১
পরিবার ও পারিবারিক জীবন
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫১
জুড়ি গ্রহণের ব্যাপারে বর-কনের প্রতি উপদেশ
ইসলামী শরীয়তের ছেলে বা মেয়েকে তার নিজের জুড়ি গ্রহণের ব্যাপারে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্যে কিছু কিছু উপদেশ দেয়া হয়েছে। তার মধ্য থেকে কয়েকটি জরুরী কথা এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছেঃ
প্রথমত বলা হয়েছে, পূর্বে অবিবাহিত ছেলে বা মেয়ে বাছাই করে নিতে। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (র) বলেন, নবী করীম (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ (আরবী) –তুমি কি বিয়ে করেছ? জবাবে আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘সাইয়েবা’ না ‘বাকারা’ –মানে পূর্বে-বিবাহিতা মেয়ে বিয়ে করেছ, না পূর্বের অবিবাহিতা কোনো মেয়ে? তখন আমি বললাম, ‘সাইয়েবা’ বিয়ে করেছি।তখন তিনি বললেনঃ
(আরবী)
বাকারা অর্থাৎ কোনো পূর্বে-অবিবাহিতা মেয়েকে কেন বিয়ে করলে না? তাহলে তুমি তাকে নিয়ে আনন্দের খেলায় মত্ত হতে পারতে, আর সেও তোমাকে নিয়ে।
মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত হাদীসটির ভাষাঃ
(আরবী)
‘বাকারা’ মেয়ে বিয়ে করলে না কেন? তাহলে পারস্পরিক আনন্দ-স্ফুর্তি ও হাসি খুশীতে জীবন কাটাতে পারতে।
এ কথার জবাবে হযরত জাবির ‘সাইয়েবা’ বিয়ে করার কারণ রাসূলের খেদমতে বর্ণনা করেছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, রাসূলে করীম (ﷺ) সাধারণত এমন মেয়ে বিয়ে করাই পছন্দ করেন, যার পূর্বে কোনো বিয়ে হয়নি। আরবী ভাষায় ‘বাকারা’ বা ‘বাকের’ বলা হয় এমন মেয়েকেঃ
(আরবী)
যার পূর্বে বিয়ে হয়নি, কেউ তার স্বামী হয়নি এবং কারোর সাথেই হয়নি কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন।
আর ‘সাইয়েবা’ হচ্ছে এর বিপরীত অর্থাৎ যার বিয়ে হয়েছিল। যার স্বামী ছিল এবং তার সাথে যৌন সম্পর্কও স্থাপিত হয়েছিল।
তার মানে হচ্ছে দ্বীনদারীর সঙ্গে রূপ ও সৌন্দর্যের লাভের জন্যে চেষ্টা করাও আবশ্যক্
কিন্তু উপরের কথা থেকে একথা যেন কেউ মনে না করেন যে, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা মেয়েকে বিয়ে করা বুঝি ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত বা নাজায়েয। কেননা তা আদৌ ঠিক নয়। নবী করীম (ﷺ) ও সাহাবায়ে কিরামের অনেকেই বিধবা ও পরিত্যক্তা মহিলাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের পূর্ন মর্যাদা ও অধিকার দিয়ে শান্তিরূপে দাম্পত্য জীবন যাপন করেছেন।
বিশেষত ও সুযোগ-সুবিধার দৃষ্টিতে অনেক সময় ‘বাকারা’ মেয়ের পরিবর্তে ‘সাইয়েবা’ মেয়েকে বিয়ে করা অধিকতর যুক্তিবহ। রাসূলে করীম (ﷺ)-এর কাছ থেকেও এর সমর্থন পাওয়া গিয়েছে। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহর ব্যাপারটিই এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তাঁকে যখন রাসূলে করীম (ﷺ) বিয়ে করেছ কিনা এবং কি ধরনের মেয়ে বিয়ে করেছ জিজ্ঞেস করলেন তখন জবাবে তিনি বললেন, ‘সাইয়েবা’ –‘পূর্ব-বিবাহিতা মেয়ে’। রাসূলে করীম (ﷺ) এ ব্যাপারে কিছুটা আপত্তি ও নিরুৎসাহ প্রকাশ করলে তখন তার কারণ প্রদর্শনস্বরূপ হযরত জাবির (রা) বললেনঃ
(আরবী)
আমার পিতা ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং রেখে গেছেন সাতটি কন্যা। এমতাবস্থায় তাদের সাথে এনে এমন আর একটি মেয়েকে একত্র করা আমি পছন্দ করিনি, (যে হবে সংসার-অনভিজ্ঞা, যে নিজ হাতে কাজ কর্ম করবে না –করতে পারবে না। বরং দরকার ছিল এমন এক বয়স্কা মেয়েলোকের, যে তাদের (পিতার কন্যাদের) চুল আঁচড়ে দেবে এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য যাবতীয় কাজ-কর্ম করে দেবে।
এ বিবরণ শুনে নবী করীম (ﷺ) বললেঃ (আরবী) ‘তুমি ঠিকই করেছ’। অপর এক বর্ণনায় রাসূলের জবাব ছিলঃ (আরবী) ‘হ্যাঁ, তুমি যা ভালো মনে করেছ তা ঠিকই হয়েছে’। (মুসনাদে আহমাদ)
নবী করীম (ﷺ) বিশেষ গুরুত্ব সহকারে এই পর্যায়ে আর একটি উপদেশ দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে অধিক সন্তানবতী ও অধিক প্রেমময়ী মেয়েলোক বিয়ে করা।
এক ব্যক্তি রাসূলে করীম (ﷺ)-এর খেদতে হাজির হয়ে জিজ্ঞেস করলঃ
(আরবী)
উচ্চ বংশজাত ও সুন্দরী একটি মেয়ে পেয়েছি, কিন্তু দোষ হচ্চে এই যে, সে সন্তান প্রসব করে না (বন্ধ্যা), তাকে কি আমি বিয়ে করব?
জবাবে রাসূলে করীম (ﷺ) বললেনঃ ‘না’। লোকটি তার পরও দুই-তিনবার এসে সেই একই প্রম্ন জিজ্ঞেস করে এবং প্রত্যেকবারই তিনি নিষেধ করেন। শেষবারে রাসূল (ﷺ) বললেনঃ
(আরবী)
তোমরা বিয়ে করবে প্রেম-ভালোবাসাময়ী ও অধিক সন্তানবতী মেয়েলোককে। কেননা আমি তোমাদের বিপুল সংখ্যা নিয়ে গৌরব করব।
অপর একটি বর্ণনায় রাসূলের কথাটির ভাষা এইঃ
(আরবী)
তোমরা বিয়ে করো অধিক প্রেম-প্রীতিসম্পন্না ও বেশি সংখ্যক সন্তান দাত্রী মেয়ে। কেনান আমি কেয়ামতের দিন অন্যান্য নবীর মুকাবিলায় তোমাদের বিপুল সংখ্যা নিয়ে গৌরব করব।
প্রথমত বলা হয়েছে, পূর্বে অবিবাহিত ছেলে বা মেয়ে বাছাই করে নিতে। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (র) বলেন, নবী করীম (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ (আরবী) –তুমি কি বিয়ে করেছ? জবাবে আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘সাইয়েবা’ না ‘বাকারা’ –মানে পূর্বে-বিবাহিতা মেয়ে বিয়ে করেছ, না পূর্বের অবিবাহিতা কোনো মেয়ে? তখন আমি বললাম, ‘সাইয়েবা’ বিয়ে করেছি।তখন তিনি বললেনঃ
(আরবী)
বাকারা অর্থাৎ কোনো পূর্বে-অবিবাহিতা মেয়েকে কেন বিয়ে করলে না? তাহলে তুমি তাকে নিয়ে আনন্দের খেলায় মত্ত হতে পারতে, আর সেও তোমাকে নিয়ে।
মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত হাদীসটির ভাষাঃ
(আরবী)
‘বাকারা’ মেয়ে বিয়ে করলে না কেন? তাহলে পারস্পরিক আনন্দ-স্ফুর্তি ও হাসি খুশীতে জীবন কাটাতে পারতে।
এ কথার জবাবে হযরত জাবির ‘সাইয়েবা’ বিয়ে করার কারণ রাসূলের খেদমতে বর্ণনা করেছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, রাসূলে করীম (ﷺ) সাধারণত এমন মেয়ে বিয়ে করাই পছন্দ করেন, যার পূর্বে কোনো বিয়ে হয়নি। আরবী ভাষায় ‘বাকারা’ বা ‘বাকের’ বলা হয় এমন মেয়েকেঃ
(আরবী)
যার পূর্বে বিয়ে হয়নি, কেউ তার স্বামী হয়নি এবং কারোর সাথেই হয়নি কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন।
আর ‘সাইয়েবা’ হচ্ছে এর বিপরীত অর্থাৎ যার বিয়ে হয়েছিল। যার স্বামী ছিল এবং তার সাথে যৌন সম্পর্কও স্থাপিত হয়েছিল।
তার মানে হচ্ছে দ্বীনদারীর সঙ্গে রূপ ও সৌন্দর্যের লাভের জন্যে চেষ্টা করাও আবশ্যক্
কিন্তু উপরের কথা থেকে একথা যেন কেউ মনে না করেন যে, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা মেয়েকে বিয়ে করা বুঝি ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত বা নাজায়েয। কেননা তা আদৌ ঠিক নয়। নবী করীম (ﷺ) ও সাহাবায়ে কিরামের অনেকেই বিধবা ও পরিত্যক্তা মহিলাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের পূর্ন মর্যাদা ও অধিকার দিয়ে শান্তিরূপে দাম্পত্য জীবন যাপন করেছেন।
বিশেষত ও সুযোগ-সুবিধার দৃষ্টিতে অনেক সময় ‘বাকারা’ মেয়ের পরিবর্তে ‘সাইয়েবা’ মেয়েকে বিয়ে করা অধিকতর যুক্তিবহ। রাসূলে করীম (ﷺ)-এর কাছ থেকেও এর সমর্থন পাওয়া গিয়েছে। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহর ব্যাপারটিই এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তাঁকে যখন রাসূলে করীম (ﷺ) বিয়ে করেছ কিনা এবং কি ধরনের মেয়ে বিয়ে করেছ জিজ্ঞেস করলেন তখন জবাবে তিনি বললেন, ‘সাইয়েবা’ –‘পূর্ব-বিবাহিতা মেয়ে’। রাসূলে করীম (ﷺ) এ ব্যাপারে কিছুটা আপত্তি ও নিরুৎসাহ প্রকাশ করলে তখন তার কারণ প্রদর্শনস্বরূপ হযরত জাবির (রা) বললেনঃ
(আরবী)
আমার পিতা ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং রেখে গেছেন সাতটি কন্যা। এমতাবস্থায় তাদের সাথে এনে এমন আর একটি মেয়েকে একত্র করা আমি পছন্দ করিনি, (যে হবে সংসার-অনভিজ্ঞা, যে নিজ হাতে কাজ কর্ম করবে না –করতে পারবে না। বরং দরকার ছিল এমন এক বয়স্কা মেয়েলোকের, যে তাদের (পিতার কন্যাদের) চুল আঁচড়ে দেবে এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য যাবতীয় কাজ-কর্ম করে দেবে।
এ বিবরণ শুনে নবী করীম (ﷺ) বললেঃ (আরবী) ‘তুমি ঠিকই করেছ’। অপর এক বর্ণনায় রাসূলের জবাব ছিলঃ (আরবী) ‘হ্যাঁ, তুমি যা ভালো মনে করেছ তা ঠিকই হয়েছে’। (মুসনাদে আহমাদ)
নবী করীম (ﷺ) বিশেষ গুরুত্ব সহকারে এই পর্যায়ে আর একটি উপদেশ দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে অধিক সন্তানবতী ও অধিক প্রেমময়ী মেয়েলোক বিয়ে করা।
এক ব্যক্তি রাসূলে করীম (ﷺ)-এর খেদতে হাজির হয়ে জিজ্ঞেস করলঃ
(আরবী)
উচ্চ বংশজাত ও সুন্দরী একটি মেয়ে পেয়েছি, কিন্তু দোষ হচ্চে এই যে, সে সন্তান প্রসব করে না (বন্ধ্যা), তাকে কি আমি বিয়ে করব?
জবাবে রাসূলে করীম (ﷺ) বললেনঃ ‘না’। লোকটি তার পরও দুই-তিনবার এসে সেই একই প্রম্ন জিজ্ঞেস করে এবং প্রত্যেকবারই তিনি নিষেধ করেন। শেষবারে রাসূল (ﷺ) বললেনঃ
(আরবী)
তোমরা বিয়ে করবে প্রেম-ভালোবাসাময়ী ও অধিক সন্তানবতী মেয়েলোককে। কেননা আমি তোমাদের বিপুল সংখ্যা নিয়ে গৌরব করব।
অপর একটি বর্ণনায় রাসূলের কথাটির ভাষা এইঃ
(আরবী)
তোমরা বিয়ে করো অধিক প্রেম-প্রীতিসম্পন্না ও বেশি সংখ্যক সন্তান দাত্রী মেয়ে। কেনান আমি কেয়ামতের দিন অন্যান্য নবীর মুকাবিলায় তোমাদের বিপুল সংখ্যা নিয়ে গৌরব করব।