১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
সমস্যার সমাধান
এ দীর্ঘ আলোচনায় এদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান মাত্র কয়েকটি বড় বড় সমস্যার শুধু উল্লেখ এবং সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ পেশ করা হয়েছে। রচনার কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় প্রতিটি বিষয়েরই বিস্তারিত আলোচনা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। এসব সমস্যার বিস্তৃত সমাধানও পেশ করা যায়নি। তা পেশ করতে হলে এর আলোচনা আরো দীর্ঘ হবে। সে কারণে সমাধান পর্যায়ে অতি সংক্ষেপে আমার বক্তব্য পেশ করে এ আলোচনার ইতি টানতে চাই।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব সমস্যার কথা এখানে বলা হয়, সেগুলোর একমাত্র সমাধান এই যে, বর্তমান শিক্ষা-ব্যবস্থাকে ইসলামী জীবন-দর্শন ও শিক্ষাদর্শনের ভিত্তিতে নতুন করে ঢেলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও এককেন্দ্রিক শিক্ষা-ব্যবস্থা তৈরী করতে হবে, যেখানে ইসলামী আদর্শবাদের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সকল প্রয়োজনীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। সেখান থেকে তৈরী হবে যেমন দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে গভীর ও ব্যাপক জ্ঞানসম্পন্ন পারদর্শী ব্যক্তিগণ, তেমনি বের হবে ইসলামী আদর্শবাদী ও দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার, শিক্ষাবিদ, রসায়নবিদ, ভূগোলবিদ, খগোলবিদ, মনস্তত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, রাষ্ট্রনীতিবিদ, বিচারপতি, আইনবিদ, আদর্শ শাসক, চরিত্রবান প্রশাসক, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আর তা-ই হবে দেশের জাতীয় শিক্ষা। এই একই ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে উঠবে এক অখণ্ড ইসলামী জাতি। বর্তমানে দেশে মৌলিকভাবে দুই ধরনের শিক্ষা-ব্যবস্থা চালু রয়েছেঃ একটি হচ্ছে দ্বীনী শিক্ষা আর অপরটি বৈষয়িক শিক্ষা। ফলে সমাজে দু ধরণের লোক তৈরী হচ্ছেঃ এক শ্রেণীকে বলা হয় ‘মোল্লা’- যারা হয়তবা শরী’আতী বিদ্যা মোটামুটি জানে; কিন্তু জানেনা বৈষয়িক কোন জ্ঞান। আধুনিক চিন্তা-মতবাদের সাথে তাদের নেই কোন পরিচয়। তারা বুঝেনা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমস্যাবলী ও সেগুলোর সমাধান। দুনিয়ার কোন খবরই রাখেনা তারা, অথচ নিজেদের তারা মনে করে ধর্মবিদ, ধার্মিক এবং অন্যদের মনে করে দুনিয়াদার-ফাসিক। আর দ্বিতীয় শ্রেণীটি হচ্ছে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী। তারা দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেনা। ফলে দ্বীন ও ধর্মের প্রতি তাদের মনে থাকে অজ্ঞতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ। ফলে সাধারণভাবেই তারা ইসলামী আদর্শবাদী জীবন যাপনে হয় অক্ষম। একটা জাতির শিক্ষিত জনগণের এরূপ দুই বিপরীত ভাবধারায় গড়ে ওঠা জাতির ঐক্যের পক্ষে অত্যন্ত মারাত্মক। বর্তমানে আমাদের এ-ও একটি অতি বড় সমস্যা। এর আশু সমাধান একান্ত জরুরী আর এ সমস্যার সঠিক সমাধান হচ্ছে, বর্তমান শিক্ষার পরিবর্তে এ যুগে ইসলামী জীবন, ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়বার উপযোগী এক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন ও তার প্রবর্তন। কিন্তু এ কাজ বড়োই দুরূহ- বড়োই কষ্টসাধ্য এ কাজ যার-তার দ্বারা সম্ভব হবে না। এরূপ শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী ও চালু করার জন্যে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সর্বপ্রথম প্রয়োজন।
এরূপ শিক্ষা কেবলমাত্র মাতৃভাষার মাধ্যমেই ফলপ্রদ হতে পারে; তাহলেই সুফল পাওয়া সম্ভব হবে। এ শিক্ষাব্যবস্থায় মূলগতভাবে একটা নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েকে একই মৌলিক শিক্ষা দেয়া হলেও তাদের পরবর্তী দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরপ্রেক্ষিতে নিশ্চয়ই প্রত্যেকের জন্যে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র শিক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাতে সহশিক্ষার কোন ধারণা পর্যন্ত থাকবেনা। সেখানে শিক্ষার বিষয়বস্তু যেমন ছেলে ও মেয়েদের জন্যে আলাদা আলাদা হবে, তেমনি আলাদা হবে শিক্ষার পরিবেশ, টেকনিক ও পদ্ধতি। আলাদা হবে শিক্ষক ও শিক্ষায়তন। এ শিক্ষা যাতে করে সমাজের সব পুরুষ ও নারী সহজেই পেতে পারে, তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের। সমাজের কেউই মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না- কোন কারণেই না। গরীব ও ধনীর মাঝে এক্ষেত্রে কোন পার্থক্যই হতে দেয়া চলবেনা। সর্বোপরি, এ রাষ্ট্রের কোন অংশেই এ আদর্শ শিক্ষার বিপরীত কোন শিক্ষাই চালু থাকতে পারবে না। খৃস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু প্রভৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্যে তাদের নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি অনুযায়ী শিক্ষা লাভের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকবে বটে; কিন্তু থাকবেনা মুসলিম ছেলেমেয়েদের হিন্দু, খৃস্টান, বৌদ্ধ ও কমিউনিস্ট বা ধর্মনিরপেক্ষ বানাবার শিক্ষা দেয়ার কোন সুযোগ। এরূপ করা সম্ভব হলেই শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান যাবতীয় সমস্যার সমাধান হতে পারবে। এ শিক্ষা হবে অত্যন্ত পবিত্র; এরূপ শিক্ষালাভ হবে পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। জ্ঞান-অর্জনের লক্ষ্য হবে আত্মিক উন্নয়ন, কেবল বৈষয়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভের জন্যে কেউ জ্ঞান শিখবেনা, শেখাবার কাজ করবেনা। তাই এখানে যেমন ছাত্র-শিক্ষকের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে অতীব পবিত্র, তেমনি মধুর হবে ছাত্রদের পারস্পরিক সম্পর্কও।
কিন্তু দেশে এরূপ শিক্ষাব্যবস্থা কি করে প্রতিষ্ঠিত এবং কার্যকর হতে পারে? হতে পারে কি ভাবে তা বুঝবার জন্যে আমাদের এবং আপনাদের লক্ষ্য দিতে হবে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান বর্তমান সমস্যাবলীর মূল কারণের দিকে; কেন এ সমস্যার সৃষ্টি হল এবং কেমন করে হল তা বুঝতে হবে সর্বাগ্রে। আমার মতে এ সমস্যা সৃষ্টির মৌলিক কারণ একটিই। মুসলমানদের ওপর ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ, ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী এবং পাশ্চাত্য জীবন-দর্শন ও বস্তুবাদী কৃষ্টি সভ্যতার প্রতি অন্ধ বিশ্বাসী ও অনুগত এক গায়র-ইসলামী নেতৃত্বের চেপে বসাই হল এসব সমস্যার মূল কারণ। এ কারণেই এসব সমস্যার উদ্ভব হয়েছে আর এ কারণ যদ্দিন বর্তমান থাকবে, তদ্দিন শুধু শিক্ষার কেন, কোন সমস্যারই একবিন্দু সমাধান হওয়া আদৌ সম্ভব নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এ সমস্যাগুলোর সমাধান বর্তমান সেকুলার নেতৃত্ব দ্বারা সম্ভব হবে বলে যারা মনে করে, আমার মতে তারা ‘আহাম্মকের স্বর্গে’ বাস করে। আমি বলবো, আমার দৃষ্টিতে দেশের সর্বপ্রকার সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে সেদিন, যেদিন বর্তমান ফাসিক নেতৃত্বের অবসান হবে এবং কায়েম হবে এক ইসলামী আদর্শবাদী যোগ্য নেতৃত্ব। তাই যারাই শিক্ষা-সমস্যা সহ যাবতীয় সমস্যার সমাধান পেতে ইচ্ছুক, তাদের সামনে দেশে ইসলামী নেতৃত্ব কায়েমের জন্যে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। আর সেজন্যে এ দেশের মুসলিম জনগণের মনে ইসলামী শিক্ষার দর্শন এবং তার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বোধ জাগাতে হবে- তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ইসলামী আদর্শবাদ ও ইসলামী আদর্শে গণ-সংগঠনের সক্রিয় অংশ গ্রহণ করতে। এজন্যে কাজ করতে হবে আমাদের- আপনাদের, দেশের সাধারণ মানুষের এবং শিক্ষক ও ছাত্রসহ সব নাগরিকদের। আমি অন্তর দিয়ে কামনা করছি এরূপ এক গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠার।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব সমস্যার কথা এখানে বলা হয়, সেগুলোর একমাত্র সমাধান এই যে, বর্তমান শিক্ষা-ব্যবস্থাকে ইসলামী জীবন-দর্শন ও শিক্ষাদর্শনের ভিত্তিতে নতুন করে ঢেলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও এককেন্দ্রিক শিক্ষা-ব্যবস্থা তৈরী করতে হবে, যেখানে ইসলামী আদর্শবাদের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সকল প্রয়োজনীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। সেখান থেকে তৈরী হবে যেমন দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে গভীর ও ব্যাপক জ্ঞানসম্পন্ন পারদর্শী ব্যক্তিগণ, তেমনি বের হবে ইসলামী আদর্শবাদী ও দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার, শিক্ষাবিদ, রসায়নবিদ, ভূগোলবিদ, খগোলবিদ, মনস্তত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, রাষ্ট্রনীতিবিদ, বিচারপতি, আইনবিদ, আদর্শ শাসক, চরিত্রবান প্রশাসক, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আর তা-ই হবে দেশের জাতীয় শিক্ষা। এই একই ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে উঠবে এক অখণ্ড ইসলামী জাতি। বর্তমানে দেশে মৌলিকভাবে দুই ধরনের শিক্ষা-ব্যবস্থা চালু রয়েছেঃ একটি হচ্ছে দ্বীনী শিক্ষা আর অপরটি বৈষয়িক শিক্ষা। ফলে সমাজে দু ধরণের লোক তৈরী হচ্ছেঃ এক শ্রেণীকে বলা হয় ‘মোল্লা’- যারা হয়তবা শরী’আতী বিদ্যা মোটামুটি জানে; কিন্তু জানেনা বৈষয়িক কোন জ্ঞান। আধুনিক চিন্তা-মতবাদের সাথে তাদের নেই কোন পরিচয়। তারা বুঝেনা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমস্যাবলী ও সেগুলোর সমাধান। দুনিয়ার কোন খবরই রাখেনা তারা, অথচ নিজেদের তারা মনে করে ধর্মবিদ, ধার্মিক এবং অন্যদের মনে করে দুনিয়াদার-ফাসিক। আর দ্বিতীয় শ্রেণীটি হচ্ছে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী। তারা দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেনা। ফলে দ্বীন ও ধর্মের প্রতি তাদের মনে থাকে অজ্ঞতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ। ফলে সাধারণভাবেই তারা ইসলামী আদর্শবাদী জীবন যাপনে হয় অক্ষম। একটা জাতির শিক্ষিত জনগণের এরূপ দুই বিপরীত ভাবধারায় গড়ে ওঠা জাতির ঐক্যের পক্ষে অত্যন্ত মারাত্মক। বর্তমানে আমাদের এ-ও একটি অতি বড় সমস্যা। এর আশু সমাধান একান্ত জরুরী আর এ সমস্যার সঠিক সমাধান হচ্ছে, বর্তমান শিক্ষার পরিবর্তে এ যুগে ইসলামী জীবন, ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়বার উপযোগী এক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন ও তার প্রবর্তন। কিন্তু এ কাজ বড়োই দুরূহ- বড়োই কষ্টসাধ্য এ কাজ যার-তার দ্বারা সম্ভব হবে না। এরূপ শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী ও চালু করার জন্যে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সর্বপ্রথম প্রয়োজন।
এরূপ শিক্ষা কেবলমাত্র মাতৃভাষার মাধ্যমেই ফলপ্রদ হতে পারে; তাহলেই সুফল পাওয়া সম্ভব হবে। এ শিক্ষাব্যবস্থায় মূলগতভাবে একটা নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েকে একই মৌলিক শিক্ষা দেয়া হলেও তাদের পরবর্তী দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরপ্রেক্ষিতে নিশ্চয়ই প্রত্যেকের জন্যে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র শিক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাতে সহশিক্ষার কোন ধারণা পর্যন্ত থাকবেনা। সেখানে শিক্ষার বিষয়বস্তু যেমন ছেলে ও মেয়েদের জন্যে আলাদা আলাদা হবে, তেমনি আলাদা হবে শিক্ষার পরিবেশ, টেকনিক ও পদ্ধতি। আলাদা হবে শিক্ষক ও শিক্ষায়তন। এ শিক্ষা যাতে করে সমাজের সব পুরুষ ও নারী সহজেই পেতে পারে, তার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের। সমাজের কেউই মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না- কোন কারণেই না। গরীব ও ধনীর মাঝে এক্ষেত্রে কোন পার্থক্যই হতে দেয়া চলবেনা। সর্বোপরি, এ রাষ্ট্রের কোন অংশেই এ আদর্শ শিক্ষার বিপরীত কোন শিক্ষাই চালু থাকতে পারবে না। খৃস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু প্রভৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্যে তাদের নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি অনুযায়ী শিক্ষা লাভের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকবে বটে; কিন্তু থাকবেনা মুসলিম ছেলেমেয়েদের হিন্দু, খৃস্টান, বৌদ্ধ ও কমিউনিস্ট বা ধর্মনিরপেক্ষ বানাবার শিক্ষা দেয়ার কোন সুযোগ। এরূপ করা সম্ভব হলেই শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান যাবতীয় সমস্যার সমাধান হতে পারবে। এ শিক্ষা হবে অত্যন্ত পবিত্র; এরূপ শিক্ষালাভ হবে পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। জ্ঞান-অর্জনের লক্ষ্য হবে আত্মিক উন্নয়ন, কেবল বৈষয়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভের জন্যে কেউ জ্ঞান শিখবেনা, শেখাবার কাজ করবেনা। তাই এখানে যেমন ছাত্র-শিক্ষকের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে অতীব পবিত্র, তেমনি মধুর হবে ছাত্রদের পারস্পরিক সম্পর্কও।
কিন্তু দেশে এরূপ শিক্ষাব্যবস্থা কি করে প্রতিষ্ঠিত এবং কার্যকর হতে পারে? হতে পারে কি ভাবে তা বুঝবার জন্যে আমাদের এবং আপনাদের লক্ষ্য দিতে হবে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাজমান বর্তমান সমস্যাবলীর মূল কারণের দিকে; কেন এ সমস্যার সৃষ্টি হল এবং কেমন করে হল তা বুঝতে হবে সর্বাগ্রে। আমার মতে এ সমস্যা সৃষ্টির মৌলিক কারণ একটিই। মুসলমানদের ওপর ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ, ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী এবং পাশ্চাত্য জীবন-দর্শন ও বস্তুবাদী কৃষ্টি সভ্যতার প্রতি অন্ধ বিশ্বাসী ও অনুগত এক গায়র-ইসলামী নেতৃত্বের চেপে বসাই হল এসব সমস্যার মূল কারণ। এ কারণেই এসব সমস্যার উদ্ভব হয়েছে আর এ কারণ যদ্দিন বর্তমান থাকবে, তদ্দিন শুধু শিক্ষার কেন, কোন সমস্যারই একবিন্দু সমাধান হওয়া আদৌ সম্ভব নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এ সমস্যাগুলোর সমাধান বর্তমান সেকুলার নেতৃত্ব দ্বারা সম্ভব হবে বলে যারা মনে করে, আমার মতে তারা ‘আহাম্মকের স্বর্গে’ বাস করে। আমি বলবো, আমার দৃষ্টিতে দেশের সর্বপ্রকার সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে সেদিন, যেদিন বর্তমান ফাসিক নেতৃত্বের অবসান হবে এবং কায়েম হবে এক ইসলামী আদর্শবাদী যোগ্য নেতৃত্ব। তাই যারাই শিক্ষা-সমস্যা সহ যাবতীয় সমস্যার সমাধান পেতে ইচ্ছুক, তাদের সামনে দেশে ইসলামী নেতৃত্ব কায়েমের জন্যে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। আর সেজন্যে এ দেশের মুসলিম জনগণের মনে ইসলামী শিক্ষার দর্শন এবং তার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বোধ জাগাতে হবে- তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ইসলামী আদর্শবাদ ও ইসলামী আদর্শে গণ-সংগঠনের সক্রিয় অংশ গ্রহণ করতে। এজন্যে কাজ করতে হবে আমাদের- আপনাদের, দেশের সাধারণ মানুষের এবং শিক্ষক ও ছাত্রসহ সব নাগরিকদের। আমি অন্তর দিয়ে কামনা করছি এরূপ এক গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠার।