১
পরিবার ও পারিবারিক জীবন
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৩
সন্তানের অধিকার
পিতার প্রতি সন্তানের হক পর্যায়ে যা কিছু আলোচনা করা হয়েছে, তাতে নীতিগতভাবে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে সারকথা এখানে বলা যাচ্ছে।
১. সন্তানের প্রথম অধিকার হচ্ছে তার খানাপিনা, থাকা ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা –বিশেষ করে যদ্দিন সে নিজস্বভাবে উপার্জন করতে অক্ষম থাকবে। নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ
(আরবী)
যাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্ব কারো ওপর বর্তে, সে যদি তা যথাযথভাবে পালন না করে তাদের ধ্বংস করে, তাহলে এতেই তার বড় গুনাহ হবে।
অপর হাদীসের ভাষা নিম্নরূপঃ
(আরবী)
যাদের খাওয়া-পরার কর্তৃত্ব একজনের হাতে, সে যদি তা বন্ধ করে দেয়, তবে এ কাজই তার বড় গুণাহ হওয়ার জন্যে যথেষ্ট।
অন্য কথায়, এ গুণাহই তার ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট। কেননা তারা তারই বংশ ও পরিবার-পরিজন। তাদের সব কিছু তাদেরই ওপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় সে যদি তাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থাপনার কাজ না করে, তাহলে সে লোকগুলো ভয়ানক বিপদে পড়ে যাবে। তাদের জীবন হঠাৎ করে কঠিন অসুবিধার সম্মুখীন হবে। (আরবী)
সন্তানদের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করাকে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত মানুষ তার মনের স্বাভাবিক নির্দেশেই এ কাজ করে থাকে। এজন্যে বিশেষ কোনো যুক্তি বা দলীল পেশ করার প্রয়োজন করে না। তবু এ পর্যায়ে নিম্নোক্ত হাদীস উল্লেখ করা যেতে পারে।
(আরবী)
ব্যক্তি যে অর্থ ব্যয় করে, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম অর্থ হচ্ছে সেটি, যা সে ব্যয় করে তার পরিবারবর্গের জন্যে, যা সে ব্যয় করে জিহাদের ঘোড়া সাজানোর জন্যে এবং যা সে ব্যয় করে জিহাদের পথে সঙ্গী-সাথীদের জন্যে। এ হাদীসে প্রথমেই সন্তান-সন্ততির জন্যে যে অর্থ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে তাই হচ্ছে সর্বোত্তম অর্থ –টাকা-পয়সা।
সন্তান বিশেষ করে পূর্ণ বয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরও তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পিতামাতার ওপর বর্তে কিনা –এ এক কঠিন প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে অধিকাংশ মনীষীর মত এই যে, পুত্র সন্তানের পূর্ণ বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যা সন্তানের বিয়ে সম্পূর্ণ হওয়া পর্যণ্তই তাদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা পিতার কর্তব্য। অবশ্য এক শ্রেণীর মনীষীর মত এই যে, সন্তানের পূর্ণ বয়স্ক হওয়া এবং তাদের প্রয়োজন পরিমাণ ধন-সম্পত্তি অর্জিত হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব পিতার ওপরই অর্পিত থাকবে। (আরবী)
২. শিক্ষার জন্যে অর্থ ব্যয়ঃ ছেলেমেয়েদের কেবল খাওয়া পরা দিয়ে লালন-পালন করলেই পিতার দায়িত্ব পালন হয় না। বরং তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলবার জন্যেও অর্থ ব্যয় করা কর্তব্য। অতীতে শিক্ষা ছিল একটি ধর্মীয় কর্তব্য; কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা একটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও বটে। কাজেই সন্তানদেরকে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে এ উভয় দিক দিয়েই যোগ্য করে তোলা পিতামাতার কর্তব্য। মনীষী আবূ কালাবা বলেছেনঃ
(আরবী)
যে লোক তার ছোট ছোট শিশু সন্তানদের জন্যে এমনভাবে অর্থ ব্যয় করে, যাতে করে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেবেন, তাদের বৈষয়িক উপকার দেবেন, সে লোক অপেক্ষা পুরস্কার পাওয়ার দিক দিয়ে অধিক অগ্রসর আর কেউ হতে পারে না।
অর্থাৎ সন্তানদের এমন গুণে তৈরী করে তোলা, যা দ্বারা আল্লাহ তাদের অনেক উপকার দেবেন এবং জীবন যাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী ব্যাপার সমূহে তাদেরকে অন্যদের থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও মুখাপেক্ষীহীন করে দেবেন। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর কাজ এবং এ কাজ যে করবে আল্লাহ তা’আলা তাকে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার দান করবেন। এজন্যেই রাসূলে করীম (ﷺ) বলেছেনঃ
(আরবী)
জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক স্ত্রী-পুরুষ মুসলিমের পক্ষেই ফরয।
বস্তুত ছেলেমেয়ে হচ্ছে পিতামাতার কাছে আল্লাহর আমানত। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, মন ও মগজ, চরিত্র ও অভ্যাস, জীবনযাত্রার ধারা ইত্যাদিকে সঠিকরূপে গড়ে তোলার জন্যে চেষ্টা করা পিতামাতারই কর্তব্য। এমতাবস্থায় সন্তান-সন্ততিকে যদি এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা না হয়, যার ফলে তাদের মন-মগজ সুষ্ঠুরূপে গড়ে উঠতে পারে, তাদের নৈতিক চরিত্র উন্নত হতে পারে, দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান এবং তদনুযায়ী জীবন যাপন ও কাজকর্ম সম্পাদনে পূর্ণ আগ্রহ ও উৎসাহ বৃদ্ধি পেতে পারে, তাহলে কিছুতেই এ আমানতের হক আদায় হতে পারে না, নিজেদেরও সন্তান-সন্ততিকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
১. সন্তানের প্রথম অধিকার হচ্ছে তার খানাপিনা, থাকা ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা –বিশেষ করে যদ্দিন সে নিজস্বভাবে উপার্জন করতে অক্ষম থাকবে। নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ
(আরবী)
যাদের ভরণ-পোষনের দায়িত্ব কারো ওপর বর্তে, সে যদি তা যথাযথভাবে পালন না করে তাদের ধ্বংস করে, তাহলে এতেই তার বড় গুনাহ হবে।
অপর হাদীসের ভাষা নিম্নরূপঃ
(আরবী)
যাদের খাওয়া-পরার কর্তৃত্ব একজনের হাতে, সে যদি তা বন্ধ করে দেয়, তবে এ কাজই তার বড় গুণাহ হওয়ার জন্যে যথেষ্ট।
অন্য কথায়, এ গুণাহই তার ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট। কেননা তারা তারই বংশ ও পরিবার-পরিজন। তাদের সব কিছু তাদেরই ওপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় সে যদি তাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থাপনার কাজ না করে, তাহলে সে লোকগুলো ভয়ানক বিপদে পড়ে যাবে। তাদের জীবন হঠাৎ করে কঠিন অসুবিধার সম্মুখীন হবে। (আরবী)
সন্তানদের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করাকে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত মানুষ তার মনের স্বাভাবিক নির্দেশেই এ কাজ করে থাকে। এজন্যে বিশেষ কোনো যুক্তি বা দলীল পেশ করার প্রয়োজন করে না। তবু এ পর্যায়ে নিম্নোক্ত হাদীস উল্লেখ করা যেতে পারে।
(আরবী)
ব্যক্তি যে অর্থ ব্যয় করে, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম অর্থ হচ্ছে সেটি, যা সে ব্যয় করে তার পরিবারবর্গের জন্যে, যা সে ব্যয় করে জিহাদের ঘোড়া সাজানোর জন্যে এবং যা সে ব্যয় করে জিহাদের পথে সঙ্গী-সাথীদের জন্যে। এ হাদীসে প্রথমেই সন্তান-সন্ততির জন্যে যে অর্থ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে তাই হচ্ছে সর্বোত্তম অর্থ –টাকা-পয়সা।
সন্তান বিশেষ করে পূর্ণ বয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরও তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পিতামাতার ওপর বর্তে কিনা –এ এক কঠিন প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে অধিকাংশ মনীষীর মত এই যে, পুত্র সন্তানের পূর্ণ বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত এবং কন্যা সন্তানের বিয়ে সম্পূর্ণ হওয়া পর্যণ্তই তাদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা পিতার কর্তব্য। অবশ্য এক শ্রেণীর মনীষীর মত এই যে, সন্তানের পূর্ণ বয়স্ক হওয়া এবং তাদের প্রয়োজন পরিমাণ ধন-সম্পত্তি অর্জিত হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব পিতার ওপরই অর্পিত থাকবে। (আরবী)
২. শিক্ষার জন্যে অর্থ ব্যয়ঃ ছেলেমেয়েদের কেবল খাওয়া পরা দিয়ে লালন-পালন করলেই পিতার দায়িত্ব পালন হয় না। বরং তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলবার জন্যেও অর্থ ব্যয় করা কর্তব্য। অতীতে শিক্ষা ছিল একটি ধর্মীয় কর্তব্য; কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা একটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও বটে। কাজেই সন্তানদেরকে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে এ উভয় দিক দিয়েই যোগ্য করে তোলা পিতামাতার কর্তব্য। মনীষী আবূ কালাবা বলেছেনঃ
(আরবী)
যে লোক তার ছোট ছোট শিশু সন্তানদের জন্যে এমনভাবে অর্থ ব্যয় করে, যাতে করে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেবেন, তাদের বৈষয়িক উপকার দেবেন, সে লোক অপেক্ষা পুরস্কার পাওয়ার দিক দিয়ে অধিক অগ্রসর আর কেউ হতে পারে না।
অর্থাৎ সন্তানদের এমন গুণে তৈরী করে তোলা, যা দ্বারা আল্লাহ তাদের অনেক উপকার দেবেন এবং জীবন যাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী ব্যাপার সমূহে তাদেরকে অন্যদের থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও মুখাপেক্ষীহীন করে দেবেন। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর কাজ এবং এ কাজ যে করবে আল্লাহ তা’আলা তাকে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার দান করবেন। এজন্যেই রাসূলে করীম (ﷺ) বলেছেনঃ
(আরবী)
জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক স্ত্রী-পুরুষ মুসলিমের পক্ষেই ফরয।
বস্তুত ছেলেমেয়ে হচ্ছে পিতামাতার কাছে আল্লাহর আমানত। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, মন ও মগজ, চরিত্র ও অভ্যাস, জীবনযাত্রার ধারা ইত্যাদিকে সঠিকরূপে গড়ে তোলার জন্যে চেষ্টা করা পিতামাতারই কর্তব্য। এমতাবস্থায় সন্তান-সন্ততিকে যদি এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা না হয়, যার ফলে তাদের মন-মগজ সুষ্ঠুরূপে গড়ে উঠতে পারে, তাদের নৈতিক চরিত্র উন্নত হতে পারে, দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান এবং তদনুযায়ী জীবন যাপন ও কাজকর্ম সম্পাদনে পূর্ণ আগ্রহ ও উৎসাহ বৃদ্ধি পেতে পারে, তাহলে কিছুতেই এ আমানতের হক আদায় হতে পারে না, নিজেদেরও সন্তান-সন্ততিকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।