১
পরিবার ও পারিবারিক জীবন
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯০
মানব প্রকৃতি ও একাধিক স্ত্রী গ্রহণ
এ পর্যায়ে মূল বিষয়ের যথার্থতা বোঝাবার জন্যে আমাদের অবশ্যই মানব প্রকৃতির অধ্যয়ন করতে হবে। দেখতে হবে মানব প্রকৃতি কি এক বিয়ের পক্ষে, না তার কোথাও একাধিক বিয়ের সামান্য দাবিও নিহিত রয়েছে?
প্রকৃতি –তা মানুষেরই হোক আর জন্তু-জানোয়ারের হোক সবই একাধিক বিয়ের কামনা-আকাঙ্ক্ষায় ভরপুর। আমাদের কাছাকাছি যেসব গরু-মহিষ-ছাগলের পাল রয়েছে তার দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাব, বহু সংখ্যক গাভী, মহিষ, আর ছাগীর জন্যে দু একটি করে ষাঁড়, মহিষ আর পাঁঠা থাকে। আর স্ত্রী জাতীয় জন্তুগুলো তাদেরই কাছ থেকে গর্ভ ধারণ করে। যে মোরগের ধ্বনি ঘরে-দালানে মুখরিত হয়ে ওঠে, তাও বহু সংখ্যক মুরগীর মধ্যে একটি দুটি হয়ে থাকে মাত্র। আর এ মোরগ একটি ঘরে যতগুলো মুরগী নিয়ে বসবাস করে, সেখানে অপর কোন মোরগকে বরদাশত করতে কখনও রাজি হয় না। অন্তত সেখানকার মুরগীগুলোর প্রতি অপর মোরগকে কোনো প্রেম প্রকাশ করতে দিতে রাজি হয় না। জঙ্গলের অধিবাসী জন্তুদের জীবন পর্যবেক্ষণ করলেও দেখা যাবে, তাদের কোনো কোনোটি এক স্ত্রী গ্রহণে অভ্যস্ত থাকলেও বহু স্ত্রী গ্রহণে অভ্যস্ত জন্তুর সংখ্যা অনেক বেশী।
মানব প্রকৃতিটা নিয়েই বিচার করে দেখুন, আপানর মন সাক্ষ্য দেবে যে, মানব প্রকৃতিতে বহু স্ত্রী গ্রহণের প্রতি প্রবণতা অনেক বেশি এবং তীব্র। এক স্ত্রী গ্রহণের পরও কি কোনো যুবক এমন পাওয়া যাবে যে, অপর কোনো সুন্দরী যুবতী নারীকে দেখে আকৃষ্ট হয় না? তার মধ্যে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়না? সে যুবতী কনাকে পাবার জন্যে প্রেম ভালোবাসার বন্যা তার হৃদয়-মনে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে না? সে যদি নৈতিকতা ও সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণে কার্যত কিছু না করে, তবুও এক স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও অপর নারীর প্রতি তার মনে যে আকর্ষণ জাগ্রত হয় তা কে অস্বীকার করতে পারে? আমরা রাত দিন দেখতে পাচ্ছি –রাস্তাঘটাতে কোনো সুন্দরী-রূপসী যুবতী যখন জাঁকজমক আর চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক পরে বের হয়, তখন চারদিকে থেকে পুরুষরা এমনভাবে হা করে অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকে যে, মনে হয়, আজ পর্যন্ত কোনো মেয়েলোক তারা পায়নি, আজই প্রথম দেখছে এবং দেখে শুধু পুলকিতই হচ্ছে না, উদভ্রান্তও হচ্ছে। এ পুরুষদের মধ্যে কেবল অবিবাহিত তরুণরাই থাকে না, বিবাহিত, পূর্ণ বয়স্ক এমনকি ছেলেমেয়ে বাপদের সংখ্যাও এতে কম থাকে না। এদের মধ্যে এমন লোকও থাকে,যারা একসঙ্গে একাধিক বিয়ে করাকে অকাট্য যুক্তির ভিত্তিতে সঙ্গত কাজ বলে মেনে নিতে রাজি হবে না; কিন্তু বাহ্যিক ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে তারা পরস্ত্রী ভোগ করার সুযোগ পেলে নিজ স্ত্রীকে বঞ্চিত করেও তা করতে একটুও দ্বিধাবোধ করবে না। এ থেকে কি একথাই প্রমাণিত হয় না যে, মানব প্রকৃতি এক স্ত্রী দিয়ে সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত হয়ে থাকতে কিছুতেই রাজি নয়? বাহ্যত এক স্ত্রী গ্রহণ করে কার্যত বহু স্ত্রী ভোগ করার ঘটনা এক স্ত্রীতে বিশ্বাসী সমাজে কিছুমাত্র বিরল নয়। বস্তুতই যদি মানব প্রকৃতি এক স্ত্রীতে তৃপ্ত সন্তুষ্ট হতো, তাহলে বিবাহিত পুরুষ নিশ্চয়ই অপর স্ত্রী দেখে কিছুমাত্র লালসা বোধ করত না। নিজের মধ্যে এবং নিজের স্ত্রী ছাড়া অপর নারীর প্রতি ভুলক্রমেও কখনও তাকাত না। কিন্তু তা আদৌ সত্য নয়।
প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রকৃতি ও অধিকাংশ পুরুষের দেহের ঐকান্তিক দাবি হচ্ছে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ, একজন মাত্র স্ত্রী দিয়ে অতৃপ্ত। এজন্যে মানুষের ইতিহাসে এমন কোনো পর্যায় আসেনি, যখন একাধিক স্ত্রী গ্রহণের রেওয়াজ চালু হতে দেখা যায়নি। বহু স্ত্রী প্রবণতা অপূর্ণ ও অতৃপ্ত থাকার কারণেই আমরা দেখতে পাই –এক স্ত্রী গ্রহণ আইন যেসব দেশে জোর করে চালু করা হয়েছে, সেখানে বহু স্ত্রী ভোগের রেওয়াজ অপরাপর দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তবে পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, কোথাও একাধিক স্ত্রী গ্রহণ আইনসম্মত আর কোথাও বে-আইনীভাবে আইনকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে বহু স্ত্রী ভোগের মাধ্যমে লালসার বন্যা প্রবাহিত করা হয়। এই কারণেই নিজের স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অপর নারী-বন্ধু গ্রহণ করা হয়। নারী-পুরুষের মিলিত খেল-তামাসা, ক্লাব, নাচ, থিয়েটার, আসর বৈঠক ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন হয়েছে সর্বত্র। এ সবই হচ্ছে এক স্ত্রী গ্রহনের ছত্রছায়ায় বহু স্ত্রীর রূপ ও যৌবন ভোগ করার অতি আধুনিক ব্যবস্থা। হাটে-বাজারে ও শহরে-বন্দরে এই যে, বেশ্যালয়গুলো দাঁড়িয়ে আছে, চালু রয়েছে, এর মূলেই সেই বহু স্ত্রী সম্ভোগ লিপ্সার পরিতৃপ্তিই চরম উদ্দেশ্য হয়ে রয়েছে। এজন্যেই আজ প্রাইভেট সেক্রেটারী, টাইপিস্ট-কাম-স্ট্যানোগ্রাফার, পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট, অফিস-ক্লার্ক, এয়ার হোস্টেস, গেস্ট রিসিভার, টেলিফোন অপারেটর, রেডিও এ্যানাউন্সার, রেডিও ও সিনেমা আর্টিস্ট –প্রভৃতি ক্ষেত্রে সুন্দরী যুবতী নারীদের নিয়োগ করতে দেখা যায়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষার প্রচলন ও শিক্ষয়িত্রী নিয়োগও এজন্যেই হয়ে থাকে। এভাবে বর্তমানে পুরুষের বহু স্ত্রী ভোগের এ প্রকৃতিগত প্রবণতার তাণ্ডব নৃত্য দেখা যায় আধুনিক সভ্যতার সর্বত্র।
বস্তুত মানুষের জীবন ও মনস্তত্ব অত্যন্ত জটিল, সমস্যাসংকুল, অত্যন্ত ঠুনকো। একাধিক স্ত্রী গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুরুষের মনের দিক দিয়ে দেখা যেতে পারে, দেখা দিতে পারে দেহের ও পৌরুষের দিক দিয়ে। দেখা দিতে পারে নিতান্ত পারিবারিক ও বৈষয়িক কারণে। যার প্রথম স্ত্রী পছন্দনীয় নয় বলে সে তাকে একনিষ্ঠভাবে ভালোবাসতে পারে নি কিংবা যাকে দিয়ে তা মন পূর্ণ মাত্রায় পরিতৃপ্ত নয়, দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন, ভালোবাসার প্রয়োজন। যার প্রথম স্ত্রী রুগ্না, স্বামীর দৈহিক দাবি পরিপূরণে অক্ষম দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার দৈহিক ও জৈবিক প্রয়োজন –যৌন প্রয়োজন। যার প্রথম স্ত্রী তাকে কোনো উত্তরাধিকারী উপহার দিতে পারেনি, বন্ধ্যা, সন্তান প্রসবে অক্ষম কিংবা যার সন্তান হয়ে মারা গিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার পারিবারিক প্রয়োজন। কোনো শ্রমজীবী মনে করতে পারে যে, তার আর একজন স্ত্রী হলে শ্রমের কাজে তাকে সাহায্য করতে পারবে, এমতাবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার অর্থনৈতিক প্রয়োজন। এভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরো অনেক প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যার দরুন একজন ব্যক্তি এক স্ত্রী বর্তমান থাকতে আরো স্ত্রী গ্রহণে বাধ্য হতে পারে। যদি তা না করে কিংবা আইন করে এ পথে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়, তাহলে হয় তাকে অবৈধ পন্থার আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে, রীতিমত ব্যভিচারে লিপ্ত হতে হবে নতুবা পারিবারিক জীবনের মাধুর্য থেকে চিরবঞ্চিত হয়ে থাকতে হবে অথবা বংশের প্রদীপ এখানেই শেষ হয়ে যাবে। এক সঙ্গে দুই, তিন বা চার জন পর্যন্ত স্ত্রী গ্রহণ ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। কিন্তু এ যে কত মর্মান্তিক, কত হৃদয়বিদারক, তা প্রকাশ করা যায় না। এর ফলে কত নারী আর কত পুরুষের জীবন যে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, চুরমার হয়ে যায় কত দম্পতির আশা-আকাঙ্ক্ষা, তার কোনো হিসেব-নিকেশ করা সম্ভব নয়।
প্রকৃতি –তা মানুষেরই হোক আর জন্তু-জানোয়ারের হোক সবই একাধিক বিয়ের কামনা-আকাঙ্ক্ষায় ভরপুর। আমাদের কাছাকাছি যেসব গরু-মহিষ-ছাগলের পাল রয়েছে তার দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাব, বহু সংখ্যক গাভী, মহিষ, আর ছাগীর জন্যে দু একটি করে ষাঁড়, মহিষ আর পাঁঠা থাকে। আর স্ত্রী জাতীয় জন্তুগুলো তাদেরই কাছ থেকে গর্ভ ধারণ করে। যে মোরগের ধ্বনি ঘরে-দালানে মুখরিত হয়ে ওঠে, তাও বহু সংখ্যক মুরগীর মধ্যে একটি দুটি হয়ে থাকে মাত্র। আর এ মোরগ একটি ঘরে যতগুলো মুরগী নিয়ে বসবাস করে, সেখানে অপর কোন মোরগকে বরদাশত করতে কখনও রাজি হয় না। অন্তত সেখানকার মুরগীগুলোর প্রতি অপর মোরগকে কোনো প্রেম প্রকাশ করতে দিতে রাজি হয় না। জঙ্গলের অধিবাসী জন্তুদের জীবন পর্যবেক্ষণ করলেও দেখা যাবে, তাদের কোনো কোনোটি এক স্ত্রী গ্রহণে অভ্যস্ত থাকলেও বহু স্ত্রী গ্রহণে অভ্যস্ত জন্তুর সংখ্যা অনেক বেশী।
মানব প্রকৃতিটা নিয়েই বিচার করে দেখুন, আপানর মন সাক্ষ্য দেবে যে, মানব প্রকৃতিতে বহু স্ত্রী গ্রহণের প্রতি প্রবণতা অনেক বেশি এবং তীব্র। এক স্ত্রী গ্রহণের পরও কি কোনো যুবক এমন পাওয়া যাবে যে, অপর কোনো সুন্দরী যুবতী নারীকে দেখে আকৃষ্ট হয় না? তার মধ্যে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়না? সে যুবতী কনাকে পাবার জন্যে প্রেম ভালোবাসার বন্যা তার হৃদয়-মনে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে না? সে যদি নৈতিকতা ও সামাজিক বাধ্যবাধকতার কারণে কার্যত কিছু না করে, তবুও এক স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও অপর নারীর প্রতি তার মনে যে আকর্ষণ জাগ্রত হয় তা কে অস্বীকার করতে পারে? আমরা রাত দিন দেখতে পাচ্ছি –রাস্তাঘটাতে কোনো সুন্দরী-রূপসী যুবতী যখন জাঁকজমক আর চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক পরে বের হয়, তখন চারদিকে থেকে পুরুষরা এমনভাবে হা করে অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকে যে, মনে হয়, আজ পর্যন্ত কোনো মেয়েলোক তারা পায়নি, আজই প্রথম দেখছে এবং দেখে শুধু পুলকিতই হচ্ছে না, উদভ্রান্তও হচ্ছে। এ পুরুষদের মধ্যে কেবল অবিবাহিত তরুণরাই থাকে না, বিবাহিত, পূর্ণ বয়স্ক এমনকি ছেলেমেয়ে বাপদের সংখ্যাও এতে কম থাকে না। এদের মধ্যে এমন লোকও থাকে,যারা একসঙ্গে একাধিক বিয়ে করাকে অকাট্য যুক্তির ভিত্তিতে সঙ্গত কাজ বলে মেনে নিতে রাজি হবে না; কিন্তু বাহ্যিক ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে তারা পরস্ত্রী ভোগ করার সুযোগ পেলে নিজ স্ত্রীকে বঞ্চিত করেও তা করতে একটুও দ্বিধাবোধ করবে না। এ থেকে কি একথাই প্রমাণিত হয় না যে, মানব প্রকৃতি এক স্ত্রী দিয়ে সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত হয়ে থাকতে কিছুতেই রাজি নয়? বাহ্যত এক স্ত্রী গ্রহণ করে কার্যত বহু স্ত্রী ভোগ করার ঘটনা এক স্ত্রীতে বিশ্বাসী সমাজে কিছুমাত্র বিরল নয়। বস্তুতই যদি মানব প্রকৃতি এক স্ত্রীতে তৃপ্ত সন্তুষ্ট হতো, তাহলে বিবাহিত পুরুষ নিশ্চয়ই অপর স্ত্রী দেখে কিছুমাত্র লালসা বোধ করত না। নিজের মধ্যে এবং নিজের স্ত্রী ছাড়া অপর নারীর প্রতি ভুলক্রমেও কখনও তাকাত না। কিন্তু তা আদৌ সত্য নয়।
প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রকৃতি ও অধিকাংশ পুরুষের দেহের ঐকান্তিক দাবি হচ্ছে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ, একজন মাত্র স্ত্রী দিয়ে অতৃপ্ত। এজন্যে মানুষের ইতিহাসে এমন কোনো পর্যায় আসেনি, যখন একাধিক স্ত্রী গ্রহণের রেওয়াজ চালু হতে দেখা যায়নি। বহু স্ত্রী প্রবণতা অপূর্ণ ও অতৃপ্ত থাকার কারণেই আমরা দেখতে পাই –এক স্ত্রী গ্রহণ আইন যেসব দেশে জোর করে চালু করা হয়েছে, সেখানে বহু স্ত্রী ভোগের রেওয়াজ অপরাপর দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তবে পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, কোথাও একাধিক স্ত্রী গ্রহণ আইনসম্মত আর কোথাও বে-আইনীভাবে আইনকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে বহু স্ত্রী ভোগের মাধ্যমে লালসার বন্যা প্রবাহিত করা হয়। এই কারণেই নিজের স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অপর নারী-বন্ধু গ্রহণ করা হয়। নারী-পুরুষের মিলিত খেল-তামাসা, ক্লাব, নাচ, থিয়েটার, আসর বৈঠক ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন হয়েছে সর্বত্র। এ সবই হচ্ছে এক স্ত্রী গ্রহনের ছত্রছায়ায় বহু স্ত্রীর রূপ ও যৌবন ভোগ করার অতি আধুনিক ব্যবস্থা। হাটে-বাজারে ও শহরে-বন্দরে এই যে, বেশ্যালয়গুলো দাঁড়িয়ে আছে, চালু রয়েছে, এর মূলেই সেই বহু স্ত্রী সম্ভোগ লিপ্সার পরিতৃপ্তিই চরম উদ্দেশ্য হয়ে রয়েছে। এজন্যেই আজ প্রাইভেট সেক্রেটারী, টাইপিস্ট-কাম-স্ট্যানোগ্রাফার, পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট, অফিস-ক্লার্ক, এয়ার হোস্টেস, গেস্ট রিসিভার, টেলিফোন অপারেটর, রেডিও এ্যানাউন্সার, রেডিও ও সিনেমা আর্টিস্ট –প্রভৃতি ক্ষেত্রে সুন্দরী যুবতী নারীদের নিয়োগ করতে দেখা যায়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষার প্রচলন ও শিক্ষয়িত্রী নিয়োগও এজন্যেই হয়ে থাকে। এভাবে বর্তমানে পুরুষের বহু স্ত্রী ভোগের এ প্রকৃতিগত প্রবণতার তাণ্ডব নৃত্য দেখা যায় আধুনিক সভ্যতার সর্বত্র।
বস্তুত মানুষের জীবন ও মনস্তত্ব অত্যন্ত জটিল, সমস্যাসংকুল, অত্যন্ত ঠুনকো। একাধিক স্ত্রী গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুরুষের মনের দিক দিয়ে দেখা যেতে পারে, দেখা দিতে পারে দেহের ও পৌরুষের দিক দিয়ে। দেখা দিতে পারে নিতান্ত পারিবারিক ও বৈষয়িক কারণে। যার প্রথম স্ত্রী পছন্দনীয় নয় বলে সে তাকে একনিষ্ঠভাবে ভালোবাসতে পারে নি কিংবা যাকে দিয়ে তা মন পূর্ণ মাত্রায় পরিতৃপ্ত নয়, দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন, ভালোবাসার প্রয়োজন। যার প্রথম স্ত্রী রুগ্না, স্বামীর দৈহিক দাবি পরিপূরণে অক্ষম দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার দৈহিক ও জৈবিক প্রয়োজন –যৌন প্রয়োজন। যার প্রথম স্ত্রী তাকে কোনো উত্তরাধিকারী উপহার দিতে পারেনি, বন্ধ্যা, সন্তান প্রসবে অক্ষম কিংবা যার সন্তান হয়ে মারা গিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার পারিবারিক প্রয়োজন। কোনো শ্রমজীবী মনে করতে পারে যে, তার আর একজন স্ত্রী হলে শ্রমের কাজে তাকে সাহায্য করতে পারবে, এমতাবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তার অর্থনৈতিক প্রয়োজন। এভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরো অনেক প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যার দরুন একজন ব্যক্তি এক স্ত্রী বর্তমান থাকতে আরো স্ত্রী গ্রহণে বাধ্য হতে পারে। যদি তা না করে কিংবা আইন করে এ পথে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়, তাহলে হয় তাকে অবৈধ পন্থার আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে, রীতিমত ব্যভিচারে লিপ্ত হতে হবে নতুবা পারিবারিক জীবনের মাধুর্য থেকে চিরবঞ্চিত হয়ে থাকতে হবে অথবা বংশের প্রদীপ এখানেই শেষ হয়ে যাবে। এক সঙ্গে দুই, তিন বা চার জন পর্যন্ত স্ত্রী গ্রহণ ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। কিন্তু এ যে কত মর্মান্তিক, কত হৃদয়বিদারক, তা প্রকাশ করা যায় না। এর ফলে কত নারী আর কত পুরুষের জীবন যে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, চুরমার হয়ে যায় কত দম্পতির আশা-আকাঙ্ক্ষা, তার কোনো হিসেব-নিকেশ করা সম্ভব নয়।