hadith book logo

পরিবার ও পারিবারিক জীবন

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৫

স্বামী-স্ত্রীর লজ্জাশীলতা

পরিবারিক জীবনের পবিত্রতা ও সুস্থতা রক্ষার জন্যে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বপ্রথম পালনীয় নিয়ম হচ্ছে প্রত্যেকের সহজতা লজ্জা-শরমকে যথাযথভাবে জাগ্রত রাখা।

স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই পবিত্র লজ্জা-শরমের ভূষণে ভূষিত হওয়া আবশ্যক। কেননা স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত জীবনধারার গতি অব্যাহত রাখা –উভয়কে উভয়ের জন্যে সুরক্ষিত ও পবিত্র রাখবার জন্যে এ জিনিস একান্তই অপরিহার্য। স্বামীর যদি লজ্জা-শরম থাকে, তবে তার নৈতিক চরিত্রের দুর্গ-প্রাকার চিরদিন দুর্ভেদ্যই থাকতে পারে, কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না ভেদ করে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে কলুষ ঢুকিয়ে দেয়া, ভাঙ্গন ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি করা। স্ত্রীর বেলায়ও একথাই সত্য।

পারিবারিক জীবনের বন্ধনকে অটুট রাখার জন্যে এ লজ্জা-শরম বস্তুতই মহামূল্য সম্পদ। এসম্পদ যথাযথভাবে বর্তমান থাকলে উভয়ের প্রতি তীব্র আকর্ষণ স্থায়ীভাবে বর্তমান থাকবে। স্বামী-স্ত্রীর অতলান্ত প্রেম-মাধুর্যে দেখা দেবে না কোনো ছিদ্র-ফাটল। একজন অপরজনের প্রতি বিরাগভাজন হবে না কখনো। এ কারণেই ইসলামে লজ্জা-শরমের গুরুত্ব অপরিসীম। নবী করীম (ষ) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেনঃ

(আরবী)

নিশ্চিতই সত্য, লজ্জা-শরম ঈমানেরই বিষয়।

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিজে লজ্জা-শরম এমন একটি বিশেষ গুণ, যা মানুষকে সকল প্রকার গর্হিত ও মানবতা-বিরোধী কাজ পরিহার করতে এবং তা থেকে পুরো মাত্রায় বিরত থাকতে উদ্ধুদ্ধ করে। এজন্যে নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ

(আরবী)))

লজ্জা-শরম বিপুল কল্যাণই নিয়ে আসে, তা থেকে কোনো অকল্যাণের আশংকা নেই।

মানুষের কাজে-কর্মে, চলায়-বলায়, জীবনের সব স্তরে ও সব ব্যাপারেই এ হচ্ছে এক অতি প্রয়োজনীয় গুণ। এ গুণই হচ্ছে মানুষে ও পশুতে পার্থক্যের ভিত্তি। এ গুণ না থাকলে মানুষে পশুতে কোন পার্থক্য থাকে না, কার্যত মানুষ পশুর স্তরে নেমে আসে। পশুর মতই নির্লজ্জ হয়ে কাজ করতে শুরু করে। রাসূলে করীম (ﷺ) এ লজ্জাহীনতার মারাত্মক পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ

(আরবী)

লজ্জাই যদি তোমার না থাকল, তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার।

অপর এক হাদীসে এ কথাটির গুরুত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বলা হয়েছেঃ

(আরবী)))

লজ্জা-শরম নিতান্তই ঈমানের ব্যাপার। আর ঈমান বেহেশতে যাওয়ার চাবিকাঠি। পক্ষান্তরে লজ্জাহীনতা হচ্ছে জুলুম, আর জুলুমের কারণেই একজনকে দোযখে যেতে হয়।

মোটকথা, পারিবারিক জীবনে এ অত্যন্ত জরুরী গুণ। এ গুণ না থাকলে এ ছিদ্রপথ দিয়ে চরিত্র-বিরোধী বহু রকমের অসচ্চরিত্রতা ও বদ-অভ্যাস প্রবেশ করে দাম্পত্য জীবনের কিশতীর যে কোন সময়ে ভরাডুবি ঘটিয়ে দিতে পারে সংসারের মহাসমুদ্রে।