১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
আধুনিক শিক্ষার পরিণতি
এ প্রেক্ষিতে ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য সভ্যতাগর্বী দেশের উন্নততর শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠাসমূহের অবস্থা পর্যালোচনা করলে আমাদের সামনে একটি সত্য প্রতিভাত হয়ে ওঠে। এসব ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান যে সব মৌলিক ধারণা ও চিন্তা-ভাবনার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা হল এই বাস্তব ও ক্ষয়িষ্ণু দুনিয়ায় উন্নতি ও প্রাধান্য লাভ। এছাড়া তাদের সামনে আর কোন মহৎ লক্ষ্য নেই। এটাই তাদের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য- তাদের সামগ্রিক ভাবনা-চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। স্মর্তব্য যে, বৈষয়িক জীবনকে অন্য কোন মহত্তর ও চিরন্তর জীবনের জন্যে প্রস্তুতিক্ষেত্র এবং লক্ষ্য-পথ ও মাধ্যমরূপে গ্রহণকারী মানুষ এবং এ জীবনকেই আসল ও প্রকৃত জীবন তথা চরম ও পরম জীবনরূপে গ্রহণকারী মানুষের জীবনে আকাশ-পাতালের পার্থক্য অবশ্যম্ভাবী। লক্ষ্যস্থলের স্বরূপ ও দূরত্বের আলোকেই সফরের প্রস্তুতি ও পাথেয় গ্রহণের অভ্যাস প্রতিটি মানুষের। যাত্রাপথে সেসব জিনিসই সঙ্গে নেয়া হয়, যা পথিমধ্যে ও চূড়ান্ত মনযিলে পৌঁছার পর প্রয়োজনীয় মনে হবে। এটাই স্বাভাবিক। এ দুনিয়ার জীবনই যাদের চরম লক্ষ্য, তারা কি ধরণের জিনিসপত্র সংগ্রহে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য ব্যয় করবে এবং সাফল্য ও সার্থকতা বলতে তারা কি বুঝে থাকে, তা সহজেই অনুমেয়। এ ধরণের যাত্রীরা যে এই নশ্বর দুনিয়ার সমস্ত বস্তুগত উপায়-উপকরণ দুই হাতে কুড়াবে এবং সে সবকেই অতীব প্রয়োজনীয় ও পরম নির্ভরযোগ্য মনে করবে আর সেজন্যেই নিজেদের যাবতীয় শক্তি-সামর্থ্য নিয়োজিত করবে, তাকেই নিজেদের সমস্ত চেষ্টা তৎপরতা ও ব্যতিব্যস্ততার লক্ষ্য রূপে গ্রহণ করবে- এ ছাড়া জীবনের সূচনা সম্পর্কে তাদের অন্য কোন চিন্তা-ভাবনা হবে না- এক বিন্দু চিন্তা হবে না জীবনের পরিণাম সম্পর্কে- এতে কোনই সন্দেহ নেই। যাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রাসাদ পুরোপুরি বস্তুগত ভিত্তির ওপর স্থাপিত, তারা উন্নতমানের ‘জীব’ সৃষ্টি ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারে!
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্যস্থল হল এই নশ্বর ও বস্তু-জীবনের চাকচিক্য, জাঁকজমক, আনন্দস্ফূর্তি ও স্বাদ আস্বাদন। এছাড়া শিক্ষার আর কোন উদ্দেশ্য নেই। এ শিক্ষায় মানুষের যতই ঊর্ধগমন হোক না কেন, ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, জাতীয় ও দেশভিত্তিক উন্নতি লভই কেবল তার পক্ষে সম্ভব। আর মৌখিক দাবিতে আরো ঊর্ধ্বগমন সম্ভব হলে সমগ্র মানবতার কয়েকদিনের পাশবিক জীবনের লক্ষ্য এবং মানুষ সম্পর্কে এ ধারণা পাশবিক জীবন বিকাশের একটা ধারাবাহিকতা-অপেক্ষাকৃত উন্নততর জীব কিংবা উচ্চমানের জৈবিক আকাঙ্ক্ষা মাত্র। পিছনের দিকে তার কোন দৃষ্টি নেই, তার সৃষ্টির পিছনে কোন শক্তি বা সত্তার ইচ্ছার সক্রিয়তা ছিল না বলে তার সমস্ত সত্তাই উদ্দেশ্যহীন, বিশেষ কোন লক্ষ্য বলতেও কিছু নেই তার। ভবিষ্যতের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ নয়। উপস্থিত জীবন শেষে নেই তার কোন হিসাব-নিকাশ-শাস্তি ও পুরস্কার। অবস্থা যখন এই, তখন শুরু ও সমাপ্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্ভীক ও বেপরোয়া মানসিকতাই প্রধান ও প্রভাবশালী হয়ে থাকে মানব জীবনের সমস্ত তৎপরতার ওপর। আর উপস্থিত বস্তুগত জীবনের চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয় তথা লোভ-লালসা ও কামনা-বাসনার চরিতার্থতা, তারই জাঁকজমক, চাকচিক্য, শ্রেষ্ঠত্ব-প্রাধান্য বিধান এবং তা অর্জনের জন্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অবতরণ এবং তাকেই জীবনের উন্নতি ও উৎকর্ষের চরম সার্থকতা মনে করে-এটাই স্বাভাবিক। আর বর্তমান দুনিয়ায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত বিপদ-আপদ ও অশান্তি-উৎপীড়নের মূল উৎসই হল আধুনিক শিক্ষা-দর্শন ও শিক্ষা ব্যবস্থা। আল্লাহর সন্তোষ ও পরকালীন সাফ্যল্য যে মানুষের জীবন-লক্ষ্য হতে পারে তা সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হওয়া এবং সে সব কিছুকে জীবনের তৎপরতা থেকে বিতাড়িত করে বৈষয়িক সুখ-সুবিধা, মান-সম্মান, ধন-সম্পদ, রাষ্ট্র-ক্ষমতা, ব্যবসায়িক উন্নতি, সর্বোপরি মানসিক ও জৈবিক স্বাদ-আস্বাদনকে জীবনের চরম লক্ষ্যরূপে গ্রহণ করাই এ শিক্ষার অনিবার্য পরিণতি।
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্যস্থল হল এই নশ্বর ও বস্তু-জীবনের চাকচিক্য, জাঁকজমক, আনন্দস্ফূর্তি ও স্বাদ আস্বাদন। এছাড়া শিক্ষার আর কোন উদ্দেশ্য নেই। এ শিক্ষায় মানুষের যতই ঊর্ধগমন হোক না কেন, ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, জাতীয় ও দেশভিত্তিক উন্নতি লভই কেবল তার পক্ষে সম্ভব। আর মৌখিক দাবিতে আরো ঊর্ধ্বগমন সম্ভব হলে সমগ্র মানবতার কয়েকদিনের পাশবিক জীবনের লক্ষ্য এবং মানুষ সম্পর্কে এ ধারণা পাশবিক জীবন বিকাশের একটা ধারাবাহিকতা-অপেক্ষাকৃত উন্নততর জীব কিংবা উচ্চমানের জৈবিক আকাঙ্ক্ষা মাত্র। পিছনের দিকে তার কোন দৃষ্টি নেই, তার সৃষ্টির পিছনে কোন শক্তি বা সত্তার ইচ্ছার সক্রিয়তা ছিল না বলে তার সমস্ত সত্তাই উদ্দেশ্যহীন, বিশেষ কোন লক্ষ্য বলতেও কিছু নেই তার। ভবিষ্যতের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ নয়। উপস্থিত জীবন শেষে নেই তার কোন হিসাব-নিকাশ-শাস্তি ও পুরস্কার। অবস্থা যখন এই, তখন শুরু ও সমাপ্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্ভীক ও বেপরোয়া মানসিকতাই প্রধান ও প্রভাবশালী হয়ে থাকে মানব জীবনের সমস্ত তৎপরতার ওপর। আর উপস্থিত বস্তুগত জীবনের চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয় তথা লোভ-লালসা ও কামনা-বাসনার চরিতার্থতা, তারই জাঁকজমক, চাকচিক্য, শ্রেষ্ঠত্ব-প্রাধান্য বিধান এবং তা অর্জনের জন্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অবতরণ এবং তাকেই জীবনের উন্নতি ও উৎকর্ষের চরম সার্থকতা মনে করে-এটাই স্বাভাবিক। আর বর্তমান দুনিয়ায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত বিপদ-আপদ ও অশান্তি-উৎপীড়নের মূল উৎসই হল আধুনিক শিক্ষা-দর্শন ও শিক্ষা ব্যবস্থা। আল্লাহর সন্তোষ ও পরকালীন সাফ্যল্য যে মানুষের জীবন-লক্ষ্য হতে পারে তা সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হওয়া এবং সে সব কিছুকে জীবনের তৎপরতা থেকে বিতাড়িত করে বৈষয়িক সুখ-সুবিধা, মান-সম্মান, ধন-সম্পদ, রাষ্ট্র-ক্ষমতা, ব্যবসায়িক উন্নতি, সর্বোপরি মানসিক ও জৈবিক স্বাদ-আস্বাদনকে জীবনের চরম লক্ষ্যরূপে গ্রহণ করাই এ শিক্ষার অনিবার্য পরিণতি।