১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
জীবন–লক্ষ্যের বাস্তবতা ও গুরুত্ব
এক কথায়, মানুষের বাস্তব ভূমিকা এবং তার ইচ্ছামূলক কার্যক্রমের পথ ও পন্থা থেকেই সুনির্দিষ্ট হয় তার জীবন-লক্ষ্য ও জীবনাদর্শ।
বস্তুত শিক্ষা জীবনের জন্যে প্রস্তুতি-বিশেষ- জীবনের প্রস্তুতিরই অপর নাম শিক্ষা। এ বিষয়ে দুনিয়ার সব শিক্ষাবিদই সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু এই জীবনটার উদ্দেশ্য কি, কোন্ কাজে ও তৎপরতায় নিয়োজিত হবে এই জীবনটা? ….এ প্রশ্নের জবাব খুজলে দেখা যাবে যে, জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মতৎপরতা নিয়েই দুনিয়ায় সৃষ্ট হযেছে আকাশ-পাতালের মত বৈষম্য। এই মত-বৈষম্য সত্ত্বেও জীবন-উদ্দেশের অবিচল প্রত্যয় অনুযায়ীই সাধিত হয় মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি ও হৃদয়াবেগের প্রশিক্ষণ এবং চিন্তা-বিশ্বাস ও মতামতের লালন ও বিকাশ। এই হৃদয়াবেগ ও চিন্তা-চেতনা থেকেই বাস্তব কর্মগত ভূমিকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসারিত হয়। এই মানস-প্রকৃতি ও মানস-পরিবেশই মূলত মানুষের সমগ্র চিন্তা-চেতনা ও হৃদয়াবেগের প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু এবং তার সমস্ত কর্মতৎপরতা ও গতিবিধির উৎসমুখ। হাদীস শরীফে এ মর্মস্থলের নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্বল্ব্’ বা হৃদয়-মন। হাদীস অনুযায়ী মানুষের সমস্ত কর্মতৎপরতার যথার্থতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি এরই সুস্থতা ও রুগ্নতার ওপর নির্ভরশীল। হাদীসের ভাষা হলঃ
‘‘জেনে রাখ, মানবদেহে এমন একটা মাংসপিণ্ড বর্তমান, যা সুস্থ হলে সমস্ত দেহ সুস্থ থাকে। আর তা রোগাক্রান্ত হলে সমস্ত দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তা হল হৃদয় বা অন্তর।’’
মানুষের বাস্তব কর্মতৎপরতায় তার মানসিক অবস্থা, অন্তর্গত ভাবধারা ও মৌলিক বিশ্বাস বা প্রত্যয়ের প্রভাব কতটা এবং বাস্তব কর্মের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব কতখানি, মনোবিজ্ঞানীরা তা বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁরা বিষয়টির ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেছেন। কেননা, তা মানবীয় শক্তিসামর্থের পথিকৃৎ শুধু নয়, তা মানুষের শাসক ও নিয়ন্ত্রকও। মানুষ তারই নির্দেশ বাস্তবায়নে ও পরিপূরণে নিজের ধন-সম্পদ ও সর্বাধিক প্রিয় জিনিস নিজের জীবনটাও অকাতরে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠিত হয় না। দুনিয়ার কঠোরতম সমাজ ব্যবস্থায়ও এসব চুম্বক শক্তিই অধিক সক্রিয় হয়ে থাকে। কমিউনিজম কিংবা সমাজতন্ত্র- সকল ক্ষেত্রেই হৃদয় মনে গভীরতর গহনে লুক্কায়িত এসব ভাবধারার হাতেই থাকে সমস্ত কর্তৃত্ব নিবদ্ধ। এগুলোই জাতির প্রকৃত নেতা- তার চালিকাশক্তি। জাতীয় নেতৃত্ব সুপথগামী হলে গোটা জাতিই নির্ভুল পথযাত্রী হবে আর তা যদি ভ্রান্ত পথের পথিক হয়, তাহলে জাতির প্রতিটি মানুষই ভুলপন্থী হবে। বর্তমানে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে, জাতিতে ও গোত্রে বিরাজমান পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত মূলত জাতীয় ও সামষ্টিক জীবনাদর্শের বিভিন্নতারই সংঘাত। এক ব্যক্তি বা একটি দলে দৃঢ়তা ও স্থিতি এ চুম্বক শক্তির ওপরই একান্তভাবে নির্ভরশীল। আর এ শক্তির দুর্বলতা হচ্ছে এক ব্যক্তি, একটি দল ও একটি জাতির ধ্বংসের উৎসমুখ। দীর্ঘকালব্যাপী আদর্শহীন শিক্ষা-দীক্ষা ও পরিবেশের ফলেই মুসলিম জাতির ঈমান ও প্রত্যয়ে দুর্বলতার এ নৈরাশ্যজনক বাস্তবতা দৃশ্যমান।
বস্তুত শিক্ষা জীবনের জন্যে প্রস্তুতি-বিশেষ- জীবনের প্রস্তুতিরই অপর নাম শিক্ষা। এ বিষয়ে দুনিয়ার সব শিক্ষাবিদই সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু এই জীবনটার উদ্দেশ্য কি, কোন্ কাজে ও তৎপরতায় নিয়োজিত হবে এই জীবনটা? ….এ প্রশ্নের জবাব খুজলে দেখা যাবে যে, জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মতৎপরতা নিয়েই দুনিয়ায় সৃষ্ট হযেছে আকাশ-পাতালের মত বৈষম্য। এই মত-বৈষম্য সত্ত্বেও জীবন-উদ্দেশের অবিচল প্রত্যয় অনুযায়ীই সাধিত হয় মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি ও হৃদয়াবেগের প্রশিক্ষণ এবং চিন্তা-বিশ্বাস ও মতামতের লালন ও বিকাশ। এই হৃদয়াবেগ ও চিন্তা-চেতনা থেকেই বাস্তব কর্মগত ভূমিকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসারিত হয়। এই মানস-প্রকৃতি ও মানস-পরিবেশই মূলত মানুষের সমগ্র চিন্তা-চেতনা ও হৃদয়াবেগের প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু এবং তার সমস্ত কর্মতৎপরতা ও গতিবিধির উৎসমুখ। হাদীস শরীফে এ মর্মস্থলের নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্বল্ব্’ বা হৃদয়-মন। হাদীস অনুযায়ী মানুষের সমস্ত কর্মতৎপরতার যথার্থতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি এরই সুস্থতা ও রুগ্নতার ওপর নির্ভরশীল। হাদীসের ভাষা হলঃ
‘‘জেনে রাখ, মানবদেহে এমন একটা মাংসপিণ্ড বর্তমান, যা সুস্থ হলে সমস্ত দেহ সুস্থ থাকে। আর তা রোগাক্রান্ত হলে সমস্ত দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তা হল হৃদয় বা অন্তর।’’
মানুষের বাস্তব কর্মতৎপরতায় তার মানসিক অবস্থা, অন্তর্গত ভাবধারা ও মৌলিক বিশ্বাস বা প্রত্যয়ের প্রভাব কতটা এবং বাস্তব কর্মের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব কতখানি, মনোবিজ্ঞানীরা তা বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁরা বিষয়টির ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করেছেন। কেননা, তা মানবীয় শক্তিসামর্থের পথিকৃৎ শুধু নয়, তা মানুষের শাসক ও নিয়ন্ত্রকও। মানুষ তারই নির্দেশ বাস্তবায়নে ও পরিপূরণে নিজের ধন-সম্পদ ও সর্বাধিক প্রিয় জিনিস নিজের জীবনটাও অকাতরে বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠিত হয় না। দুনিয়ার কঠোরতম সমাজ ব্যবস্থায়ও এসব চুম্বক শক্তিই অধিক সক্রিয় হয়ে থাকে। কমিউনিজম কিংবা সমাজতন্ত্র- সকল ক্ষেত্রেই হৃদয় মনে গভীরতর গহনে লুক্কায়িত এসব ভাবধারার হাতেই থাকে সমস্ত কর্তৃত্ব নিবদ্ধ। এগুলোই জাতির প্রকৃত নেতা- তার চালিকাশক্তি। জাতীয় নেতৃত্ব সুপথগামী হলে গোটা জাতিই নির্ভুল পথযাত্রী হবে আর তা যদি ভ্রান্ত পথের পথিক হয়, তাহলে জাতির প্রতিটি মানুষই ভুলপন্থী হবে। বর্তমানে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে, জাতিতে ও গোত্রে বিরাজমান পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত মূলত জাতীয় ও সামষ্টিক জীবনাদর্শের বিভিন্নতারই সংঘাত। এক ব্যক্তি বা একটি দলে দৃঢ়তা ও স্থিতি এ চুম্বক শক্তির ওপরই একান্তভাবে নির্ভরশীল। আর এ শক্তির দুর্বলতা হচ্ছে এক ব্যক্তি, একটি দল ও একটি জাতির ধ্বংসের উৎসমুখ। দীর্ঘকালব্যাপী আদর্শহীন শিক্ষা-দীক্ষা ও পরিবেশের ফলেই মুসলিম জাতির ঈমান ও প্রত্যয়ে দুর্বলতার এ নৈরাশ্যজনক বাস্তবতা দৃশ্যমান।