hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

জীবন–লক্ষ্যের তাৎপর্য ও গুরুত্ব

শিক্ষা হল আসলে জীবন-গঠনের প্রস্তুতি। এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদগণ সম্পূর্ণ একমত। মতভেদ দেখা দিয়েছে শুধু জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের ব্যাপারে। মানব জীবনের এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই হচ্ছে একটি স্থায়ী ও দৃঢ় বিশ্বাসের ব্যাপার; মানুষের অন্তর্নিহিত প্রকৃতি ও প্রবৃত্তির লালন-পালন এবং চিন্তা-বিশ্বাসের ক্রমবিকাশ লাভ একে কেন্দ্র করেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। পরে এই ইচ্ছা-বাসনা, অন্তর্নিহিত ভাবধারা ও আবেগ-উচ্ছাস থেকেই বাস্তব চরিত্রের নির্ঝর উচ্ছসিত হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষিতে একথা বলায় কোন ভুল নেই যে, এই মানসিক ভাবধারাই হচ্ছে মানুষের সব চিন্তা-বিশ্বাস ও আবেগ-উচ্ছাসের মূল উৎস; তার যাবতীয় কাজকর্ম, তৎপরতা ও ব্যতিব্যস্ততা পরিচালিত হয় এ জিনিসকে কেন্দ্র করেই।

মানুষের বাহ্যিক নৈতিকতায় তার অন্তর্নিহিত ধারণা ও বিশ্বাসগত ভাবধারারা অমোঘ প্রভাব এবং সেসবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আধুনিক মনস্তত্ত্ববিদরাও স্বীকার করেন। কেননা এ জিনিসই মানুষের সমস্ত কর্মক্ষমতার নিয়ামক। মানুষের গোটা মানসিক ও শারীরিক শক্তিই একান্তভাবে এ জিনিসের পরিপূরক ও বাস্তবায়নে নিয়োজিত হয়; মানুষ এজন্যে নিজের প্রাণ ও জীবন পর্যন্ত কুরবান করতেও কুণ্ঠিত হয় না। দুনিয়ার সব দৃঢ়তম সংগঠন ও সংস্থার পিছনে এহেন চুম্বক শক্তিই কাজ করছে। তাই এ জিনিসটি যাতে সঠিকভাবে গড়ে ওঠে এবং জাতীয় আদর্শ ও উদ্দেশ্য মুতাবেক কাজ করে, তার ব্যবস্থা করা প্রতিটি জাতি ও জাতীয় সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব রূপে গণ্য।

এ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক মজবুত যে কোন রাষ্ট্রব্যবস্থার বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে, সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানব জীবনের চরমতম বস্তুগত লক্ষ্য ও বৈষয়িক উন্নতি লাভের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। কেবল বৈষয়িক উদ্দেশ্যই নয়, যে কোন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জন করতে চান আপনি, আপনার শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনুরপ ফলদায়ক করে গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোন উপায়ই আপনার থাকতে পারে না।

আমরা যেহেতু আমাদের শিক্ষাগত সমস্যা সম্পর্কেই আলোচনা করতে চাচ্ছি তাই বলবোঃ আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থাকেও অনুরূপ প্রস্তুতির ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে; তা না হলে স্বাধীনতার তাৎপর্য এবং আমাদের জাতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কোনক্রমেই অর্জিত হতে পারে না। আমরা যদি কলা গাছ রোপন করে আম ফল পেতে চাই, তাহলে হবে চরম নির্বুদ্ধিতা। বিগত বছরগুলোতে আমরা সেই নির্বদ্ধিতাই করে আসছি- করে যাচ্ছি নির্লিপ্তভাবে। আমরা ভেবেও দেখিনা- দেখতে চাই না যে, আমরা কোথায় যাচ্ছি; আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদেরকে আমরা ভাসিয়ে দিচ্ছি কোন্ গড্ডালিকা প্রবাহে।