১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৪
বারসীসা-এর ঘটনা
এটি জুরায়জের ঘটনার বিপরীত। জুরায়জ ছিলেন পুতঃপবিত্র আর বারসীসা ছিল পথ-ভ্রষ্ট। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ
( كَمَثَلِ ٱلشَّیۡطَـٰنِ إِذۡ قَالَ لِلۡإِنسَـٰنِ ٱكۡفُرۡ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّی بَرِیۤء ࣱ مِّنكَ إِنِّیۤ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ فَكَانَ عَـٰقِبَتَهُمَاۤ أَنَّهُمَا فِی ٱلنَّارِ خَـٰلِدَیۡنِ فِیهَاۚ وَذَ ٰ لِكَ جَزَ ٰ ۤؤُا۟ ٱلظَّـٰلِمِینَ )
[Surah Al-Hashr 16 - 17]
“এরা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, কুফরী কর, তারপর যখন সে কুফরী করে তখন সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।” (৫৯ হাশরঃ ১৬-১৭)
ফলে উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেথায় তারা স্থায়ী হবে। আর এটাই জালিমদের কর্মফল। এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইবন জারীর আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে বলেন, একজন মহিলা বকরী চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত।
একদিন যাজক এসে তার সাথে কুকর্ম করে। তাতে সে অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচণা দিয়ে বলে, মহিলাকে খুন করে মাটি চাপা দিয়ে দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে। শয়তানের প্ররোচণায় সে মহিলাটিকে খুন করে এবং মাটি চাপা দিয়ে দেয়। এবার শয়তান স্বপ্নে মহিলার ভাইদের নিকট উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে যে, উপসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সাথে কুকর্ম করেছে এবং সে অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে। সকাল হলে ভাইদের একজন বললো, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের কে বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’
অন্যরা বলল, ‘তুমি বরং ঐ স্বপ্নের কথা আমাদেরকে বল।’ সে তা বর্ণনা করলো। অন্যজন বললো, ‘আল্লাহর কসম, আমিও স্বপ্নে তাই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বললো, ‘আমিও তাই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে যে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন রহস্য আছে। তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের নিকট যায় এবং তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময়ে শয়তান যাজকের নিকট উপস্থিত হয়ে বলে, আমিই তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা কর; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ সে মতে সে তাকে সিজদা করল। তারপর শাস্তি বিধানের জন্যে যখন শাসনকর্তার নিকট তাকে নিয়ে গেল তখন শয়তান সেখান থেকে কেটে পড়ে তখন তাকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ইবন আব্বাস (রা) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আমিরুল মুমিনীন আলী ইবন আলী তালিব (রা) থেকে অন্য এক সনদে এ ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে। ইবন জারীর আবদুল্লাহ ইবন নাহীদকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমি আলী (রা)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন, এক ধর্মযাজক দীর্ঘ ষাট বছর ধরে ইবাদত করেছিল। শয়তান তাকে জব্দ করতে ফন্দি আঁটে। অতঃপর সে এক মহিলার ওপর আছর করে। সে মহিলার কয়েকটি ভাই ছিল। ভাইদেরকে সে বলল, ওকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাজকের কাছে নিয়ে যাও। ভাইয়েরা মহিলাটিকে যাজকের নিকট নিয়ে যায়। তার চিকিৎসা করল। মহিলাটি কয়েকদিন তার ওখানে ছিল। একদিনের কথা। মহিলার প্রতি আসক্ত হয়ে সে তার সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়। সে তাতে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। অবশেষে যাজকটি তাকে হত্যা করে। তার ভাইয়েরা বোনের খোজে যাজকের নিকট আসে। এ দিকে শয়তানও তার কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘এক সময় তুমি আমাকে ব্যর্থ করে দিয়েছিলে। এখন আমিই তোমাকে দিয়ে এসব কাণ্ড ঘটিয়েছি। অতএব এখন তুমি আমার আনুগত্য কর। আমি তোমাকে উদ্ধার করব। তুমি আমাকে একটি সিজদা কর।’ যাজকটি তাকে সিজদা করল। তখন শয়তান বলল, ‘এখন তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
( كَمَثَلِ ٱلشَّیۡطَـٰنِ إِذۡ قَالَ لِلۡإِنسَـٰنِ ٱكۡفُرۡ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّی بَرِیۤء ࣱ مِّنكَ إِنِّیۤ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ )
[Surah Al-Hashr 16]
“এরা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, কুফরী কর। অতঃপর যখন সে কুফরী করে, তখন সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি” (৫৯ হাশরঃ ১৬)
( كَمَثَلِ ٱلشَّیۡطَـٰنِ إِذۡ قَالَ لِلۡإِنسَـٰنِ ٱكۡفُرۡ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّی بَرِیۤء ࣱ مِّنكَ إِنِّیۤ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ فَكَانَ عَـٰقِبَتَهُمَاۤ أَنَّهُمَا فِی ٱلنَّارِ خَـٰلِدَیۡنِ فِیهَاۚ وَذَ ٰ لِكَ جَزَ ٰ ۤؤُا۟ ٱلظَّـٰلِمِینَ )
[Surah Al-Hashr 16 - 17]
“এরা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, কুফরী কর, তারপর যখন সে কুফরী করে তখন সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।” (৫৯ হাশরঃ ১৬-১৭)
ফলে উভয়ের পরিণাম হবে জাহান্নাম। সেথায় তারা স্থায়ী হবে। আর এটাই জালিমদের কর্মফল। এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইবন জারীর আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে বলেন, একজন মহিলা বকরী চরাত। তার ছিল চার ভাই। রাতের বেলা সে ধর্মযাজকের উপাসনালয়ে এসে আশ্রয় নিত।
একদিন যাজক এসে তার সাথে কুকর্ম করে। তাতে সে অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। শয়তান এসে প্ররোচণা দিয়ে বলে, মহিলাকে খুন করে মাটি চাপা দিয়ে দাও। লোকে তো তোমাকে বিশ্বাস করে। তারা তোমার কথা শুনবে। শয়তানের প্ররোচণায় সে মহিলাটিকে খুন করে এবং মাটি চাপা দিয়ে দেয়। এবার শয়তান স্বপ্নে মহিলার ভাইদের নিকট উপস্থিত হয়। তাদেরকে বলে যে, উপসনালয়ের যাজক তোমাদের বোনের সাথে কুকর্ম করেছে এবং সে অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাকে খুন করে অমুক স্থানে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে। সকাল হলে ভাইদের একজন বললো, ‘আল্লাহর কসম! গত রাতে আমি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখি, সেটি তোমাদের কে বলব কি বলব না তা স্থির করতে পারছি না।’
অন্যরা বলল, ‘তুমি বরং ঐ স্বপ্নের কথা আমাদেরকে বল।’ সে তা বর্ণনা করলো। অন্যজন বললো, ‘আল্লাহর কসম, আমিও স্বপ্নে তাই দেখেছি।’ তৃতীয়জন বললো, ‘আমিও তাই দেখেছি।’ তখন তারা বলাবলি করে যে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন রহস্য আছে। তারা সবাই তাদের শাসনকর্তাকে যাজকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তারপর সবাই যাজকের নিকট যায় এবং তাকে উপাসনালয় থেকে নামিয়ে আনে। এ সময়ে শয়তান যাজকের নিকট উপস্থিত হয়ে বলে, আমিই তোমাকে এ বিপদে ফেলেছি। আমি ছাড়া কেউ তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি আমাকে একটি সিজদা কর; আমি তোমাকে যে বিপদে ফেলেছি তা থেকে উদ্ধার করব।’ সে মতে সে তাকে সিজদা করল। তারপর শাস্তি বিধানের জন্যে যখন শাসনকর্তার নিকট তাকে নিয়ে গেল তখন শয়তান সেখান থেকে কেটে পড়ে তখন তাকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ইবন আব্বাস (রা) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আমিরুল মুমিনীন আলী ইবন আলী তালিব (রা) থেকে অন্য এক সনদে এ ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে। ইবন জারীর আবদুল্লাহ ইবন নাহীদকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমি আলী (রা)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন, এক ধর্মযাজক দীর্ঘ ষাট বছর ধরে ইবাদত করেছিল। শয়তান তাকে জব্দ করতে ফন্দি আঁটে। অতঃপর সে এক মহিলার ওপর আছর করে। সে মহিলার কয়েকটি ভাই ছিল। ভাইদেরকে সে বলল, ওকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাজকের কাছে নিয়ে যাও। ভাইয়েরা মহিলাটিকে যাজকের নিকট নিয়ে যায়। তার চিকিৎসা করল। মহিলাটি কয়েকদিন তার ওখানে ছিল। একদিনের কথা। মহিলার প্রতি আসক্ত হয়ে সে তার সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয়। সে তাতে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। অবশেষে যাজকটি তাকে হত্যা করে। তার ভাইয়েরা বোনের খোজে যাজকের নিকট আসে। এ দিকে শয়তানও তার কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘এক সময় তুমি আমাকে ব্যর্থ করে দিয়েছিলে। এখন আমিই তোমাকে দিয়ে এসব কাণ্ড ঘটিয়েছি। অতএব এখন তুমি আমার আনুগত্য কর। আমি তোমাকে উদ্ধার করব। তুমি আমাকে একটি সিজদা কর।’ যাজকটি তাকে সিজদা করল। তখন শয়তান বলল, ‘এখন তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ
( كَمَثَلِ ٱلشَّیۡطَـٰنِ إِذۡ قَالَ لِلۡإِنسَـٰنِ ٱكۡفُرۡ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّی بَرِیۤء ࣱ مِّنكَ إِنِّیۤ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ )
[Surah Al-Hashr 16]
“এরা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, কুফরী কর। অতঃপর যখন সে কুফরী করে, তখন সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি” (৫৯ হাশরঃ ১৬)