১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৫
গুহায় আশ্রয় গ্রহণকারী তিন ব্যক্তির ঘটনা
পূর্বেকার যামানার তিন ব্যক্তি একদা একটি গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। গুহার মুখটি অকস্মাৎ রুদ্ধ হয়ে যায়। তখন তারা নিজেদের সৎকর্মের উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট জিকির">দোয়া করেন। আল্লাহ তাদেরকে বিপন্মুক্ত করেন।
ইমাম বুখারী (র) ইবন উমার (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের পূর্বেকার যুগের তিনজন লোক পথ চলছিল। হঠাৎ তারা ঝড়ে পতিত হয়। তারা একটি গুহায় আশ্রয় নেয়। তখন অকস্মাৎ গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তারা পরস্পরে বলাবলি করতে থাকে, ‘আল্লাহর কসম! এই বিপদটি থেকে যে কোন পুণ্যকর্মের উসিলা ব্যতীত তোমরা মুক্তি পাবে না। এখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ উত্তম কর্মের উসিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া কর।’ তাদের একজন বলেন, দোয়া শুরু করল, “হে আল্লাহ’ আপনি তো জানেন, আমার এক শ্রমিক ছিল। এক ফুরক [মদীনা শরীফে প্রচলিত তিন সা বা দশ কেজি বিশিষ্ট মাপপাত্র] ধান পারিশ্রমিক ধার্য করে সে আমার কাজে নিয়োজিত হয়েছিল। কাজ শেষে পারিশ্রমিক না নিয়েই সে চলে যায়। অতঃপর তার সে ধান আমি জমিতে বপন করে ফসল উৎপন্ন করি। ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অবশেষে তা দিয়ে আমি একটি গাভী ক্রয় করি। একদিন সে আমার নিকট তার পারিশ্রমিক নেয়ার জন্যে আসে। আমি বলি, ওই যে গাভী তা তুমি নিয়ে যাও। সে আমাকে বলে, আমার তো আপনার নিকট শুধু এক ফুরক ধানই পাওনা। আমি বলি, তোমার সে ধান থেকেই এই গাভী তুমি তা নিয়ে যাও। সে তখন ঐ গাভীটি নিয়ে চলে যায়। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ভয়েই আমি এরূপ করেছি, তবে আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। এতে পাথর একটুখানি ফাক হয়ে যায়।
অপর একজন বলেন, হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন, আমার ঘরে বৃদ্ধ মাতা পিতা ছিলেন। প্রতি রাতে আমি তাদেরকে বকরীর দুধ পান করাতাম। এক রাতে আমার আসতে বিলম্ব হয়ে যায়। আমি যখন আসি, তখন আমার পিতামাতা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আমার পরিবার-পরিজন ও ছেলে-মেয়েরা তখনও ক্ষুধায় ছটফট করছিল, কান্নাকাটি করছিল। আমার পিতামাতা দুধ পান না করা পর্যন্ত আমি পরিবারের কাউকেই দুধ পান করতে দিতাম না। এ সময়ে আমি পিতামাতাকে ঘুম থেকে জাগ্রত করা সমীচীন মনে করিনি। আবার তাদেরকে রেখে পরিবারের অন্যদেরকে দুধ খেতে দেয়াও পছন্দ করিনি। আমি তাদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষায় থাকি। এভাবে ভোর হয়ে যায়। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আমার ভয়ে আমি এরূপ করেছি তাহলে আমাদের বিপদ দূর করে দিন! অতঃপর গুহার মুখের পাথর আরেকটু ফাক হয়ে যায়, যাতে আকাশ দেখতে পাওয়া যায়। তাদের অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন, আমার এক চাচাত বোন ছিল। সে ছিল আমার সর্বাধিক প্রিয়। আমি তাকে কুকর্মের জন্য প্ররোচিত করি। একশ’টি স্বর্ণ মুদ্রা না দেওয়া পর্যন্ত সে তাতে অস্বীকৃতি জানায়। আমি সে পরিমাণ স্বর্ণ মুদ্রা অর্জনের চেষ্টা চালাই। আমি তা সংগ্রহ করে তা তার হাতে তা অৰ্পণ করি। তখন সে আমাকে সুযোগ দেয়। আমি যখন চূড়ান্ত মুহূর্তে উপনীত হই তখন সে বলে ওঠে, আল্লাহকে ভয় করুন! বৈধ পন্থায় ব্যতীত আমার শ্লীলতাহানি করবেন না। তখনই আমি উঠে আসি এবং আমার একশ’ স্বর্ণ মুদ্রাও রেখে আসি। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ভয়েই আমি তা করেছি, তবে আমাদের বিপদ দূর করে দিন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের বিপদ দূর করে দিলেন। তারা গুহা থেকে বেরিয়ে আসে।
ইমাম মুসলিম (র) ইমাম আহমদ (র) নিজ নিজ সনদে অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম আহমদের একটি বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত কথাও রয়েছে। বাযযারও অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
ইমাম বুখারী (র) ইবন উমার (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের পূর্বেকার যুগের তিনজন লোক পথ চলছিল। হঠাৎ তারা ঝড়ে পতিত হয়। তারা একটি গুহায় আশ্রয় নেয়। তখন অকস্মাৎ গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তারা পরস্পরে বলাবলি করতে থাকে, ‘আল্লাহর কসম! এই বিপদটি থেকে যে কোন পুণ্যকর্মের উসিলা ব্যতীত তোমরা মুক্তি পাবে না। এখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ উত্তম কর্মের উসিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া কর।’ তাদের একজন বলেন, দোয়া শুরু করল, “হে আল্লাহ’ আপনি তো জানেন, আমার এক শ্রমিক ছিল। এক ফুরক [মদীনা শরীফে প্রচলিত তিন সা বা দশ কেজি বিশিষ্ট মাপপাত্র] ধান পারিশ্রমিক ধার্য করে সে আমার কাজে নিয়োজিত হয়েছিল। কাজ শেষে পারিশ্রমিক না নিয়েই সে চলে যায়। অতঃপর তার সে ধান আমি জমিতে বপন করে ফসল উৎপন্ন করি। ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অবশেষে তা দিয়ে আমি একটি গাভী ক্রয় করি। একদিন সে আমার নিকট তার পারিশ্রমিক নেয়ার জন্যে আসে। আমি বলি, ওই যে গাভী তা তুমি নিয়ে যাও। সে আমাকে বলে, আমার তো আপনার নিকট শুধু এক ফুরক ধানই পাওনা। আমি বলি, তোমার সে ধান থেকেই এই গাভী তুমি তা নিয়ে যাও। সে তখন ঐ গাভীটি নিয়ে চলে যায়। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ভয়েই আমি এরূপ করেছি, তবে আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। এতে পাথর একটুখানি ফাক হয়ে যায়।
অপর একজন বলেন, হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন, আমার ঘরে বৃদ্ধ মাতা পিতা ছিলেন। প্রতি রাতে আমি তাদেরকে বকরীর দুধ পান করাতাম। এক রাতে আমার আসতে বিলম্ব হয়ে যায়। আমি যখন আসি, তখন আমার পিতামাতা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আমার পরিবার-পরিজন ও ছেলে-মেয়েরা তখনও ক্ষুধায় ছটফট করছিল, কান্নাকাটি করছিল। আমার পিতামাতা দুধ পান না করা পর্যন্ত আমি পরিবারের কাউকেই দুধ পান করতে দিতাম না। এ সময়ে আমি পিতামাতাকে ঘুম থেকে জাগ্রত করা সমীচীন মনে করিনি। আবার তাদেরকে রেখে পরিবারের অন্যদেরকে দুধ খেতে দেয়াও পছন্দ করিনি। আমি তাদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষায় থাকি। এভাবে ভোর হয়ে যায়। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আমার ভয়ে আমি এরূপ করেছি তাহলে আমাদের বিপদ দূর করে দিন! অতঃপর গুহার মুখের পাথর আরেকটু ফাক হয়ে যায়, যাতে আকাশ দেখতে পাওয়া যায়। তাদের অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন, আমার এক চাচাত বোন ছিল। সে ছিল আমার সর্বাধিক প্রিয়। আমি তাকে কুকর্মের জন্য প্ররোচিত করি। একশ’টি স্বর্ণ মুদ্রা না দেওয়া পর্যন্ত সে তাতে অস্বীকৃতি জানায়। আমি সে পরিমাণ স্বর্ণ মুদ্রা অর্জনের চেষ্টা চালাই। আমি তা সংগ্রহ করে তা তার হাতে তা অৰ্পণ করি। তখন সে আমাকে সুযোগ দেয়। আমি যখন চূড়ান্ত মুহূর্তে উপনীত হই তখন সে বলে ওঠে, আল্লাহকে ভয় করুন! বৈধ পন্থায় ব্যতীত আমার শ্লীলতাহানি করবেন না। তখনই আমি উঠে আসি এবং আমার একশ’ স্বর্ণ মুদ্রাও রেখে আসি। হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার ভয়েই আমি তা করেছি, তবে আমাদের বিপদ দূর করে দিন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের বিপদ দূর করে দিলেন। তারা গুহা থেকে বেরিয়ে আসে।
ইমাম মুসলিম (র) ইমাম আহমদ (র) নিজ নিজ সনদে অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম আহমদের একটি বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত কথাও রয়েছে। বাযযারও অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।