১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৮
রাসূলুল্লাহ (সা)-এর লালন-পালনকারী ও দাই-মাগণের বিবরণ
উম্মে আয়মান রাসূলুল্লাহ (সা)-কে লালন-পালন করতেন। তাঁর আসল নাম ছিল বারাকা— এই উম্মে আয়মানকে রাসূলুল্লাহ (সা) উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে নবী করীম (সা) তাঁকে আযাদ করে তাঁর আযাদকৃত গোলাম যায়েদ ইবনে হারিছার সঙ্গে বিবাহ দেন। এই স্ত্রীর গর্ভেই যায়েদ ইবনে হারিছার পুত্র উসামা ইবনে যায়েদ (রা)-এর জন্ম হয়।
হালীমা সাদিয়ার আগে তাঁর মা আমিনা এবং আবু লাহাব-এর দাসী ছুওয়াইবা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-কে দুধপান করাতেন।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে বর্ণনা করেন যে, আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা একদিন রাসূল (সা)-কে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমার বোন আযযাহ বিনত আবু সুফিয়ানকে বিয়ে করুন!’ উত্তরে রাসূল (সা) বললেনঃ ‘এটি কি তুমি পছন্দ কর?’ আমি বললামঃ ‘জ্বী হ্যাঁ। তবে আমিই তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই? কল্যাণ লাভে আমার বোনটি আমার সাথে শরীক হোক এটি আমার পছন্দনীয়।’ রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ‘কিন্তু আমার জন্য হালাল হবে না।’ উম্মে হাবীবাহ বলেন, ‘তখন আমি বললাম, আমরা কিন্তু বলাবলি করছি যে, আপনি আবু সালামার কন্যাকে বিয়ে করতে আগ্রহী।’ এক বর্ণনায় আবু সালামার কন্যা দুররার নামও উল্লেখ আছে। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ‘তুমি কি উম্মে সালামার কন্যার কথা বলছ?’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেনঃ ‘উম্মে সালামার কন্যা যদি আমার স্ত্রীর সাথে আগত পালিতা কন্যা নাও হত, তবুও সে আমার জন্য হালাল হত না।’ কারণ সে আমার দুধ ভাই এর কন্যা। ছুওয়াইবা আমি এবং আবু সালামা উভয়কেই দুধ পান করান। অতএব তোমরা আমার কাছে তোমাদের কন্যা ও বোনদের কোন প্রস্তাব নিয়ে এস না।’ বুখারীর বর্ণনায় এও আছে যে, উরওয়া (র) বলেন, ছুওয়াইবা হচ্ছেন আবু লাহাবের আযাদকৃত দাসী। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে দুধ পান করিয়ে ছিলেন। আবু লাহাব এর মৃত্যুর পর তারই পরিবারের কেউ একজন তাকে অত্যন্ত বিমর্ষ অবস্থায় স্বপ্নে দেখেন। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি এখন কি হালে আছেন?’ আবু লাহাব বলল, ‘তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এ পর্যন্ত আমি কোন কল্যাণ চোখে দেখিনি। তবে ছুওয়াইবাকে মুক্ত করে দেয়ার বদৌলতে আমি এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছি। এই বলে সে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীয় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি ছিদ্রের প্রতি ইংগিত করে।’
সুহায়লী প্রমুখ উল্লেখ করেছেন, আবু লাহাবকে যিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন, তিনি তারই ভাই আব্বাস (রা)। ঘটনাটি ঘটেছিল আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর, বদর যুদ্ধের পরে। সেই স্বপ্নের বিবরণে একথাও উল্লেখ আছে যে, আবু লাহাব আব্বাসকে বলেছিল যে, সোমবার দিবসে আমার শাস্তি লঘু করা হয়। অভিজ্ঞ মহল বলেন, তার কারণ এই ছিল যে, ছুওয়াইবা যখন আবু লাহাবকে তার ভাতিজা মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহর জন্মের সুসংবাদ প্রদান করে, তক্ষণাৎ সে ছুওয়াইবাকে আযাদ করে দিয়েছিল। এটা তারই পুরস্কার স্বরূপ।
হালীমা সাদিয়ার আগে তাঁর মা আমিনা এবং আবু লাহাব-এর দাসী ছুওয়াইবা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-কে দুধপান করাতেন।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে বর্ণনা করেন যে, আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা একদিন রাসূল (সা)-কে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমার বোন আযযাহ বিনত আবু সুফিয়ানকে বিয়ে করুন!’ উত্তরে রাসূল (সা) বললেনঃ ‘এটি কি তুমি পছন্দ কর?’ আমি বললামঃ ‘জ্বী হ্যাঁ। তবে আমিই তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই? কল্যাণ লাভে আমার বোনটি আমার সাথে শরীক হোক এটি আমার পছন্দনীয়।’ রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ‘কিন্তু আমার জন্য হালাল হবে না।’ উম্মে হাবীবাহ বলেন, ‘তখন আমি বললাম, আমরা কিন্তু বলাবলি করছি যে, আপনি আবু সালামার কন্যাকে বিয়ে করতে আগ্রহী।’ এক বর্ণনায় আবু সালামার কন্যা দুররার নামও উল্লেখ আছে। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ‘তুমি কি উম্মে সালামার কন্যার কথা বলছ?’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেনঃ ‘উম্মে সালামার কন্যা যদি আমার স্ত্রীর সাথে আগত পালিতা কন্যা নাও হত, তবুও সে আমার জন্য হালাল হত না।’ কারণ সে আমার দুধ ভাই এর কন্যা। ছুওয়াইবা আমি এবং আবু সালামা উভয়কেই দুধ পান করান। অতএব তোমরা আমার কাছে তোমাদের কন্যা ও বোনদের কোন প্রস্তাব নিয়ে এস না।’ বুখারীর বর্ণনায় এও আছে যে, উরওয়া (র) বলেন, ছুওয়াইবা হচ্ছেন আবু লাহাবের আযাদকৃত দাসী। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে দুধ পান করিয়ে ছিলেন। আবু লাহাব এর মৃত্যুর পর তারই পরিবারের কেউ একজন তাকে অত্যন্ত বিমর্ষ অবস্থায় স্বপ্নে দেখেন। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি এখন কি হালে আছেন?’ আবু লাহাব বলল, ‘তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এ পর্যন্ত আমি কোন কল্যাণ চোখে দেখিনি। তবে ছুওয়াইবাকে মুক্ত করে দেয়ার বদৌলতে আমি এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছি। এই বলে সে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীয় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি ছিদ্রের প্রতি ইংগিত করে।’
সুহায়লী প্রমুখ উল্লেখ করেছেন, আবু লাহাবকে যিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন, তিনি তারই ভাই আব্বাস (রা)। ঘটনাটি ঘটেছিল আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর, বদর যুদ্ধের পরে। সেই স্বপ্নের বিবরণে একথাও উল্লেখ আছে যে, আবু লাহাব আব্বাসকে বলেছিল যে, সোমবার দিবসে আমার শাস্তি লঘু করা হয়। অভিজ্ঞ মহল বলেন, তার কারণ এই ছিল যে, ছুওয়াইবা যখন আবু লাহাবকে তার ভাতিজা মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহর জন্মের সুসংবাদ প্রদান করে, তক্ষণাৎ সে ছুওয়াইবাকে আযাদ করে দিয়েছিল। এটা তারই পুরস্কার স্বরূপ।