১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
প্রসিদ্ধ চারখানা আসমানী কিতাব নাযিলের সময়কাল
আবু যুরআ দামেশকী (র) বর্ণনা করেন যে, তাওরাত কিতাব হযরত মূসা (আ)-এর উপর ৬ রমযানে অবতীর্ণ হয়। এর চার শ’ বিরাশি বছর পর হযরত দাউদ (আ)-এর উপর যাবূর নাযিল হয় ১২ রমযানে। এর এক হাজার পঞ্চাশ বছর পর ১৮ রমযানে হযরত ঈসা (আ)-এর উপর ইনজীল অবতীর্ণ হয় এবং ২৪ রমযানে হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর উপর কুরআন মজিদ নাযিল হয়।
( شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِیۤ أُنزِلَ فِیهِ ٱلۡقُرۡءَانُ )
[Surah Al-Baqarah 185]
—রমযান মাস, এতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (২ বাকারাঃ ১৮৫)- এ আয়াতের অধীনে আমরা তাফসীর গ্রন্থে এতদ সম্পর্কীয় হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি। সেখানে এ কথাও বলা হয়েছে যে, ঈসা (আ)-এর উপরে ইনজীল ১৮ রমযানে অবতীর্ণ হয়।
ইবন জারীর (র) তার ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন যে, ত্রিশ বছর বয়সকালে হযরত ঈসা (আ)-এর প্রতি ইনজীল অবতীর্ণ হয় এবং তেত্রিশ বছর বয়সের সময় তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়। ইসহাক ইবন বিশর....... আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আল্লাহ তা’আলা হযরত ঈসা ইবন মারয়ামের নিকট নিম্নলিখিত ওহী প্রেরণ করেনঃ
হে ঈসা! আমার নির্দেশ পালনে কঠোরভাবে চেষ্টা কর, হীনবল হয়ো না। আমার বাণী শ্রবণ কর ও আনুগত্য কর। হে ঈসা! তুমি এক পবিত্র সতী কুমারী ও তাপসী নারীর সন্তান। পিতাবিহীন তোমার জন্ম। বিশ্ববাসীর নিদর্শন স্বরূপ আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি। সুতরাং আমারই দাসত্ব কর, আমার উপরই ভরসা রাখ। সর্বশক্তি দিয়ে আমার কিতাবের অনুসরণ কর। সুরিয়ানী ভাষা-ভাষীদের নিকট কিতাবের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে শোনাও। তোমার সম্মুখে যারা আছে তাদের কাছে আমার বাণীগুলো পৌঁছিয়ে দাও। আমিই মহাসত্য, চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী ও অক্ষয়। লোকজনের কাছে প্রচার করবে যে, আরবের উম্মী নবীকে সত্য বলে জানবে। তিনি হচ্ছে উষ্ট্রারোহী, পাগড়ীধারী, বর্মধারী, জুতা পরিধানকারী এবং লাঠি ব্যবহারে অভ্যস্ত। তিনি হলেন আয়তলোচন, প্রশস্ত কপাল উজ্জ্বল চেহারা কোঁকড়া চুল [শামাইলে তিরমিযীর ১ম অধ্যায়ের দ্বিতীয় হাদীসের বর্ণনা মতে তার চুল না ছিল অত্যধিক কুঞ্চিত, না ছিল একেবারে সোজা], ঘন দাড়ি, জোড়া ভুরু, উঁচু নাক বিশিষ্ট। তাঁর সামনের দাঁতগুলোতে সামান্য ফাঁক থাকবে; থুতনীর উপরের ও ঠোঁট সংলগ্ন ছোট দাড়ি হবে দৃশ্যমান। তার ঘাড় হবে রৌপ্য পাত্রের মত উজ্জ্বল। তার হাঁসুলীর হাঁড় দু’টি হবে যেন প্রবহমান স্বর্ণ। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত কাল পশমের রেখা থাকবে। এই রেখা ব্যতীত পেটে বা বুকের অন্য কোথাও চুল থাকবে না। তার হাতের তালু ও পায়ের তলা হবে মাংসল। কোন দিকে তাকালে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাবেন। হাঁটার সময় মনে হবে সম্মুখে ঝুঁকে যেন নিম্ন দিকে নেমে আসছেন। ঘর্মাক্ত অবস্থায় দেখলে মনে হবে যেন চেহারার উপরে মুক্তার দানা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং মিশকের ঘ্রাণ চারিদিকে ছড়াচ্ছে। তার পূর্বেও কাউকে এমন দেখা যায়নি এবং পরেও কেউ এমন আসবে না। তাঁর দৈহিক গঠন ও অবয়ব হবে অত্যন্ত সুশ্রী। তিনি অধিক বিবাহকারী, তাঁর সন্তান সংখ্যা হবে কম এবং তাঁর বংশধারা চলবে এক বরকতময় মহিলা থেকে। জান্নাতে তাঁর জন্যে থাকবে নির্ধারিত প্রকোষ্ঠ। প্রকোষ্ঠটি একটি প্রকাণ্ড ফাঁপা মুক্তোয় নির্মিত। সেখানে থাকবে না কোন ক্লান্তি, থাকবে না কোন চিৎকার ধ্বনি। হে ঈসা! তুমি শেষ যামানার যিম্মাদার হবে, যেমন যাকারিয়া ছিল তোমার মায়ের যিম্মাদার, জান্নাতে তার জন্যে থাকবে সাক্ষ্য দানকারী দুটি পাখীর ছানা। আমার নিকট তার যে মর্যাদা, তা অন্য কোন মানুষের নেই। তার কিতাবের নাম হবে কুরআন, ধর্মের নাম হবে ইসলাম। আমার এক নাম সালাম। ধন্য সেই, যে তার সময়কাল পাবে, তাঁর কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করবে ও তাঁর কথা শ্রবণ করবে।
( شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِیۤ أُنزِلَ فِیهِ ٱلۡقُرۡءَانُ )
[Surah Al-Baqarah 185]
—রমযান মাস, এতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (২ বাকারাঃ ১৮৫)- এ আয়াতের অধীনে আমরা তাফসীর গ্রন্থে এতদ সম্পর্কীয় হাদীসগুলো উল্লেখ করেছি। সেখানে এ কথাও বলা হয়েছে যে, ঈসা (আ)-এর উপরে ইনজীল ১৮ রমযানে অবতীর্ণ হয়।
ইবন জারীর (র) তার ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন যে, ত্রিশ বছর বয়সকালে হযরত ঈসা (আ)-এর প্রতি ইনজীল অবতীর্ণ হয় এবং তেত্রিশ বছর বয়সের সময় তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়। ইসহাক ইবন বিশর....... আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আল্লাহ তা’আলা হযরত ঈসা ইবন মারয়ামের নিকট নিম্নলিখিত ওহী প্রেরণ করেনঃ
হে ঈসা! আমার নির্দেশ পালনে কঠোরভাবে চেষ্টা কর, হীনবল হয়ো না। আমার বাণী শ্রবণ কর ও আনুগত্য কর। হে ঈসা! তুমি এক পবিত্র সতী কুমারী ও তাপসী নারীর সন্তান। পিতাবিহীন তোমার জন্ম। বিশ্ববাসীর নিদর্শন স্বরূপ আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি। সুতরাং আমারই দাসত্ব কর, আমার উপরই ভরসা রাখ। সর্বশক্তি দিয়ে আমার কিতাবের অনুসরণ কর। সুরিয়ানী ভাষা-ভাষীদের নিকট কিতাবের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে শোনাও। তোমার সম্মুখে যারা আছে তাদের কাছে আমার বাণীগুলো পৌঁছিয়ে দাও। আমিই মহাসত্য, চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী ও অক্ষয়। লোকজনের কাছে প্রচার করবে যে, আরবের উম্মী নবীকে সত্য বলে জানবে। তিনি হচ্ছে উষ্ট্রারোহী, পাগড়ীধারী, বর্মধারী, জুতা পরিধানকারী এবং লাঠি ব্যবহারে অভ্যস্ত। তিনি হলেন আয়তলোচন, প্রশস্ত কপাল উজ্জ্বল চেহারা কোঁকড়া চুল [শামাইলে তিরমিযীর ১ম অধ্যায়ের দ্বিতীয় হাদীসের বর্ণনা মতে তার চুল না ছিল অত্যধিক কুঞ্চিত, না ছিল একেবারে সোজা], ঘন দাড়ি, জোড়া ভুরু, উঁচু নাক বিশিষ্ট। তাঁর সামনের দাঁতগুলোতে সামান্য ফাঁক থাকবে; থুতনীর উপরের ও ঠোঁট সংলগ্ন ছোট দাড়ি হবে দৃশ্যমান। তার ঘাড় হবে রৌপ্য পাত্রের মত উজ্জ্বল। তার হাঁসুলীর হাঁড় দু’টি হবে যেন প্রবহমান স্বর্ণ। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত কাল পশমের রেখা থাকবে। এই রেখা ব্যতীত পেটে বা বুকের অন্য কোথাও চুল থাকবে না। তার হাতের তালু ও পায়ের তলা হবে মাংসল। কোন দিকে তাকালে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাবেন। হাঁটার সময় মনে হবে সম্মুখে ঝুঁকে যেন নিম্ন দিকে নেমে আসছেন। ঘর্মাক্ত অবস্থায় দেখলে মনে হবে যেন চেহারার উপরে মুক্তার দানা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং মিশকের ঘ্রাণ চারিদিকে ছড়াচ্ছে। তার পূর্বেও কাউকে এমন দেখা যায়নি এবং পরেও কেউ এমন আসবে না। তাঁর দৈহিক গঠন ও অবয়ব হবে অত্যন্ত সুশ্রী। তিনি অধিক বিবাহকারী, তাঁর সন্তান সংখ্যা হবে কম এবং তাঁর বংশধারা চলবে এক বরকতময় মহিলা থেকে। জান্নাতে তাঁর জন্যে থাকবে নির্ধারিত প্রকোষ্ঠ। প্রকোষ্ঠটি একটি প্রকাণ্ড ফাঁপা মুক্তোয় নির্মিত। সেখানে থাকবে না কোন ক্লান্তি, থাকবে না কোন চিৎকার ধ্বনি। হে ঈসা! তুমি শেষ যামানার যিম্মাদার হবে, যেমন যাকারিয়া ছিল তোমার মায়ের যিম্মাদার, জান্নাতে তার জন্যে থাকবে সাক্ষ্য দানকারী দুটি পাখীর ছানা। আমার নিকট তার যে মর্যাদা, তা অন্য কোন মানুষের নেই। তার কিতাবের নাম হবে কুরআন, ধর্মের নাম হবে ইসলাম। আমার এক নাম সালাম। ধন্য সেই, যে তার সময়কাল পাবে, তাঁর কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করবে ও তাঁর কথা শ্রবণ করবে।