১
পরিবার ও পারিবারিক জীবন
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (র.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৪
সন্তানদের মধ্যে সুবিচার স্থাপন
পিতামাতার কর্তব্য হচ্ছে সন্তানদের পরস্পরের সর্বতোভাবে সুবিচার ও ইনসাফ প্রতিস্ঠা করা ও পূর্ণ নিরপেক্ষতা সহকারে প্রত্যেকের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা –প্রয়োজন পূরণ করা এবং তাদের মধ্যে সাম্য কায়েম ও রক্ষা করা। রাসূলে করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ
(আরবী)
তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে সুবিচার করো, তোমরা তোমাদের সন্তানদের মাঝে ন্যায়পরতা সংস্থাপন করো, তোমরা তোমাদের সন্তানদের মাঝেই ইনাসফ করো।
নুমান ইবনে বশীর বলেন –তাঁর পিতা তাকে সঙ্গে নিয়ে রাসূলে করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থত হয়ে বললেনঃ
(আরবী)
আমি আমার এই পুত্রকে একটি ক্রীতদাস দান করেছি।
তখন রাসূলে করীম জিজ্ঞেস করলেনঃ
(আরবী)
তোমার সব কয়টি সন্তানকে কি এভাবে একটি দাস দান করেছ?
উত্তরে তিনি বললেনঃ “না”। তখন রাসুল (ﷺ) বললেনঃ (আরবী) –এ দান তুমি ফিরিয়ে নাও। (বুখারী, মুসলিম)
অপর এক হাদীসে বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
দানের ব্যাপারে তোমাদের সন্তানদের মধ্যে পূর্ণ সমতা রক্ষা করো।
এসব হাদীসের ভিত্তিতে অনেকে বলেছেন যে, সন্তানদের মধ্যে দানের ব্যাপারে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব। কেননা রাসূলে করীম (ﷺ) সেজন্যে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন। যদি বিশেষ কোনো কারণ না থাকে, তাহলে এ সমতাকে কিছুতেই ভঙ্গ করা এবং দানের ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে তারতম্য করা উচিত হবে না। যদি কোনো সন্তানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অপর সন্তানকে কিছু দান করা হয় তবে তা বড়ই অন্যায় হবে।
আবার অনেকে রাসূল (ﷺ)-এর আদেশকে ‘মুস্তাহাব’ বলে ধরে নিয়েছেন। যদি কেউ কোনো সন্তানকে অপর সন্তান অপেক্ষা বেশি কিছু দান করে, তবে সে দান ঠিকই হবে, তবে তা অবশ্য মাকরূহ হবে। এ পর্যায়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাসূলে করীম (ﷺ) জিজ্ঞেস করছিলেনঃ
(আরবী)
তোমার সাথে সব সন্তান সমানভাবে ভালো ব্যবহার করবে, এতে কি তুমি খুশ হবে না? সাহাবী বললেনঃ হ্যাঁ। তখন নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ
(আরবী)
তা হলে কোনো সন্তানকে অন্যদের তুলনায় বেশি দেয়ার অনুমতি দেয়া যেতে পার না। -মুসলিম
এসব হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম শাওকানী লিখেছেনঃ
(আরবী)
সত্য কথা এই যে, সন্তানদের মধ্যে দানের ব্যাপারে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব, আর বেশি-কম করা হারাম।
মনে রাখা আবশ্যক যে, এসব হাদীস মিরাস বণ্টন সম্পর্কে বলা হয়নি। কেননা মিরাস বণ্টন হবে পিতার মৃত্যুর পরে, তার জীবদ্দশায় নয়। এসব হাদীস পিতার জীবদ্দশায় সন্তানের বিভিন্ন জিনিস দান করার ব্যাপারেই সমতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অতএব কোনো পিতার পক্ষেই তার জীবদ্দশায় সন্তানদেরকে যা কিছু দান করবে তাতে তারতম্য ও বেশি-কম করা আদৌ জায়েয নয়।
(আরবী)
তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে সুবিচার করো, তোমরা তোমাদের সন্তানদের মাঝে ন্যায়পরতা সংস্থাপন করো, তোমরা তোমাদের সন্তানদের মাঝেই ইনাসফ করো।
নুমান ইবনে বশীর বলেন –তাঁর পিতা তাকে সঙ্গে নিয়ে রাসূলে করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থত হয়ে বললেনঃ
(আরবী)
আমি আমার এই পুত্রকে একটি ক্রীতদাস দান করেছি।
তখন রাসূলে করীম জিজ্ঞেস করলেনঃ
(আরবী)
তোমার সব কয়টি সন্তানকে কি এভাবে একটি দাস দান করেছ?
উত্তরে তিনি বললেনঃ “না”। তখন রাসুল (ﷺ) বললেনঃ (আরবী) –এ দান তুমি ফিরিয়ে নাও। (বুখারী, মুসলিম)
অপর এক হাদীসে বলা হয়েছেঃ
(আরবী)
দানের ব্যাপারে তোমাদের সন্তানদের মধ্যে পূর্ণ সমতা রক্ষা করো।
এসব হাদীসের ভিত্তিতে অনেকে বলেছেন যে, সন্তানদের মধ্যে দানের ব্যাপারে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব। কেননা রাসূলে করীম (ﷺ) সেজন্যে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন। যদি বিশেষ কোনো কারণ না থাকে, তাহলে এ সমতাকে কিছুতেই ভঙ্গ করা এবং দানের ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে তারতম্য করা উচিত হবে না। যদি কোনো সন্তানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অপর সন্তানকে কিছু দান করা হয় তবে তা বড়ই অন্যায় হবে।
আবার অনেকে রাসূল (ﷺ)-এর আদেশকে ‘মুস্তাহাব’ বলে ধরে নিয়েছেন। যদি কেউ কোনো সন্তানকে অপর সন্তান অপেক্ষা বেশি কিছু দান করে, তবে সে দান ঠিকই হবে, তবে তা অবশ্য মাকরূহ হবে। এ পর্যায়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাসূলে করীম (ﷺ) জিজ্ঞেস করছিলেনঃ
(আরবী)
তোমার সাথে সব সন্তান সমানভাবে ভালো ব্যবহার করবে, এতে কি তুমি খুশ হবে না? সাহাবী বললেনঃ হ্যাঁ। তখন নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ
(আরবী)
তা হলে কোনো সন্তানকে অন্যদের তুলনায় বেশি দেয়ার অনুমতি দেয়া যেতে পার না। -মুসলিম
এসব হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম শাওকানী লিখেছেনঃ
(আরবী)
সত্য কথা এই যে, সন্তানদের মধ্যে দানের ব্যাপারে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব, আর বেশি-কম করা হারাম।
মনে রাখা আবশ্যক যে, এসব হাদীস মিরাস বণ্টন সম্পর্কে বলা হয়নি। কেননা মিরাস বণ্টন হবে পিতার মৃত্যুর পরে, তার জীবদ্দশায় নয়। এসব হাদীস পিতার জীবদ্দশায় সন্তানের বিভিন্ন জিনিস দান করার ব্যাপারেই সমতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অতএব কোনো পিতার পক্ষেই তার জীবদ্দশায় সন্তানদেরকে যা কিছু দান করবে তাতে তারতম্য ও বেশি-কম করা আদৌ জায়েয নয়।