hadith book logo

শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

সামষ্টিক প্রশিক্ষণে কুরআন

কুরআন মজীদ একটা সামাজিক ও সামষ্টিক ব্যবস্থা উপস্থাপন করেছে। এ সামাজিক ও সামষ্টিক ব্যবস্থাটি কুরআনী আইনের নির্দেশনা এবং ঐক্য, সংহতি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সাহায্য, সহযোগিতা ও পরামর্শের ওপর স্থাপিত। কুরআনের দৃষ্টিতে এ-ই হচ্ছে সঠিক ও নির্ভুল মানবিক ব্যবস্থার মৌলিক ভাবধারা। কুরআন মজীদ ডিক্টেটরী বা একনায়কত্বমূলক শাসন পদ্ধতি সমর্থন করেনি, যেমন সমর্থন করেনি গণতান্ত্রিক হট্টগোল ও উচ্ছৃঙ্খলতা।

কুরআন পারিবারিক ব্যবস্থাকে একটা সুদৃঢ় নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। ধনতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতা তা স্থাপন করেছে নিছক জৈবিক চাহিদার ওপর আর কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র তা প্রতিষ্ঠিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর। কুরআন পারস্পরিক চুক্তি-প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তার স্বাধীনতা ও প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণা প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এ সবই সামাজিক দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির চেতনা সহকারেই সম্পন্ন করতে বলেছে। এক কথায় ইসলামী সমাজ কুরআনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ভারসাম্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। তাতে অগ্রগামিতার ওপর গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে, গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা বা প্রতিক্রিয়াশীলতাকে কোন স্থান দেয়া হয়নি। তা বাড়াবাড়ি, সীমালঙ্ঘন ও লোকদের মধ্যে শ্রেণী সংগ্রাম সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বস্তুত ইসলামী সমাজ অতীব উচ্চমানের ও যথার্থ তাৎপর্যসম্পন্ন একটি মানবিক সমাজ। তাতে যুক্তিগ্রাহ্য ও বাস্তবসম্মত মানবীয় সাম্য পুরোপুরি স্বীকৃত। দার্শনিক ও চিন্তাবিদগণ আজ পর্যন্ত মানবীয় সামাজিকতা পর্যায়ে যত উন্নত চিন্তা করতে সমর্থ হয়েছে, ইসলামী সমাজব্যবস্থা তার চাইতেও অনেক ঊর্ধ্বে অবস্থিত। অথচ তাতে না আছে কোনরূপ বাড়াবাড়ি, সীমালংঘন আর না তা প্রয়োজনীয় মানেরও নিম্নে অবস্থিত। এই সব বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব নিয়েই ইসলামী সমাজ আল্লাহর পরিচিতি পর্যন্ত পৌঁছায়। কুরআন উপস্থাপিত সমাজ সংগঠন ও প্রশিক্ষণে কুরআনের লক্ষ্য বুঝবার জন্যে নিম্নোদ্ধৃত আয়াতসমূহ বিবেচ্যঃ