hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১

ইসলামের শিক্ষা–দর্শন

১৯৫১ সালের নভেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা মিঃ ঊড্ (Mr. Wood) বিশ্ব-পর্যটন ব্যপদেশে পাকিস্তানের তৎকালীন রাজধানী করাচী আগমণ করেন। এ সময় তিনি নগরীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শিক্ষা’ (Education) বিষয়ে একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। বক্তৃতা শেষে তাঁর নিকট প্রশ্ন করা হয়ঃ ইংল্যান্ডের সামনে শিক্ষার উদ্দেশ্য কি? এবং আপনার দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ ও সফল জীবনের ধারণা (Conception) ও লক্ষ্য কি, যা সামনে রেখে ও যা অর্জনের উদ্দেশ্যে আপনি বর্তমান বংশধরদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন?

এর জবাবে সুযোগ্য বক্তা প্রথমে তো নিজ জাতির বৈষয়িক ও বস্তুগত উন্নতি সম্পর্কিত ধারণা ব্যাখ্যা করলেন। পরে তিনি বললেনঃ ‘আমাদের দেশের কোন কোন শিক্ষাবিদ এই মত পোষণ করেন যে, বালক-বালিকাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণে কোন বিশেষ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের প্রাধান্য থাকা উচিত নয়; বরং তাদেরকে অবাধে ও পূর্ণ স্বাধীনতা সহকারে লালন-পালন ও ক্রমবিকাশ লাভের সুযোগ দেয়া উচিত। বস্তুত তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় কথায় কোন মৌলিক তারতম্য নেই। কেননা, বাচ্চাদের সবচাইতে বড় শিক্ষক হচ্ছে তাদের পরিবেশ, যা সব সময়ই তাদের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য হয়ে থাকে।

কেবল মিঃ উড্ (কাষ্ঠ)-এর কথাই নয়, অন্য কোন দেশের Iron (লৌহ) কিংবা Steel (ইস্পাত)-ও যদি হতো, তবু তাদের কাছ থেকেও এই একই ধরণের জবাবই পাওয়া যেত। ইউরোপ, আমেরিকা, জাতিসংঘ প্রভৃতি দেশ ও সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা-বিশেষজ্ঞদের রচিত গ্রন্থাবলী এবং সে সব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাসমূহ এই মতের বহু সংখ্যক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে। আর এসব শিক্ষাব্যবস্থার অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূলগত দিক দিয়ে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। কতিপয় প্রাথমিক সূত্র (Formula) ও মৌলিকনীতি (Fundamental Principles)-ই পাশ্চাত্য দেশসমূহের শিক্ষাব্যবস্থার সাধারণ ভিত্তি (Common basis)। পাশ্চাত্য দেশসমূহের শিক্ষা সংক্রান্ত এসব প্রথমিক সূত্র ও মৌলিকনীতির পর্যালোচনা ও যাচাই করার পূর্বে নীতিগতভাবে একটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্নিহিত মহাসত্য এবং শিক্ষার মূলনীতি ও মতাদর্শের বাস্তব রূপায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা দরকার।