hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮০

আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও সম্পর্ক

ইসলামে সমাজের সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তৎসত্ত্বেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ ও প্রবণতা, বিশেষ করে অন্যান্য জাতির সথে সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তাই পাঠ্যপুস্তকে এ পর্যায়ের বিষয়াদি শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক, সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সরকারকে শুভ নীতি-ভঙ্গি, আদর্শ ও কল্যাণময় আইন মেনে চলতে বাধ্যকরণ পর্যায়ের জ্ঞানও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাগিয়ে তোলা ইসলামী শিক্ষা-দর্শনের দৃষ্টিতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা রাষ্ট্রীয় আদর্শ, সরকার ও সরকার-চালক সঠিক ও শুভ না হলে জন-মানুষের জীবন কখনই শুভ হতে পারেনা। তাই ইসলামী শিক্ষার পাঠ্যতালিকায় এই পর্যায়ের বিষয়াদি অবশ্যই শামিল থাকতে হবে। কেননা কুরআন মজীদ উক্ত বিষয়াদির উপর খুবই গুরুত্ব আরোপ করেছে। এখানে কতিপয় আয়াতে উদ্ধৃতি দেয়া যাচ্ছে।

إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ

‘‘বস্তুত সার্বভৌমত্ব ও শাসন-কর্তৃত্ব আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্যই নয়। তাঁর নির্দেশ এই যে, স্বয়ং আল্লাহ ছাড়া তোমরা আর কারোরই দাসত্ব ও বন্দেগী করবে না।’’ (সূরা ইউসূফঃ ৪০)

أَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ – مَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ –

‘‘হে কারাগারের বন্ধুরা আমার! তোমরা নিজেরাই ভাবিয়া দেখ, ভিন্ন ভিন্ন বহু সংখ্যক রব্ব্ ভালো, না সেই এক আল্লাহ যিনি সবকিছুরই ওপর বিজয়ী-মহাপরাক্রমশালী। তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের বন্দেগী কর, তারা ক’টি নাম ছাড়া আর কিছুই নয়, যা তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা রাখিয়া লইয়াছ। আল্লাহ ওদের জন্য কোনই সনদ নাযিল করেন নাই।’’ (সূরা ইউসুফঃ ৩৯–৪০)

وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ

‘‘যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তারাই কাফির।’’ (সূরা মায়িদাঃ ৪৪)

الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ

‘‘এরা সেই সব লোক, যাদেরকে আমরা যদি জমিনে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দান করি, তবে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দিবে, যাবতীয় ভাল কাজের হুকুম দিবে এবং যাবতীয় অন্যায় কাজে নিষেধ করবে।’’ (সূরা হজ্বঃ ৪১)

اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ

‘‘হে লোকসকল! তোমাদের রব্ব্-এর তরফ তেকে তোমাদের প্রতি যাকিছু নাযিল করা হয়েছে তা মেনে চল এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অপরাপর পৃষ্ঠপোষকদের অনুসরণ ও অনুগমণ করো না।’’ (সূরা আরাফঃ ৩)

وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

‘‘আমরা তোমাদেরকে জমিনে ক্ষমতা-ইখতিয়ার দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্যে এখানে জীবনের সামগ্রী সংগ্রহ করে দিয়েছি। কিন্তু তোমরা খুব কমই শোকর আদায় কর।’’ (সূরা আ’রাফঃ ১০)

وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا ۗ قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ ۖ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ – قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ –

‘‘এই লোকেরা যখন কোন লজ্জাকর কাজ করে, তখন বলেঃ আমরা আমাদের বাপ দাদাকে এই সব কাজ করতে দেখেছি আর আল্লাহই আমাদেরকে এরূপ করবার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদেরকে বল, আল্লাহ লজ্জাকর কাজের হুকুম কখনই দেন না।’’ (সূরা আরাফঃ ২৮–২৯)