১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৭
এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার নিয়ে তা পরিশোধের ঘটনা
ইমাম আহমদ (র) বলেন, হযরত হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বনী ইসরাঈলের এক লোকের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। উক্ত লোক বনী ইসরাঈলের অন্য এক ব্যক্তি থেকে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা ধার চেয়েছিল। ঋণদাতা বললো, ‘কয়েকজন সাক্ষী নিয়ে আস।’ সে বললো, ‘সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।’ ঋণদাতা বলেছিল, ‘একজন জামিন নিয়ে আসুন।’ সে বলল, ‘জামিন হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’ ঋণদাতা তখন বলে, ‘তুমি যথার্থই বলেছো।’
সে মতে সে তাকে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা দিল। ঋণ গ্রহিতা এরপর এক সমুদ্র যাত্রায় বের হয়। তার কাজ শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ে সে ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে ঋণ দাতার নিকট পৌঁছার জন্যে একটি বাহন খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোন বাহন সে খুঁজে পায়নি। তখন সে একটি কাষ্ঠখণ্ড সংগ্রহ করে। সেটিকে ছিদ্র করে। এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা এবং ঋণদাতার উদ্দেশ্যে লিখিত একটি চিঠি সে ঐ ছিদ্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। অতঃপর ভাল করে ছিদ্রের স্থানটি বন্ধ করে দেয়। অতঃপর ঐ কাষ্ঠখণ্ডটি নিয়ে সে উপস্থিত হয় সমুদ্রের তীরে। সে বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন অমুক ব্যক্তি থেকে আমি এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা ধার নিয়েছিলাম। সে আমার নিকট জামিন দাবি করে। আমি তাকে বলেছিলাম যে, জামিন রূপে আল্লাহই যথেষ্ট। সে আমার নিকট সাক্ষী দাবি করে। আমি বলি সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট। এতে সে রাজী হয়। আমি তো যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি একটি বাহন যোগাড় করার জন্যে। যাতে যথাসময়ে আমি তার টাকা পৌঁছিয়ে দিতে পারি। কিন্তু আমি কোন বাহন পেলাম না। এখন সেই এক হাজার মুদ্রা আপনার নিকট আমানত রাখছি।’ এ বলে ঐ কাষ্ঠখণ্ডটি সে সমুদ্র ভাসিয়ে দেয়। কাঠ ভেসে যায় সমুদ্রে। সে ফিরে যায় এবং নিজ দেশে পৌঁছার জন্যে বাহন খুঁজতে থাকে। ঋণ গ্রহীতা তার সম্পদ নিয়ে আগমনকারী বাহনের অপেক্ষায় থাকে। হঠাৎ সেই সম্পদ সম্বলিত কাঠটি তার নজরে পড়ে। পরিবারের জ্বালানি কাঠ রূপে ব্যবহারের জন্যে সে কাঠটি বাড়ি নিয়ে যায়। সেটি কাটতে গিয়ে সে উক্ত স্বর্ণ মুদ্রা ও চিঠিটি পায়। পরবর্তীতে একদিন ঋণ গ্রহীতা তার নিকট এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা নিয়ে এসে উপস্থিত হয়। সে বলে, ‘আমি বাহন সংগ্রহ করার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। যাতে করে পাওনা টাকা নিয়ে যথাসময়ে আপনার নিকট আসতে পারি। কিন্তু যে বাহনে করে আমি আপনার নিকট এসেছি সেটির পূর্বে কোন বাহন পাইনি।’ ঋণদাতা বললো, ‘তুমি ইতিপূর্বে আমার নিকট কোন কিছু প্রেরণ করেছিলে?’ সে বললো, ‘আমি তো আপনাকে বলেছি-ই যে, এ বাহনের পূর্বে আমি কোন বাহন পাইনি।’ ঋণ দাতা বললো, ‘তোমার কাঠের ভেতরে রাখা স্বর্ণ মুদ্রা আল্লাহ তাআলা আমার নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। যে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা সাথে করে এনেছো তা নিয়ে তুমি ফিরে যাও।’
ইমাম আহমদরে সনদ সহকারে হাদীসটি এভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী (র) তার সহীহ গ্রন্থের একাধিক স্থানে সনদ ছাড়াই নিশ্চয়তা প্রকাশক শব্দ দ্বারা লাইছ ইবন সাদ সূত্রে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁর কাতিব আবদুল্লাহ ইবন সালিহ সূত্রে সনদ সহকারে উল্লেখ করেছেন। এতদসত্ত্বেও হাকিম বাযযার যে তার মুসনাদ গ্রন্থে হাদীসটি একক বর্ণনা বলে মন্তব্য করেছেন, তাতে বিস্মিত হতে হয়।
সে মতে সে তাকে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা দিল। ঋণ গ্রহিতা এরপর এক সমুদ্র যাত্রায় বের হয়। তার কাজ শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ে সে ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে ঋণ দাতার নিকট পৌঁছার জন্যে একটি বাহন খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোন বাহন সে খুঁজে পায়নি। তখন সে একটি কাষ্ঠখণ্ড সংগ্রহ করে। সেটিকে ছিদ্র করে। এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা এবং ঋণদাতার উদ্দেশ্যে লিখিত একটি চিঠি সে ঐ ছিদ্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। অতঃপর ভাল করে ছিদ্রের স্থানটি বন্ধ করে দেয়। অতঃপর ঐ কাষ্ঠখণ্ডটি নিয়ে সে উপস্থিত হয় সমুদ্রের তীরে। সে বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন অমুক ব্যক্তি থেকে আমি এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা ধার নিয়েছিলাম। সে আমার নিকট জামিন দাবি করে। আমি তাকে বলেছিলাম যে, জামিন রূপে আল্লাহই যথেষ্ট। সে আমার নিকট সাক্ষী দাবি করে। আমি বলি সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট। এতে সে রাজী হয়। আমি তো যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি একটি বাহন যোগাড় করার জন্যে। যাতে যথাসময়ে আমি তার টাকা পৌঁছিয়ে দিতে পারি। কিন্তু আমি কোন বাহন পেলাম না। এখন সেই এক হাজার মুদ্রা আপনার নিকট আমানত রাখছি।’ এ বলে ঐ কাষ্ঠখণ্ডটি সে সমুদ্র ভাসিয়ে দেয়। কাঠ ভেসে যায় সমুদ্রে। সে ফিরে যায় এবং নিজ দেশে পৌঁছার জন্যে বাহন খুঁজতে থাকে। ঋণ গ্রহীতা তার সম্পদ নিয়ে আগমনকারী বাহনের অপেক্ষায় থাকে। হঠাৎ সেই সম্পদ সম্বলিত কাঠটি তার নজরে পড়ে। পরিবারের জ্বালানি কাঠ রূপে ব্যবহারের জন্যে সে কাঠটি বাড়ি নিয়ে যায়। সেটি কাটতে গিয়ে সে উক্ত স্বর্ণ মুদ্রা ও চিঠিটি পায়। পরবর্তীতে একদিন ঋণ গ্রহীতা তার নিকট এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা নিয়ে এসে উপস্থিত হয়। সে বলে, ‘আমি বাহন সংগ্রহ করার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। যাতে করে পাওনা টাকা নিয়ে যথাসময়ে আপনার নিকট আসতে পারি। কিন্তু যে বাহনে করে আমি আপনার নিকট এসেছি সেটির পূর্বে কোন বাহন পাইনি।’ ঋণদাতা বললো, ‘তুমি ইতিপূর্বে আমার নিকট কোন কিছু প্রেরণ করেছিলে?’ সে বললো, ‘আমি তো আপনাকে বলেছি-ই যে, এ বাহনের পূর্বে আমি কোন বাহন পাইনি।’ ঋণ দাতা বললো, ‘তোমার কাঠের ভেতরে রাখা স্বর্ণ মুদ্রা আল্লাহ তাআলা আমার নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। যে এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা সাথে করে এনেছো তা নিয়ে তুমি ফিরে যাও।’
ইমাম আহমদরে সনদ সহকারে হাদীসটি এভাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী (র) তার সহীহ গ্রন্থের একাধিক স্থানে সনদ ছাড়াই নিশ্চয়তা প্রকাশক শব্দ দ্বারা লাইছ ইবন সাদ সূত্রে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁর কাতিব আবদুল্লাহ ইবন সালিহ সূত্রে সনদ সহকারে উল্লেখ করেছেন। এতদসত্ত্বেও হাকিম বাযযার যে তার মুসনাদ গ্রন্থে হাদীসটি একক বর্ণনা বলে মন্তব্য করেছেন, তাতে বিস্মিত হতে হয়।