১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৭
মানুষ বস্তু ও রূহ সমন্বিতঃ
إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن طِين – فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ
‘‘(তখনকার কথা চিন্তা করে দেখ) তোমার রব্ব যখন ফেরেশতাদেরকে বললেবঃ আমি মৃত্তিকা দ্বারা মানুষ সৃষ্টি করব। তারপর তাকে যখন ভারসাম্যপূর্ণ করে তুললাম এবং তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিলাম, তখন তারা (ফেরেশতারা) তার উদ্দেশে সিজদায় পড়ে গেল।’’ (সূরা সা’দঃ ৭১–৭২)
কুরআনের ঘোষণানুযায়ী মানুষ আল্লাহর খলীফা এই পৃথিবীর বুকে। আর তা শুধু এজন্যে যে, মানুষ জ্ঞান ও শিক্ষাসম্পন্ন সত্তা। বলা হয়েছেঃ
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُون- وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِين-قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيم-قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُون -
‘‘(সে সময়ের কথা চিন্তা করে দেখ) যখন তোমরা রব্ব ফেরেশতাদের বললেব, আমি পৃথিবীতে একজন খলীফা বানাব। তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কিছু বানাবে যা সেখানে অশান্তির সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? আমরাই তো তোমার প্রশংসা করছি ও তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি? জবাবে আল্লাহ বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জাননা। অতঃপর তিনি আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে পেশ করলেন। বললেন, এগুলোর নাম আমাকে জানিয়ে দাও, যদি তোমরা তোমাদের ধারণায় সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা বললঃ হে আল্লাহ! পবিত্র ও মহান তুমি। আমরা তো শুধু ততটুকুই জানি যতটুকু তুমি আমাদের জানিয়েছে। আসলে তুমিই সূক্ষ্ণদর্শী, মহাবিজ্ঞানী। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আদম! তুমি এদেরকে এই জিনিসগুলোর নাম জানিয়ে দাও। সে যখন তাদেরকে সেই নামগুলো জানিয়ে দিল, তখন আল্লাহ বললেনঃ আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমিই আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সকল অদৃশ্য বিষয় জানি; তোমরা যা প্রকাশ কর আর যা গোপন কর তা-ও জানি।’’ (সূরা বাকারাহঃ ৩০–৩৩)
এই সৃষ্টিলোকের বহু কিছুরই ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকৃত। ঘোষণা হয়েছেঃ
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
‘‘আদম বংশকে আমরা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছি, তাদেরকে যানবাহন দিয়েছি স্থল ও জল ভাগে (চলাচলের জন্য) এবং তাদেরকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন-উৎকৃষ্ট দ্রব্যাদি রিযিক হিসেবে দিয়েছি এবং আমাদের সৃষ্টিসমূহের অনেকেরই ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দিয়েছি।’’ (সূরা বনী–ইসরাঈলঃ ৭০)
এ আয়াতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে যথার্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ মর্যাদায় ভূষিত ও প্রতিষ্ঠিত করার কথাও ঘোষিত হয়েছে। তাকে সব কিছুর ওপর তুলে দেয়ার বা সব কিছুর নিম্নে রাখার মতো কোন বাড়াবাড়ি করা হয়নি, বরং যথার্থ স্থানই তার জন্যে নির্দিষ্ট হয়েছে।
‘‘(তখনকার কথা চিন্তা করে দেখ) তোমার রব্ব যখন ফেরেশতাদেরকে বললেবঃ আমি মৃত্তিকা দ্বারা মানুষ সৃষ্টি করব। তারপর তাকে যখন ভারসাম্যপূর্ণ করে তুললাম এবং তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিলাম, তখন তারা (ফেরেশতারা) তার উদ্দেশে সিজদায় পড়ে গেল।’’ (সূরা সা’দঃ ৭১–৭২)
কুরআনের ঘোষণানুযায়ী মানুষ আল্লাহর খলীফা এই পৃথিবীর বুকে। আর তা শুধু এজন্যে যে, মানুষ জ্ঞান ও শিক্ষাসম্পন্ন সত্তা। বলা হয়েছেঃ
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُون- وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِين-قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيم-قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُون -
‘‘(সে সময়ের কথা চিন্তা করে দেখ) যখন তোমরা রব্ব ফেরেশতাদের বললেব, আমি পৃথিবীতে একজন খলীফা বানাব। তখন তারা বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কিছু বানাবে যা সেখানে অশান্তির সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? আমরাই তো তোমার প্রশংসা করছি ও তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি? জবাবে আল্লাহ বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জাননা। অতঃপর তিনি আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে পেশ করলেন। বললেন, এগুলোর নাম আমাকে জানিয়ে দাও, যদি তোমরা তোমাদের ধারণায় সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা বললঃ হে আল্লাহ! পবিত্র ও মহান তুমি। আমরা তো শুধু ততটুকুই জানি যতটুকু তুমি আমাদের জানিয়েছে। আসলে তুমিই সূক্ষ্ণদর্শী, মহাবিজ্ঞানী। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আদম! তুমি এদেরকে এই জিনিসগুলোর নাম জানিয়ে দাও। সে যখন তাদেরকে সেই নামগুলো জানিয়ে দিল, তখন আল্লাহ বললেনঃ আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমিই আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সকল অদৃশ্য বিষয় জানি; তোমরা যা প্রকাশ কর আর যা গোপন কর তা-ও জানি।’’ (সূরা বাকারাহঃ ৩০–৩৩)
এই সৃষ্টিলোকের বহু কিছুরই ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকৃত। ঘোষণা হয়েছেঃ
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
‘‘আদম বংশকে আমরা বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছি, তাদেরকে যানবাহন দিয়েছি স্থল ও জল ভাগে (চলাচলের জন্য) এবং তাদেরকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন-উৎকৃষ্ট দ্রব্যাদি রিযিক হিসেবে দিয়েছি এবং আমাদের সৃষ্টিসমূহের অনেকেরই ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দিয়েছি।’’ (সূরা বনী–ইসরাঈলঃ ৭০)
এ আয়াতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে যথার্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ মর্যাদায় ভূষিত ও প্রতিষ্ঠিত করার কথাও ঘোষিত হয়েছে। তাকে সব কিছুর ওপর তুলে দেয়ার বা সব কিছুর নিম্নে রাখার মতো কোন বাড়াবাড়ি করা হয়নি, বরং যথার্থ স্থানই তার জন্যে নির্দিষ্ট হয়েছে।