১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬২
ইয়ামানের রাজত্ব হিময়ার গোত্র থেকে সুদানী হাবশীদের কবলে আসা প্রসঙ্গ
পূর্বোল্লেখিত দুই জ্যোতিষী শাক এবং সাতীহ যেমন বলেছিলেন তা-ই ঘটলো। বস্তুত যূ-নাওয়াসের আক্রমণে সকল নাজরানবাসী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মাত্র একজন লোক প্রাণে বেঁচেছিল। তার নাম দাওস যুছালাবান। সে ছিল ঘোড়সওয়ার, বালুকাময় রাস্তায় ঘোড়া ছুটিয়ে সে পালিয়ে যায়। শত্রুগণ তাকে ধরতে ব্যর্থ হয়। সে ছুটতে ছুটতে রোমান সম্রাট কায়সারের দরবারে গিয়ে উপস্থিত হয়। যু-নুওয়াস ও তার সৈন্যদের বিরুদ্ধে সে তার কাছে সাহায্য কামনা করে এবং তাদের অত্যাচার নির্যাতনের বিবরণ প্রদান করে।
কায়সার ছিলেন তাদের মতই খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তিনি বললেন, ‘আমার এখান থেকে তোমার দেশ তো অনেক দূরে। আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি আবিসিনিয়ার রাজাকে তোমাকে সাহায্য করার জন্যে লিখে দিচ্ছি। সেও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী এবং তার রাজ্য তোমার রাজ্যের কাছাকাছি।’ অতঃপর তিনি আবিসিনীয় রাজাকে দাওসকে সাহায্য করতে যু-নুওয়াসের অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে নির্দেশ দিলেন। রোমান সম্রাটের পত্র নিয়ে নাজাসীর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তাকে সাহায্য করার জন্যে ৭০,০০০ হাবশী সৈন্য প্রেরণ করলেন এবং আরয়াত নামের এক ব্যক্তিকে সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত করলেন। সেনাপতি সৈন্যদলের মধ্যে আবরাহা আশরামও ছিল। সেনাপতি আরয়াত তার সেনাবাহিনী নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইয়ামানের সমুদ্রতীরে ঘাঁটি স্থাপন করে। দাওস তার সাথেই ছিল। ওদিক থেকে হিময়ারী লোকজন ও ইয়ামানের অনুগত গোত্রগুলো নিয়ে মুকাবিলা করার জন্যে এগিয়ে আসে অত্যাচারী রাজা যূ-নুওয়াস। উভয় পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। অবশেষে যু-নুওয়াস ও তার সৈন্যগণ পরাজিত হয়।
স্বপক্ষীয় সৈন্যদের এ শোচনীয় পরিণতি দেখে যু-নুওয়াস সমুদ্রের দিকে তার ঘোড়া হাঁকায় এবং ঘোড়াকে চাবুকাঘাত করে তীব্র গতিতে এসে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়। সমুদ্রের খর স্রোত তাকে তলদেশে ডুবিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এভাবে তার মৃত্যু হয়। সেনাপতি আরয়াত বিজয়ীবেশে ইয়ামান প্রবেশ করে এবং রাজত্বের অধিকারী হয়। সমসাময়িককালে সংঘটিত এসব আশ্চর্যজনক ঘটনা সম্পর্কে রচিত আরবদের কতক কবিতা ইবন ইসহাক এ প্রসংগে উল্লেখ করেছেন। এগুলো যেমন বিশুদ্ধ ও অলংকার সমৃদ্ধ, তেমনি শ্রুতিমধুর। আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং পাঠকগণ বিরক্তি বোধ করবেন এ আশংকায় আমরা সেগুলো উল্লেখ থেকে বিরত রইলাম।
কায়সার ছিলেন তাদের মতই খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তিনি বললেন, ‘আমার এখান থেকে তোমার দেশ তো অনেক দূরে। আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি আবিসিনিয়ার রাজাকে তোমাকে সাহায্য করার জন্যে লিখে দিচ্ছি। সেও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী এবং তার রাজ্য তোমার রাজ্যের কাছাকাছি।’ অতঃপর তিনি আবিসিনীয় রাজাকে দাওসকে সাহায্য করতে যু-নুওয়াসের অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে নির্দেশ দিলেন। রোমান সম্রাটের পত্র নিয়ে নাজাসীর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তাকে সাহায্য করার জন্যে ৭০,০০০ হাবশী সৈন্য প্রেরণ করলেন এবং আরয়াত নামের এক ব্যক্তিকে সেনাধ্যক্ষ নিযুক্ত করলেন। সেনাপতি সৈন্যদলের মধ্যে আবরাহা আশরামও ছিল। সেনাপতি আরয়াত তার সেনাবাহিনী নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইয়ামানের সমুদ্রতীরে ঘাঁটি স্থাপন করে। দাওস তার সাথেই ছিল। ওদিক থেকে হিময়ারী লোকজন ও ইয়ামানের অনুগত গোত্রগুলো নিয়ে মুকাবিলা করার জন্যে এগিয়ে আসে অত্যাচারী রাজা যূ-নুওয়াস। উভয় পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। অবশেষে যু-নুওয়াস ও তার সৈন্যগণ পরাজিত হয়।
স্বপক্ষীয় সৈন্যদের এ শোচনীয় পরিণতি দেখে যু-নুওয়াস সমুদ্রের দিকে তার ঘোড়া হাঁকায় এবং ঘোড়াকে চাবুকাঘাত করে তীব্র গতিতে এসে সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়। সমুদ্রের খর স্রোত তাকে তলদেশে ডুবিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এভাবে তার মৃত্যু হয়। সেনাপতি আরয়াত বিজয়ীবেশে ইয়ামান প্রবেশ করে এবং রাজত্বের অধিকারী হয়। সমসাময়িককালে সংঘটিত এসব আশ্চর্যজনক ঘটনা সম্পর্কে রচিত আরবদের কতক কবিতা ইবন ইসহাক এ প্রসংগে উল্লেখ করেছেন। এগুলো যেমন বিশুদ্ধ ও অলংকার সমৃদ্ধ, তেমনি শ্রুতিমধুর। আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং পাঠকগণ বিরক্তি বোধ করবেন এ আশংকায় আমরা সেগুলো উল্লেখ থেকে বিরত রইলাম।