hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮২

মানুষ ও বিশ্বলোক

خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَابَّةٍ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ

‘‘তিনি আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন কোনরূপ স্তম্ভ ব্যতীতই, যা তোমরা দেখতে পাও। তিনি জমিনেরর বুকে পর্বতমালা শক্ত করে বসিয়ে দিয়েছেন, যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে না পড়ে। তিনি সব রকমের জীব-জন্তু জমিনের বুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর আমরা আসমান হতে পানি বর্ষণ করিয়েছি এবং জমিনের বুকে রকমারি উত্তম জিনিসসমূহ উৎপাদন করিয়েছি।’’ (সূরা লুকমানঃ ১০)

ইসলামী শিক্ষা পাঠ্য-তালিকার জন্যে অনেকগুলো জরুরী বিষয় এ আয়াতটিতে রয়েছে যা প্রাথমিক স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ানো যেতে পারে। যেমন, আকাশ-মার্গ, যা কোনরূপ সমর্থন ছাড়াই ঊর্ধ্বলোকে দাঁড়িয়ে আছে; গ্রহপুঞ্জের নক্ষত্র ও উপগ্রহাদি, গতি ও গতির নিয়মাবলী, আলো ও অন্ধকার, জীবন ও মৃত্যু, দিন ও রাত- এ সবই আল্লাহর কুদরাতের বাহ্য প্রকাশ মাত্র। পর্বতমালা, যা পৃথিবীকে দোদুল্যমানতা থেকে রক্ষা করছে। অপরিমেয় খনিজ পদার্থ যা মাটির তলায় লুকিয়ে রয়েছে, যেমন রয়েছে লাভা বা প্রস্তরের স্তর। এ ছাড়া আল্লাহর সৃষ্ট অসংখ্য জাতি-প্রজাতি, আকাশে মেঘের সঞ্চার, বৃষ্টিপাত, বৃক্ষ, গুল্মলতার উদ্গম ইত্যাদি অসংখ্য বিষয় এখানে পাওয়া যাচ্ছে, যার গভীর ও ব্যাপক শিক্ষাদান আবশ্যক।

মোটকথা ইসলামী শিক্ষার পাঠ্যসূচীতে নিম্নোক্ত বিষয়াদি শামিল করার কথা কুরআন থেকেই জানা যায়ঃ

১. একটি ভালো সমাজ গড়ে তোলা সৎকর্মশীল আদর্শ ও চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে, যেখানে সামাজিক শান্তি-শৃংখলা ও সুবিচার কার্যকর থাকবে।

২. এমন সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, প্রীতি-ভালোবাসা, সহৃদয়তা, দয়া-অনুগ্রহ, কল্যাণ কামনা ও সত্যানুসন্ধানের ভাবধারা প্রভাবশালী হবে।

৩. এমন সমাজ, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, আলাপ-আলোচনা, পরামর্শ গ্রহণ ও প্রদান এবং ব্যক্তির মেধা ও কর্মশক্তি তথা যোগ্যতার পূর্ণমাত্রার বিকাশ ও প্রয়োগ সম্ভব হবে।

৪. এমন সমাজ, যেখানে ব্যক্তি পূর্ণমাত্রায় স্বাধীনতা ভোগ করবে চিন্তায় ও প্রকাশে এবং সামষ্টিক দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে।

৫. এমন সমাজ, যেখানে ব্যক্তি নিজ আদর্শ রক্ষা করে পবিত্র, নিষ্কলুষ ও সুখী জীবন যাপনে সক্ষম হবে।

সর্বোপরি, সে সমাজ হবে আল্লাহর অনুগত, আল্লাহর আইন পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টিকামী। এরূপ সমাজ গড়ার উপযোগী জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে পর্যায় ও মান অনুপাতে এবং সে শিক্ষা লাভ সহজ হবে প্রতিটি শিক্ষার্থী নাগরিকের জন্য।