hadith book logo

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড

লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৮

পরিচ্ছেদ

বাঁধ ভাঙ্গা প্লাবনে আক্রান্ত হওয়ার পর সাবার সকল গোত্র ইয়ামন ছেড়ে চলে যায়নি। তাদের অধিকাংশই সেখানে বসবাস করেছে। এলাকায় অবস্থানকারী মারিবাসিগণ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলে গিয়েছিল। ইতিপূর্বে বর্ণিত হযরত ইবন আব্বাস (রা)-এর হাদীসের মর্মও এই যে, সাবার সকল গোত্র ইয়ামন ছেড়ে চলে যায়নি এবং তাদের চারটি গোত্র অন্যত্র চলে যায় ইয়ামানেই থেকে যায় এবং ছয়টি গোত্র তারা হলো মুহিজ, ফিন্দা, আনমার (আবু খাসআম) আশআরী, বুজায়লা ও হিময়ার গোত্র। সাবা সম্প্রদায়ের এই ছয়গোত্র ইয়ামনেই বসবাস করতে থাকে। বংশানুক্রমে তাদের মধ্যে রাজত্ব ও তুব্বা পদ চলে আসছিল। অতঃপর এ সময় ইথিওপিয়ার রাজা তার সেনাপতিদ্বয় আবরাহা ও আরইয়াত-এর নেতৃত্বে অভিযান প্রেরণ করে ওদের হাত থেকে বছর রাজত্ব ইথিওপীয়দের হাতে থাকে। অবশেষে সায়ফ ইবন যী ইয়ামীন হিময়ারী ওদের হাত থেকে রাজত্ব পুনরুদ্ধার করে। এই পুনরুদ্ধার সম্পন্ন হয় প্রিয় নবী (সা)-এর আবির্ভাবের অল্প কিছু দিন পূর্বে। এর বিস্তারিত বিবরণ ইবনশাআল্লাহ্ পরে আমরা উল্লেখ করব।

পরবর্তীতে নবী করীম (সা) ইয়ামানের অধিবাসীদের নিকট হযরত আলী (রা) ও হযরত খালিদ ইবন ওলীদ (রা)-কে প্রেরণ করেন। তারও পরে তিনি আবু মূসা আশআরী ও মু’আয ইবন জাবাল (রা)-কে সেখানে প্রেরণ করেন। তাঁরা লোকজনকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিতে এবং তাওহীদী, ঈমান ও ইসলামের যুক্তি প্রমাণগুলো তাদের নিকট স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেন।

এক সময় ভণ্ড নবী আসওয়াদ আনাসী ইয়ামানে প্রভাব সৃষ্টি ও প্রধান্য বিস্তার করে। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতিনিধিকে সেখান থেকে বের করে দেয়। আসওয়াদ আনসী নিহত হওয়ার পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফতকালে সেটি পুনরায় মুসলমানদের কব্জায় এসে যায় এবং ইসলামের বিজয় নিশান উড়তে শুরু করে। রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সীরাত ও ইতিহাস বর্ণনার পর আমরা ইয়ামানে ইসলামী বিজয়ের বিবরণ উল্লেখ করব ইবনশাআল্লাহ্।