১
পরিবার ও পারিবারিক জীবন
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১৭
পারিবারিক জীবনে সন্তানের গুরুত্ব
ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামত, আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের দান। কুরআন মজীদে বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজস্ব প্রজাতি থেকেই জুড়ি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের এই জুড়ি থেকেই তোমাদের জন্যে সন্তান-সন্তুতি ও পৌত্র-পৌত্রী বানিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর নিজস্ব দান বৈ কিছু নয়।
আল্লামা শাওকানী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজস্ব প্রজাতি থেকেই জুড়ি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের এই জুড়ি থেকেই তোমাদের জন্যে সন্তান-সন্তুতি ও পৌত্র-পৌত্রী বানিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর নিজস্ব দান বৈ কিছু নয়।
আল্লামা শাওকানী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
এ আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদর নিজস্ব প্রজাতির মধ্য থেকেই জুড়ি বানিয়েছেন, যেন তোমরা তাঁর সাথে অন্তরের গভীর সম্পর্কের ভিত্তিতে মিলিত হতে পারো। কেননা প্রত্যেক প্রতাজিই তার স্বজাতির প্রতি মনের আকর্ষণ বোধ করে আর ভিন্ন প্রজাতি থেকে তার মন থাকে বিরূপ। মনের এ আকর্ষনের কারণেই স্ত্রী-পুরুষের মাঝৈ এ সম্পর্ক স্থাপিত ও কার্যকর হয়, যার ফলে বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে, আর তাই হচ্ছে বিয়ের মৌলিক উদ্দেশ্য।
বস্তুত স্বামী-স্ত্রীর আবেগ উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রেম-ভালোবাসা পরিণতি ও পরিপূর্ণতা লাভ করে এ সন্তানের মাধ্যমে। সন্তান হচ্ছে দাম্পত্য জীবনের নিষ্কলংক পুষ্প বিশেষ। সন্তানাদি সম্পর্কে কুরআন মজীদে আরো বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
ধন-মাল ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও সুখ-শান্তির উপাদান ও বাহন। আল্লামা আলুসী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
ধন-মাল হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর উপায় আর সন্তান-সন্তুতি হচ্ছে বংশ তথা মানব প্রজাতি রক্ষার মাধ্যম।
বস্তুত দুনিয়ায় কত সহস্র এমন মানুষ রয়েছে, যাদের খাবার কোনো অভাব নেই, কিন্তু কে তা খাবে তার কোনো লোক নেই। মানে, হাজার চেষ্টা সাধনা ও কামনা করেও তারা সন্তান লাভ করতে পারে নি। আবার কত অসংখ্য লোক এমন দেখা যায়, যারা কামনা না করেও বহু সংখ্যক সন্তানের জনক, কিন্তু তাদের কাছে খাবার কিছু নেই কিংবা যথেষ্ট পরিমাণে নেই। তাই বলতে হয়, সন্তান হওয়া না হওয়া একমাত্র আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ পরীক্ষা, সন্দেহ নেই।
শুধু তাই নয়, প্রকৃতপক্ষে মানুষের গোটা জীবনই একটা বিশেষ পরীক্ষার স্থল। আল্লাহর দেয়া মাল, সম্পদ, সম্পত্তি আর সন্তান –পরীক্ষার বিষয়সমূহের মধ্যে এ দুটো প্রধান। এ পরীক্ষায় তারাই উত্তীর্ণ হতে পারে, যারা এক্ষেত্রে অত্যধিক বাড়াবাড়ি থেকে দূরে থেকে সুষম ও সামঞ্জস্যসম্পন্ন নীতি গ্রহণ করতে পারে। সন্তানের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির একটি দিক হচ্ছে এই যে, তার প্রতি প্রেম-ভালোবাসা ও দরদ মায়া আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য বোধকেও ছাড়িয়ে যাবে এবং তারা আল্লাহর আনুগত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। পক্ষান্তরে বাড়াবাড়র অপর দিকটি হচ্ছে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা, স্নেহ-বাৎসল্য প্রদর্শন ও তাদের হক আদায় করার পরিবর্তে তাদের প্রতি অমানুষিক জুলুম করা, তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রত্যাহার বা প্রত্যাখ্যান করা। কুরআন মজীদে বিশেষ গুরুত্ব সহকারেই মাল ও আওলাদকে ফেতনা বা পরীক্ষার বিষয় কিংবা দ্বীনী জিন্দেগী যাপনের পথে হুমকি স্বরূপ বলেই হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। জাহিলিয়াতের যুগে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি অবলম্বিত হতো না। একদিকের বাড়াবাড়ি ছিল –সন্তান সংখ্যার বিপুলতা নিয়ে তারা পারস্পরিক গৌরব ও জনশক্তির ফখর করত, শক্তির দাপট আর ধমক দেখাত, আভিজাত্যের অহংকার স্বীয় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করত। আর এ কারণে তারা আল্লাহর কাছে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠারও দাবি জানাত।
কুরআন মজীদ ও প্রেক্ষিতেই বলেছেঃ
(আরবী)
তোমরা জেনে রেখো, তোমাদের ধনমাল ও সন্তান-সন্তুতি ফেতনা বিশেষ; আর কেবলমাত্র আল্লাহর নিকটই রয়েছে বিরাট ফল।
বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
তোমাদের মাল এবং তোমাদের আওলাদ –কোনো কিছুই এমন নয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে দেবে, সম্মান ও মর্যাদা বাড়িয়ে দেবে। আমার নিকটবর্তী ও আমার নিকট মর্যাদাবান হবে তো কেবল তারা, যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে। তাদের জন্যেই আমলের দ্বিগুণ ফল রয়েছে এবং বেহেশতের সুসজ্জিত কোঠায় তারাই অবস্থান করবে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ততা ও নিরাপত্তা সহকারে।
আয়াতদ্বয় পূর্বাপর পটভূমিসহ প্রমাণ করছে যে, যেমন করে ধনমাল আল্লাহর দেয়া আমানত, সন্তান-সন্ততিও অনুরূপভাবে আল্লাহর দান। প্রথমটা যেমন একটা পরীক্ষার বিষয়, এ দ্বিতীয়টিও তেমনি একটি পরীক্ষার সামগ্রী। ধনসম্পদ অন্যায় পথে ব্যয় করলে কিংবা যথাযথভাবে ব্যয় না করলে যেমন আমানতে খিয়ানত হয়, সন্তান-সন্ততিকেও ভুল উদ্দেশ্যে ও অন্যায় কাজে নিয়োজিত করলে, বাতিল সমাজ ব্যবস্থার যোগ্য খাদেম হিসেবে তৈরী করলেও তেমনি আল্লাহর আমানতে খিয়ানত হবে। আল্লামা আ-লুসী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
কেননা সন্তান গুনাহ এবং আযাবে পড়বারকারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তা হচ্ছে আল্লাহর তরফ থেকে পরীক্ষার একটি সামগ্রী। অতএব, সন্তানের ভালোবাসা যেন তোমাদেরকে খেয়ানতে উদ্ধুদ্ধ না করে।
সূরা আত-তাগাবুন-এ-ও মাল ও আওলাদকে ফেতনা বলা হয়েছে এবং কোনো কোনো সন্তান পিতামাতার ‘দুশমন’ হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। মনে রাখা দরকার যে, এখানে বৈষয়িক বিষয়ের দুশমনীর কথা বলা হয়নি, আল্লাহর আনুগত্যে ও দ্বীন ইসলাম মুতাবিক জীবন যাপনের পথে সন্তান-সন্তুতির প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ানোইহচ্ছে তাদের দুশমনী। বিশেষত তখন, যখন সন্তানের মায়া আল্লাহর ও রাসূলের প্রতি ভালোবাসা অপেক্ষা তীব্রতর হয়ে ওঠে, তখন তাদের দুশমনী সত্যিই মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণেই বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
তোমরা যদি তাদের মাফ করে দাও, তাদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করো, করো দয়া-দাক্ষিণ্য অনুগ্রহ, তাহলে তা ভালোই হবে। কেননা আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের জন্যে মাফকারী ও দয়াবান।
বস্তুত সন্তানদের প্রতি সব সময় ক্ষিপ্ত হয়ে, খড়গহস্ত হয়ে থাকা আর প্রতি কথায় ও কাজে তাদের প্রতি রুঢ় ব্যবহার করা, গালাগাল করা মনুষ্যত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ। ইসলামে যেমন সন্তানের ওপর পিতামাতার হক ধার্য করা হয়েছে, তেমনি পিতামাতার ওপর সন্তানের হক নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছৈ।
(আরবী)
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজস্ব প্রজাতি থেকেই জুড়ি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের এই জুড়ি থেকেই তোমাদের জন্যে সন্তান-সন্তুতি ও পৌত্র-পৌত্রী বানিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর নিজস্ব দান বৈ কিছু নয়।
আল্লামা শাওকানী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজস্ব প্রজাতি থেকেই জুড়ি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের এই জুড়ি থেকেই তোমাদের জন্যে সন্তান-সন্তুতি ও পৌত্র-পৌত্রী বানিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর নিজস্ব দান বৈ কিছু নয়।
আল্লামা শাওকানী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
এ আয়াতের অর্থ এই যে, আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদর নিজস্ব প্রজাতির মধ্য থেকেই জুড়ি বানিয়েছেন, যেন তোমরা তাঁর সাথে অন্তরের গভীর সম্পর্কের ভিত্তিতে মিলিত হতে পারো। কেননা প্রত্যেক প্রতাজিই তার স্বজাতির প্রতি মনের আকর্ষণ বোধ করে আর ভিন্ন প্রজাতি থেকে তার মন থাকে বিরূপ। মনের এ আকর্ষনের কারণেই স্ত্রী-পুরুষের মাঝৈ এ সম্পর্ক স্থাপিত ও কার্যকর হয়, যার ফলে বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে, আর তাই হচ্ছে বিয়ের মৌলিক উদ্দেশ্য।
বস্তুত স্বামী-স্ত্রীর আবেগ উচ্ছ্বাসপূর্ণ প্রেম-ভালোবাসা পরিণতি ও পরিপূর্ণতা লাভ করে এ সন্তানের মাধ্যমে। সন্তান হচ্ছে দাম্পত্য জীবনের নিষ্কলংক পুষ্প বিশেষ। সন্তানাদি সম্পর্কে কুরআন মজীদে আরো বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
ধন-মাল ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও সুখ-শান্তির উপাদান ও বাহন। আল্লামা আলুসী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
ধন-মাল হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর উপায় আর সন্তান-সন্তুতি হচ্ছে বংশ তথা মানব প্রজাতি রক্ষার মাধ্যম।
বস্তুত দুনিয়ায় কত সহস্র এমন মানুষ রয়েছে, যাদের খাবার কোনো অভাব নেই, কিন্তু কে তা খাবে তার কোনো লোক নেই। মানে, হাজার চেষ্টা সাধনা ও কামনা করেও তারা সন্তান লাভ করতে পারে নি। আবার কত অসংখ্য লোক এমন দেখা যায়, যারা কামনা না করেও বহু সংখ্যক সন্তানের জনক, কিন্তু তাদের কাছে খাবার কিছু নেই কিংবা যথেষ্ট পরিমাণে নেই। তাই বলতে হয়, সন্তান হওয়া না হওয়া একমাত্র আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ পরীক্ষা, সন্দেহ নেই।
শুধু তাই নয়, প্রকৃতপক্ষে মানুষের গোটা জীবনই একটা বিশেষ পরীক্ষার স্থল। আল্লাহর দেয়া মাল, সম্পদ, সম্পত্তি আর সন্তান –পরীক্ষার বিষয়সমূহের মধ্যে এ দুটো প্রধান। এ পরীক্ষায় তারাই উত্তীর্ণ হতে পারে, যারা এক্ষেত্রে অত্যধিক বাড়াবাড়ি থেকে দূরে থেকে সুষম ও সামঞ্জস্যসম্পন্ন নীতি গ্রহণ করতে পারে। সন্তানের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির একটি দিক হচ্ছে এই যে, তার প্রতি প্রেম-ভালোবাসা ও দরদ মায়া আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য বোধকেও ছাড়িয়ে যাবে এবং তারা আল্লাহর আনুগত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। পক্ষান্তরে বাড়াবাড়র অপর দিকটি হচ্ছে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা, স্নেহ-বাৎসল্য প্রদর্শন ও তাদের হক আদায় করার পরিবর্তে তাদের প্রতি অমানুষিক জুলুম করা, তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রত্যাহার বা প্রত্যাখ্যান করা। কুরআন মজীদে বিশেষ গুরুত্ব সহকারেই মাল ও আওলাদকে ফেতনা বা পরীক্ষার বিষয় কিংবা দ্বীনী জিন্দেগী যাপনের পথে হুমকি স্বরূপ বলেই হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। জাহিলিয়াতের যুগে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি অবলম্বিত হতো না। একদিকের বাড়াবাড়ি ছিল –সন্তান সংখ্যার বিপুলতা নিয়ে তারা পারস্পরিক গৌরব ও জনশক্তির ফখর করত, শক্তির দাপট আর ধমক দেখাত, আভিজাত্যের অহংকার স্বীয় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করত। আর এ কারণে তারা আল্লাহর কাছে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠারও দাবি জানাত।
কুরআন মজীদ ও প্রেক্ষিতেই বলেছেঃ
(আরবী)
তোমরা জেনে রেখো, তোমাদের ধনমাল ও সন্তান-সন্তুতি ফেতনা বিশেষ; আর কেবলমাত্র আল্লাহর নিকটই রয়েছে বিরাট ফল।
বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
তোমাদের মাল এবং তোমাদের আওলাদ –কোনো কিছুই এমন নয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে দেবে, সম্মান ও মর্যাদা বাড়িয়ে দেবে। আমার নিকটবর্তী ও আমার নিকট মর্যাদাবান হবে তো কেবল তারা, যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে। তাদের জন্যেই আমলের দ্বিগুণ ফল রয়েছে এবং বেহেশতের সুসজ্জিত কোঠায় তারাই অবস্থান করবে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ততা ও নিরাপত্তা সহকারে।
আয়াতদ্বয় পূর্বাপর পটভূমিসহ প্রমাণ করছে যে, যেমন করে ধনমাল আল্লাহর দেয়া আমানত, সন্তান-সন্ততিও অনুরূপভাবে আল্লাহর দান। প্রথমটা যেমন একটা পরীক্ষার বিষয়, এ দ্বিতীয়টিও তেমনি একটি পরীক্ষার সামগ্রী। ধনসম্পদ অন্যায় পথে ব্যয় করলে কিংবা যথাযথভাবে ব্যয় না করলে যেমন আমানতে খিয়ানত হয়, সন্তান-সন্ততিকেও ভুল উদ্দেশ্যে ও অন্যায় কাজে নিয়োজিত করলে, বাতিল সমাজ ব্যবস্থার যোগ্য খাদেম হিসেবে তৈরী করলেও তেমনি আল্লাহর আমানতে খিয়ানত হবে। আল্লামা আ-লুসী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ
(আরবী)
কেননা সন্তান গুনাহ এবং আযাবে পড়বারকারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তা হচ্ছে আল্লাহর তরফ থেকে পরীক্ষার একটি সামগ্রী। অতএব, সন্তানের ভালোবাসা যেন তোমাদেরকে খেয়ানতে উদ্ধুদ্ধ না করে।
সূরা আত-তাগাবুন-এ-ও মাল ও আওলাদকে ফেতনা বলা হয়েছে এবং কোনো কোনো সন্তান পিতামাতার ‘দুশমন’ হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। মনে রাখা দরকার যে, এখানে বৈষয়িক বিষয়ের দুশমনীর কথা বলা হয়নি, আল্লাহর আনুগত্যে ও দ্বীন ইসলাম মুতাবিক জীবন যাপনের পথে সন্তান-সন্তুতির প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ানোইহচ্ছে তাদের দুশমনী। বিশেষত তখন, যখন সন্তানের মায়া আল্লাহর ও রাসূলের প্রতি ভালোবাসা অপেক্ষা তীব্রতর হয়ে ওঠে, তখন তাদের দুশমনী সত্যিই মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণেই বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
তোমরা যদি তাদের মাফ করে দাও, তাদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করো, করো দয়া-দাক্ষিণ্য অনুগ্রহ, তাহলে তা ভালোই হবে। কেননা আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের জন্যে মাফকারী ও দয়াবান।
বস্তুত সন্তানদের প্রতি সব সময় ক্ষিপ্ত হয়ে, খড়গহস্ত হয়ে থাকা আর প্রতি কথায় ও কাজে তাদের প্রতি রুঢ় ব্যবহার করা, গালাগাল করা মনুষ্যত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ। ইসলামে যেমন সন্তানের ওপর পিতামাতার হক ধার্য করা হয়েছে, তেমনি পিতামাতার ওপর সন্তানের হক নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছৈ।