১
পরিবার ও পারিবারিক জীবন
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪০
বিভিন্ন প্রকারের তালাক কেন
তালাক ব্যবস্থার এরূপ বিভিন্ন পন্থায় অবকাশ রাখার মূলে ইষলামী শরীয়তের এক বিশেষ কল্যাণময় উদ্দেশ্যে নিহিত রয়েছে। তা হচ্ছে, শরীয়তের বিধানদাতার একমত্রা কামনা হলো পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনের অক্ষুণ্নতা ও স্থায়িত্ব বিধান অর্থাৎ স্বাশী যদি কোনো জটিল মুহুর্তে বা বিশেষ কারণে তালাক দিতে বাধ্য হয়, তাহলে সে যেন ঠিক সেই পন্থায়ই তালাক দেয়, যে পন্থায় তালাক দিলে পরে তার স্ত্রীকে পুনর্বহাল করার শরীয়তসম্মত ও সম্মানজনক উপায় বর্তমান থাকে। হয় এমন অবস্থা হবে যে, ইদ্দতের মধ্যেই তাকে অবাধে ও নির্ঝঞ্ঝাটে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে আর তার তা যদি নাও হয় তবুও অন্তত পক্ষে যেন এরূপ হয় যে, নতুন করে বিয়ের অনুষ্ঠান করে ফিরিয়ে নিতে পারবে; কেননা এ দু’ধরনের তালাকে স্ত্রী সম্পূর্ণরূপে হারাম হয়ে যায় না। রাগের বশবর্তী হয়ে কিংবা স্ত্রীকে শাসন করার উদ্দেশ্যে কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দিতেই চায় তাহলে সে যেন এ পর্যায়ের কোনো তালাক দেয়। তাহলে এর পর তাকে আফসোসও করতে হবে না, আর চরমভাবে লজ্জিত ও লাঞ্ছিতও হতে হবে না।
কিন্তু যদি রাগের বশবর্তী হয়ে অথবা পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে একসঙ্গে তিন তালাকই দিয়ে দেয়, তাহলে এর পর যে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, যে দুঃখ ও দুরবস্থার সম্মুখীন হতে হয় স্ত্রীকে, স্বামীকে, সন্তান-সন্ততিকে, গোটা পরিবারকে, তা ভাষায় বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। এর পর যে দুঃখ ও অনুতাপ জাগে স্বামীর অন্তরে, তার প্রতিকারের কোনো উপায়ই থাকে না তার হাতে। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায়, তিন তালাক দেয়ার পরও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা বসবাস করতে থাকে। আর এ হচ্ছে সুস্পষ্টরূপে জ্বেনার অবস্থা।, নিঃসন্দেহে তা হারাম। তাই কোনো লোকেরই একসঙ্গে তিন তালাক দেয়া উচিত নয়। এর পরিণাম তালাকদাতা স্বামীকেই ভোগ করতে হয়। আর সে পরিণাম অত্যন্ত দুঃখময়, নিতান্ত অবাঞ্ছনীয় এবং অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ থেকে বাঁচার জন্যে প্রস্তুত থাকা উচিত সব মানুষেরই।
তালাক দেয়ার পরও স্ত্রীকে ফিরিয়ে রাখার মাত্র দুটো উপায় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তার কারণ এই যে, এ দুটো উপায়ই চূড়ান্ত বিপর্যয়ের হাত থেকে গোটা পরিবারকে রক্সা করার জন্যে যথেষ্ট। আর তিন তালাক দেয়ার পরও স্ত্রীকে ফিরিয়ে রাখতে না পারা এবং ফিরিয়ে রাখার সুযোগ না থাকাও অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা। এ হলো সীমালংঘনকারীর জন্যে শরীয়তের তরফ থেকে একটি শাস্তি। যে লোক এ কাজ করবে, তার শান্তিও তাকে ভোগ করতে হবে। তাতে করে প্রমাণিত হয় যে, স্বামী এ স্ত্রীকে নিয়ে ঘর না করারই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে। অতএব সে পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধরে নিতে হবে। কেননা যদি কেউ বাস্তবিকই নিষ্কৃতি পেতে চায়, তাহলে নিষ্কৃতি লাভের সুযোগ তাকে দেয়াই সমীচীন। তাই শরীয়তের এ ব্যবস্তা এ দৃষ্টিতে সত্যিই কল্যাণময়।
কিন্তু যদি রাগের বশবর্তী হয়ে অথবা পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে একসঙ্গে তিন তালাকই দিয়ে দেয়, তাহলে এর পর যে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, যে দুঃখ ও দুরবস্থার সম্মুখীন হতে হয় স্ত্রীকে, স্বামীকে, সন্তান-সন্ততিকে, গোটা পরিবারকে, তা ভাষায় বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। এর পর যে দুঃখ ও অনুতাপ জাগে স্বামীর অন্তরে, তার প্রতিকারের কোনো উপায়ই থাকে না তার হাতে। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায়, তিন তালাক দেয়ার পরও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা বসবাস করতে থাকে। আর এ হচ্ছে সুস্পষ্টরূপে জ্বেনার অবস্থা।, নিঃসন্দেহে তা হারাম। তাই কোনো লোকেরই একসঙ্গে তিন তালাক দেয়া উচিত নয়। এর পরিণাম তালাকদাতা স্বামীকেই ভোগ করতে হয়। আর সে পরিণাম অত্যন্ত দুঃখময়, নিতান্ত অবাঞ্ছনীয় এবং অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ থেকে বাঁচার জন্যে প্রস্তুত থাকা উচিত সব মানুষেরই।
তালাক দেয়ার পরও স্ত্রীকে ফিরিয়ে রাখার মাত্র দুটো উপায় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তার কারণ এই যে, এ দুটো উপায়ই চূড়ান্ত বিপর্যয়ের হাত থেকে গোটা পরিবারকে রক্সা করার জন্যে যথেষ্ট। আর তিন তালাক দেয়ার পরও স্ত্রীকে ফিরিয়ে রাখতে না পারা এবং ফিরিয়ে রাখার সুযোগ না থাকাও অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা। এ হলো সীমালংঘনকারীর জন্যে শরীয়তের তরফ থেকে একটি শাস্তি। যে লোক এ কাজ করবে, তার শান্তিও তাকে ভোগ করতে হবে। তাতে করে প্রমাণিত হয় যে, স্বামী এ স্ত্রীকে নিয়ে ঘর না করারই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে। অতএব সে পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধরে নিতে হবে। কেননা যদি কেউ বাস্তবিকই নিষ্কৃতি পেতে চায়, তাহলে নিষ্কৃতি লাভের সুযোগ তাকে দেয়াই সমীচীন। তাই শরীয়তের এ ব্যবস্তা এ দৃষ্টিতে সত্যিই কল্যাণময়।