hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

কুরআনী শিক্ষা প্রশিক্ষণের লক্ষ্য

কুরআন যে প্রশিক্ষণ-লক্ষ্য উপস্থাপন করেছে, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা উদ্দেশ্যে তাকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারেঃ

১. মানুষের সংজ্ঞা ও পরিচয়। সৃষ্টিলোকে ব্যক্তি মানুষের স্থান এবং এই পার্থিব জীবনে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

২. ব্যক্তি মানুষের সামাজিক পরিচিতি, সমাজ-সমষ্টিতে ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য।

৩. বিশ্বপ্রকৃতির সাথে ব্যক্তি মানুষের পরিচিতি, স্রষ্টার সৃষ্টিকুশলতা, সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং বস্তুর ভোগ-ব্যবহারে মানুষের প্রতিষ্ঠা।

৪. বিশ্বস্রষ্টার সাথে ব্যক্তি মানুষের পরিচিতি এবং তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যে উদ্বুদ্ধকরণ।

এ চারটি লক্ষ্য বাহ্যত ভিন্ন ভিন্ন ও স্বতন্ত্র মর্যাদাসম্পন্ন মনে হলেও মূলত এগুলো পরস্পর সম্পৃক্ত- কোনটাই বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র নয়। অন্য কথায় বলা যায়, প্রথমোক্ত তিনটির লক্ষ্য চূড়ান্ত পরিণতি লভ করে চতুর্থ লক্ষ্যটিতে। প্রথমোক্ত তিনটির লক্ষ্য পূর্ণত্ব লাভ করে চতুর্থ লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার মাধ্যমে। সে চতুর্থ লক্ষ্যটি হচ্ছে, আল্লাহর পরিচিতি লাভ এবং তাঁর আনুগত্য তথা আদেশ ও নিষেধ মেনে চলার প্রবণতা অর্জন। এ দৃষ্টিতে বলা যায়, ইসলামী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর পরিচিতি লাভ এবং তাঁর আনুগত্য তথা আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। আত্মোপলব্ধি বা আত্মসচেতনা, সমাজ-সচেতনতা ও বিশ্বলোক ব্যবস্থা অনুধাবন এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য নয়, এ সব হচ্ছে মূল লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছার উপায় ও উপকরণ মাত্র। এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামী প্রশিক্ষণের কাজ হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের ভিত্তিতে মানুষের পুনর্গঠন এবং তাঁর আদেশাবলী পালন ও নিষেধসমূহ পরিহার করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের ইচ্ছা-বাসনা মানব মনে জাগিয়ে তোলা। বিশ্বপ্রকৃতি যেসব আইনের ভিত্তিতে চালিত হচ্ছে এবং যেসব নৈতিক বিধিবিধান গ্রহণ ও অনুসরণের জন্যে কুরআন মজীদ আহ্বান জানায়, এই উভয়বিধ আইন-বিধানই মানুষকে প্রকৃত কল্যাণ, মহাসত্য ও পরম সৌভাগ্য লাভ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এই সবকিছুর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়। এ থেকে জানা গেল যে, বিশ্বস্রষ্টা প্রবর্তিত ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’- এ পদচারণা কেবল মুমিন ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। আর আল্লাহর নিয়ম-বিধান অনুসরণ করে চলার নামই হচ্ছে ইবাদত-সে নিয়ম-বিধান প্রকৃতিগত হোক কি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক হোক, বৈষয়িক কিংবা ইহলৌকিক কি হোক পরলৌকিক।

অতঃপর আমরা মূল কুরআনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করছি। এখানে আমরা এমন কতক আয়াত উদ্ধৃত করব যা মানুষের মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দায়িত্বের কথা সুস্পষ্ট করে তোলে। তারপর আমরা এমন কতিপয় আয়াত উদ্ধৃত করব যা থেকে বিশ্বলোক ও বিশ্বস্রষ্টা সম্পর্কে কুরআন কি ধারণা দেয, তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।