতিটা সহজে উপলব্ধি করা যায়। অথচ রাসূলে করীম (ﷺ) এ ধরণের অনুকরণকে তীব্রভাষায় নিন্দা করেছেন।– সম্পাদক] এর ফলে পারিবারিক জীবনে চরম ভাঙন ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ নারী ও পুরুষ জন্মগতভাবেই ভিন্ন ধরণের প্রকৃতি ও যোগ্যতা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী হয়ে জন্মলাভ করে। কিন্তু তাদেরকে সেই স্বভাবগত কাজের উপযুক্ত বানাবার মতো শিক্ষা দেয়া হয়না। ফলে একই ধরণের কর্মক্ষেত্রে তথা অফিস-কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষকে একত্রে নিযুক্ত করে নৈতিক চরিত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, যার ফলে এসব দেশের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বহু সংখ্যক মুসলিম দেশেই আজ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় অত্যন্ত প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অপরদিকে বহু মুসলিমে দেশ ও জাতি এই আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় শিক্ষাকেও সম্পূর্ণ পরিহার করেছে এবং তারা ইউরোপের নাস্তিক্যবাদী ও ধর্মবিবর্জিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্বিত চর্বন করছে। এভাবে তারা ক্রমান্বয়ে হয়ে উঠছে অবিশ্বাসী ধর্মত্যাগী ও নৈতিক চরিত্রহীন। এহেন নৈতিকতা-বিবর্জিত বহু মুসলিম দেশ ইউরোপীয় পদ্ধতিতে দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার অপচয় করতে বাধ্য হচ্ছে এই কারণে যে, যেসব দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ওপর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব অর্পিত, চরিত্রহীন ও দুর্নীতিপরায়ন বলে তারাই বরাদ্দকৃত অর্থের শতকরা ৮০ ভাগই আত্মসাত করছে। এর ফলে শুধু যে উন্নয়ন প্রকল্পই ব্যর্থ হচ্ছে তা-ই নয় গোটা জাতিই দুর্নীতির গভীর পংকে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় সংস্কৃতির নির্বিচার অনুসরণ করতে গিয়ে তারা নিজেদের ধর্মশিক্ষা বিবর্জিত প্রতিষ্ঠানসমূহে যুবক-যুবতীদের জন্যে সহশিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে এবং তার ফলে এসব দেশের ভবিষ্যত বংশধররা চরম নৈতিক কদর্যতায় লিপ্ত হয়ে চরিত্রহীনতার ব্যাপক প্রসার ঘটাচ্ছে। অথচ এই সাধারণ বোধটুকুও তাদের হচ্ছে না যে, বিদ্যুৎবাহী তার বাল্বের সংযোগস্থলের বাইরে কোন এক স্থানে আবরণমুক্ত হলে ঘরকে আলোকোজ্জ্বল করার পরিবর্তে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেবে ও সবকিছু ভষ্ম করে ফেলবে। এটা যেমন বিজ্ঞানসম্মত কথা, তেমনি এ-ও অকাট্য যুক্তির কথা যে, বিবাহিত জীবনের বাইরে নারী-পুরুষ বা যুবক-যুবতীর অবাধ মিলনের সুযোগ থাকলে তা গোটা সমাজ ও জাতিকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তা ছাড়া এসব দেশে ছেলে ও মেয়েদের একই রকমের শিক্ষা দেয় হচ্ছে। ফলে নারী ও পুরুষ তাদের প্রকৃতিগত পার্থক্যের কথা ভুলে যাচ্ছে। মেয়েরা সেখানে পুরুষালী স্বভাব-চরিত্রের ধারক হয়ে নারীসুলভ কোমলতা হারাচ্ছে। [অধুনা কলেজ–ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে অনেক ছাত্রীকেই ছেলেদের মতো জীনসের প্যান্ট–শার্ট পরে এবং মাথার চুল ছোট করে কেটে যত্র–তত্র ঘুরাফিরা করতে দেখা যায়। এ থেকেই সহশিক্ষার পরিণতিটা সহজে উপলব্ধি করা যায়। অথচ রাসূলে করীম (ﷺ) এ ধরণের অনুকরণকে তীব্রভাষায় নিন্দা করেছেন।– সম্পাদক] এর ফলে পারিবারিক জীবনে চরম ভাঙন ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ নারী ও পুরুষ জন্মগতভাবেই ভিন্ন ধরণের প্রকৃতি ও যোগ্যতা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী হয়ে জন্মলাভ করে। কিন্তু তাদেরকে সেই স্বভাবগত কাজের উপযুক্ত বানাবার মতো শিক্ষা দেয়া হয়না। ফলে একই ধরণের কর্মক্ষেত্রে তথা অফিস-কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষকে একত্রে নিযুক্ত করে নৈতিক চরিত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, যার ফলে এসব দেশের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বহু সংখ্যক মুসলিম দেশেই আজ নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় অত্যন্ত প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।