hadith book logo

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড

লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

হযরত আল-য়াসা' (আ)-এর বিবরণ

আল্লাহ তা'আলা আল-য়াসাআ-এর নাম অন্যান্য নবীর নামের সাথে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন। সূরা আনআমে বলা হয়েছেঃ

( وَإِسۡمَـٰعِیلَ وَٱلۡیَسَعَ وَیُونُسَ وَلُوط ࣰ اۚ وَكُلّ ࣰ ا فَضَّلۡنَا عَلَى ٱلۡعَـٰلَمِینَ )

[Surat Al-An'am 86]

অর্থঃ আরও সৎ পথে পরিচালিত করেছিলাম ইসমাঈল, আল-য়াসা'আ, ইউনুস ও লূতকে; এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্ব জগতের উপর প্রত্যেককে (আনআমঃ ৮৬)।

সূরা সাদ এ বলা হয়েছেঃ

( وَٱذۡكُرۡ إِسۡمَـٰعِیلَ وَٱلۡیَسَعَ وَذَا ٱلۡكِفۡلِۖ وَكُلّ ࣱ مِّنَ ٱلۡأَخۡیَارِ )

[Surat Sad 48]

অর্থাৎ, স্মরণ কর, ইসমাঈল, আল-য়াসা‘আ ও যুল-কিফুলের কথা, এরা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন। (৩৮ সাদঃ ৪৮)।

ইসহাক ইবন বিশর আবু হুযায়ফা.....হাসান (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইলিয়াস (আ)-এর পরে আল-য়াসা'আ ছিলেন বনী ইসরাঈলের নবী। তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাদের মধ্যে অবস্থান করেন। বনী ইসরাঈলকে তিনি আল্লাহর আনুগত্য করার ও ইলিয়াসের শরীআতের অনুবর্তী হওয়ার আহ্বান জানান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন যান। তাঁর ইনতিকালের পর আগত বনী ইসরাঈলের বহু প্রজন্ম এ পৃথিবীতে আগমন করে। তাদের মধ্যে ব্যাপক হারে বিভিন্ন প্রকার বিদ'আত ও পাপাচার সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময়ে বহু অত্যাচারী বাদশাহর আবির্ভাব ঘটে। তারা আল্লাহর নবীগণকে নির্বিচারে হত্যা করে। এদের মধ্যে একজন ছিল অত্যন্ত অহংকারী ও সীমালংঘনকারী। কথিত আছে, হযরত যুল-কিফল (আ) এই অহংকারী বাদশাহ সম্পর্কে বলেছিলেন যে, সে যদি তওবা করে ও অন্যায় কাজ ত্যাগ করে তবে আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার। এ কারণেই তিনি যুল-কিফল বা যিম্মাদার অভিধায় অভিহিত হন।

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেছেন, আল-য়াসা'আ ছিলেন আখতূবের পুত্র। কিন্তু হাফিজ আবুল কাসিম ইবন আসাকির তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থে ‘ইয়া' ( ياء ) হরফের অধীনে লিখেছেন, আল-য়াসা'আর নাম আসবাত এবং পিতার নাম ‘আদী; বংশ তালিকা নিম্নরূপঃ

আল-য়াসাআ আসবাত ইবন আদী ইব্‌ন শূতালিম ( شوتلم ) ইবন আফরাঈম ( افر ائيم ) ইবন ইউসুফ ইবন ইয়াকূব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আ)। কেউ কেউ বলেন, তিনি ছিলেন হযরত ইলিয়াস (আ)-এর চাচাত ভাই। কথিত আছে, হযরত আল-য়াসা‘আ হযরত ইলিয়াসের সাথে কাসিয়ূন ( قاسيون ) নামক পর্বতে বা‘লা-বাক্কা বাদশাহর ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে উভয়ে সেখান থেকে আপন সম্প্রদায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর ইলিয়াস (আ) ইনতিকাল করলে আল-য়াসা'আ (আ) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং আল্লাহ তাঁকে নবুওত দান করেন। আবদুল মুন‘ইম ইবন ইদরীস তাঁর পিতার সূত্রে ওহাব ইবন মুনাব্বিহ থেকে এই তথ্য প্রদান করেছেন। অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ বলেছেন যে, তিনি বানিয়াসে ( بانياس ) বসবাস করতেন। ইবন আসাকির আল-য়াসা'আ শব্দের বানান সম্পর্কে লিখেছেন, এ শব্দটি তিন প্রকারে উচ্চারিত হয়ে থাকে যথাঃ আল-আসা‘আ ( اليسع ) আল-য়াসা আল-য়াস( اليسع ) এবং আল- লায়াসা'আ ( الليسع )। এটা হচ্ছে একটা নবীর নামের বিভিন্নরূপ। গ্রন্থকার বলেন, আমরা হযরত আইয়ুব (আ)-এর আলোচনার পরে যুল-কিফল সম্পর্কে আলোচনা করে এসেছি। কারণ কথিত আছে, তিনি ছিলেন হযরত আইয়ুব (আ)-এর পুত্র।