hadith book logo

পরিবার ও পারিবারিক জীবন

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪২

খুলা তালাক

আর এক প্রকারের তালাক আছে, যাকে বলা হয় খুলা তালাক। ‘খুলা তালাক’ মানে, স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকতে রাজি নয়, সেজন্যে সে তালাক নিতে চায়; কিন্তু স্বামী তালাক দিতে ইচ্ছুক নয়। এরূপ অবস্থায় স্ত্রী কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে রাজি করে নেয়। ইসলামে একে বলা হয় ‘খুলা তালাক’ এবং শরীয়তে এরূপ তালাকের অবকাশ রয়েছে। কেননা স্ত্রী যদি কোনোমতেই স্বামীর সাথে থাকতে প্রস্তুত না হয় আর স্বামীও তাকে তালাক দিতে প্রস্তুত নয় –এরূপ অবস্থা একজন নারীর পক্ষে অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাই সুযোগ রাখা হয়েছে, স্ত্রী যদি স্বামীকে টাকা-পয়সা দিয়ে তালাক দিতে বাধ্য করতে পারে এবং সে তালাক দিয়ে দেয়, তবে স্ত্রীর মুক্তিলাভের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ পর্যায়ে কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটিকে সামনে রাখতে হবে। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেনঃ

(আরবী)

স্ত্রীকে বিদায় করে দেয়ার সময় তোমাদের দেয়া জিনিপত্র থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্যে জায়েয নয়। অবশ্য এ অবস্থা স্বতন্ত্র যে, দম্পতি যদি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা রক্ষা করতে না পারার আশংকা বোধ করে। এরূপ অবস্থায় যদি তারা দুজন আল্লাহর নির্ধারিত বিধান পালন করতে পারবে না বলে ভয় করে, তাহলে তাদের দুজনের মাঝে এ সমঝোতা হওয়ায় কোনো দোষ নই যে, স্ত্রী স্বামীকে কিছু দিয়ে তালাক গ্রহণ করবে ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

এ আয়াত থেকে খুলা তালাকের সুযোগ প্রমাণিত হয় এবং এও প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী যদি টাকা-পয়সার বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক গ্রহণ কর এবং স্বামী সে অর্থ গ্রহণ করে তবে তাতে কোনো দোষ হবে না। ইকরামা তাবেয়ীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ

(আরবী) –‘খুলা তালাকের’ কোনো ভিত্তি আছে কি?

তিনি বললেন, হযরত ইবনে আব্বাস (লা) বলতেনঃ

(আরবী)

ইসলামী সামজে প্রথম ‘খুলা’ তালাক অনুষ্ঠিত হয়েছিল আবদুল্লাহ ইবনে উবাই’র বোন সাবিত ইবনে কায়েসের স্ত্রীর ব্যাপারে।

হযরত উমর (রা) একজনকে বলেছিলেনঃ

(আরবী)

তোমার স্ত্রীর একটি কানের বালার বিনিময়ে হলেও তাকে খুলা করে দাও (অর্থাৎ তালাক দিয়ে দাও)।

মনে রাখতে হবে, খুলা তালাকের অবকাশ ইসলামে আছে একথা ঠিক। আর এর সুযোগ রাখা হয়েছে এমন সব স্ত্রীর মুক্তিলাভৈর উপায় ও পন্থা হিসেবে, যখন স্বামীর সাথৈ একত্রে থাকার কোনো উপায়ই থাকে না তখনকার মর্মান্তির অবস্থার প্রয়োগ করার জন্যে। কিন্তু ইসলামে একে কিছুমাত্র উৎসাহিত করা হয়নি। শুধু এতটুকুই নয়, সত্যি কথা এই যে, ইসলামে তালাক দানের মতোই স্ত্রীর পক্ষে খুলা তালাক গ্রহণকেও অত্যন্ত খারাপ মনে করা হয়েছে। এ পর্যায়ে রাসূলে করীম (ﷺ)-এর বাণী হলোঃ

(আরবী)

যে মেয়েলোক তার স্বামীর কাছে তালাক চাইবে কোনো দুঃসহ কারণ ছাড়াই, তার জন্যে জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে।

নবী করীম (ﷺ) আরও বলেছেনঃ

(আরবী)

‘খুলা’ গ্রহণকারী স্ত্রীলোকেরাই হচ্ছে মুনাফিক স্ত্রীলোক।

অতএব এ কাজ কোনো নারীরই করা উচিত নয়। নারী ও পুরুষ –স্ত্রী ও স্বামী সকলেরই কর্তব্য ইসলামী সমাজের পরিবার-দুর্গকে সুরক্ষিত করে রাখা এবং এ দুর্গকে কোনোরূপে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিপর্যয়ের সম্মুখীন না করা।