hadith book logo

পরিবার ও পারিবারিক জীবন

লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২০

ইসলামী জ্ঞান ও চরিত্র শিক্ষাদান

অতঃপর পিতাপমাতার প্রতি সন্তানের সবচেয়ে বড় হক হচ্ছে, তারা তাদের সন্তান-সন্তুতিকে পরকালীন জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাবার জন্যে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কুরআন মজীদে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছেঃ

(আরবী)

আয়াতে ‘তোমাদের নিজেদেরকে বাঁচাও’ প্রথমে বলার কারণ এই যে, যে লোক নিজেকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে চায় না, সে অপরকে –নিজের সন্তান-সন্তুতি ও পরিজনকে –তা থেকে বাঁচাবার জন্যে কখনো চেষ্টা করতে পারে না। আর ‘আহল’ বলতে স্ত্রীসহ গোটা পরিবারকে –পরিবারস্থ সমস্ত লোককে বোঝায়। একজন লোক যাদেরকে কোনো কথা বলতে পারে এবং তারা তা মেনে চলতে বাধ্য হয় –এমন সব লোকই এ আহল শব্দের অন্তর্ভুক্ত। কুরআনের দৃষ্টিতে স্ত্রীসহ গোটা পরিবারের প্রতি পিতার –পরিবার কর্তার –প্রধান কর্তব্য হচ্ছে তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাবার জন্যে এ দুনিয়ায়ই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, তাদের মনে পরকালীন জবাবদিহির ভয় জাগিয়ে তোলা এবং এমনভাবে জীবন যাপনে উপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত ও অভ্যস্ত করে তোলা যেন তার পরিণামে তারা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা পেতে পারে। আর জাহান্নাম থেকে বাঁচাবার ও বাঁচাবার উপায় হচ্ছে নিজে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালন করা এবং তার পরিবারবর্গকেও এভাবে তৈয়ার করা। এ আয়াতে তফসীরে কুমাতিল ইবনে সুলায়মান বলেছেনঃ

(আরবী)

এ আয়াতের মানে হচ্ছে, তোমর তোমাদের নিজেদের পরিবার-পরিজনদের সুশিক্ষা ও ভালো অভ্যাসের সাহায্যে পরকালীন জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।

কাতাদাহ ও মুজাহিদ বলেছেনঃ

(আরবী)

তোমরা নিজেদেরকে বাঁচাও তাদেরকে সৎ শিক্ষা ও সদুপদেশ দিয়ে।

ইমামুল মুফাসসিরীন ইবনে জরীর তাবারী লিখেছেনঃ

(আরবী)

আল্লাহর এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, আমরা আমাদের সন্তানদের দ্বীন ইসলাম ও সমস্ত কল্যাণময় জ্ঞান এবং অপরিহার্য ভালো চরিত্র শিক্ষা দেব।

হযরত আলী (রা) এ আয়াতের ভিত্তিতে লিখেছেনঃ

(আরবী)

তোমরা নিজেরা শেখো ও পরিবারবর্গকে শিখাও সমস্ত কল্যাণময় রীতি-নীতি এবং তাদের সে কাজে অভ্যস্ত করে তোল।

সন্তান-সন্ততিকে উন্নতমানের ইসলামী আদর্শ শিক্ষা দান ও ইসলামী আইন-কানুন পালনে আল্লাহকে ভয় ও রাসূলে করীম (ﷺ)-কে অনুসরণ করে চলার জন্যে অভ্যস্থ করে তোলাও পিতামাকারই কর্তব্য এব পিতামাতার প্রতি সন্তানের অতি বড় হক। সন্তানকে এই জ্ঞান ও অভ্যাসে উদ্ধুদ্ধ করে দেয়ার তুলনায় অধিক মূল্যবান কোনা দান এমন হতে পারে না, যা তারা সন্তানকে দিয়ে যেতে পারেন।