hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭১

ইসলামের দৃষ্টি বিশ্বলোক

ইসলাম বিশ্বস্রষ্টার নিকট থেকে দুনিয়ার মানুষের জন্যে অবতীর্ণ এক পূর্ণাঙ্গ জীব বিধান। যেদিন থেকে দুনিয়ায় মানুষের বসবাস শুরু ইসলামেরও সূচনা সেদিন থেকেই। কাজেই ইসলামের দৃষ্টিতে এ বিশ্বলোক স্বয়ম্ভূ বা স্বতঃস্ফূর্ত ও বিকাশপ্রাপ্ত নয়। এর নির্দিষ্ট সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন এবং তা বহু বা একাধিক নয়; তিনি এক ও একক- লা-শরীক।

মানুষ সেই এক ও একক সৃষ্টিকর্তারই একটি বিশেষ সৃষ্টি- উদ্দেশ্যপূর্ণ মাখলুক।

বিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বিশেষভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন? তিনি নিজেই বলিষ্ঠ ভাষায় এর ঘোষণা দিয়েছেনঃ

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

‘‘আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবলমাত্র এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি যে, তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমার দাসত্ব করবে।’’ (সূরা যারিয়াতঃ ৫৬)

কোন জিনিসের স্রষ্টা বা নির্মাতা, যে উদ্দেশ্যের বশবর্তী হয়ে জিনিসটি সৃষ্টি বা নির্মাণ করে তার গোটা সত্তায় সেই উদ্দেশ্যের বাস্তব প্রতিলন ঘটবে, এটা যেমন স্বাভাবিকত, তেমনি যুক্তিসংগতও বটে। অতএব, আল্লাহ্ যখন বলেছেন মানুষ সৃষ্টির মৌলিক উদ্দেশ্যে হচ্ছে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কেবল তাঁরই দাসত্ব করা, তখন সেই দাসত্বের বাস্তব ও পুর্ণাঙ্গ রূপ মানব জীবনের সর্বদিকে ও বিভাগে প্রতিফলিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এটাও যেমন স্বাভাবিক, তেমনি যুক্তিসঙ্গতও।

এই প্রেক্ষিতেই বলতে হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘সমগ্র জীবনে এক আল্লাহর দাসত্ব করার যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা’ যেন তারা শিক্ষা লাভ করে প্রকৃত মানুষের মর্যাদা নিয়ে জীবন যাপন করতে পারে, আল্লাহর দাস হিসেবে যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে সক্ষম হয় এবং তাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনকে আলোকমণ্ডিত ও সুখ-শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে। সে শিক্ষার বিষয়বস্তু হচ্ছে এমনসব জ্ঞান যা অর্জন করার মাধ্যমে মানুষের সমগ্র জীবনে এক আল্লাহর দাসত্ব করার যোগ্যতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এক-একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে নয, আল্লাহর দাসত্ব স্বীকারকারী লোকদের সমন্বয়ে গঠিত জাতি হিসেবেও এ জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য।

অতএব, যে শিক্ষ মানুষকে মনে-প্রাণে ও বাস্তব জীবনে আল্লাহর দাস বানায়না, আল্লাহর দাস হওয়ার মর্যাদা শেখায়না, আল্লাহর দাস হিসেবে কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করে না এবং আল্লাহর অনুগত দাস হিসেবে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন উজ্জ্বল ও সুখময় হওয়ার নিশ্চয়তা বিধান করে না তা যেমন মানুষ-উপযোগী শিক্ষা নয়, তেমনি নয় ইসলামী শিক্ষাও। বস্তুত ইসলামই মানুষকে সত্যিকার অর্থে মানুষ বানায়, তাকে পশুর ন্যায় জীবন যাপন করতে নিষেধ করে এবং তার মনে পশুত্বের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণার উদ্রেক করে।