১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৩
আরয়াতের বিরুদ্ধে আবরাহা আশরামের বিদ্রোহ
ইবন ইসহাক বলেন, আরয়াত বেশ কয়েক বছর ইয়ামানে একচ্ছত্রভাবে রাজত্ব করে। তারপর তার অধীনস্থ সৈনিক আবরাহা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। হাবশী সৈনিকগণ অতঃপর দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল আবরাহার পেছনে এবং অপর দল আরয়াতের পেছনে সমবেত হয়। উভয় পক্ষ যুদ্ধের জন্যে অগ্রসর হয়। উভয় দল যখন প্রায় মুখোমুখি তখন আবরাহা এই বলে আরয়াতকে চিঠি লিখে যে, হাবশীদের এক দলকে অপর দলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে এবং যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে ক্রমান্বয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া আপনার জন্যে সমীচীন নয়। বরং এক কাজ করুন। আমরা দু’জনে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হই। আমাদের মধ্যে যে জয়ী হবে হাবশী সৈন্যরা তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে। উত্তরে আরয়াত বলে যে, তুমি সঙ্গত কথাই বলেছ। এরপর আবরাহা যুদ্ধের ময়দানে বেরিয়ে আসে। সে ছিল একজন খাটো হৃষ্টপুষ্ট ও খ্রিষ্ট ধর্মানুসারী ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে এল আরয়াত। সে ছিল সুদর্শন, দীর্ঘাঙ্গী ও মোটা মানুষ। তার হাতে ছিল একটি বর্শা। আবরাহার পেছনে আতূদা নামে এক যুবক ছিল সে আবরাহার পেছনে দিক পাহারা দিত। আরয়াত তার বর্শা নিক্ষেপ করে আবরাহার মাথার খুলি লক্ষ্য করে। সেটি গিয়ে পড়ে তার কপালে। কেটে কেটে ক্ষত-বিক্ষত হয় তার ভ্রু, চোখ, নাক ও ঠোঁট। এজন্যেই তার আবরাহা আশরাম তথা ঠোঁট কাটা আবরাহা নাম পড়ে যায়।
আবরাহার পশ্চাত দিক থেকে তার প্রহরী আতূদা আরয়াতের উপর আক্রমণ চালায় এবং তাকে হত্যা করে। ফলে আরয়াতের অনুগামী সৈন্যরা আবরাহার দলে যোগ দেয়। ইয়ামানে সকল হাবশী সৈন্য আবরাহার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং আবরাহা আরয়াতের স্থলাভিষিক্ত হয়। আবিসিনিয়ার রাজা নাজাশীর দরবারে এই সংবাদ পৌঁছে। তিনি আবরাহার উপর ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়। তিনি বলেন, “সে আমার নিযুক্ত সেনাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং আমার অনুমতি ব্যতীত তাকে হত্যা করেছে। তিনি শপথ করলেন যে, আবরাহার রাজ্য পদানত না করে এবং তার মাথা ন্যাড়া না করে তিনি তাকে ছাড়বেন না। নাজাশীর এই ক্রুদ্ধ মন্তব্য ও শপথের সংবাদ পৌঁছে যায় আবরাহার নিকট। সে নিজে তার মাথা ন্যাড়া করে ফেলে এবং এক থলে ভর্তি ইয়ামানের মাটি নেয়। তারপর তা নাজাশীর নিকট প্রেরণ করে। সাথে এ মর্মে চিঠি লিখে যে, মহারাজ! সেনাপতি আরয়াত আপনার আজ্ঞাবহ ছিল। আমিও আপনার আজ্ঞাবহ। আপনার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। উভয়ের কর্ম তৎপরতা ছিল আপনার প্রতি আনুগত্য নির্ভর। তবে এখানকার হাবশীদের নেতৃত্বের জন্যে আমি তার চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী উপযুক্ত ও দক্ষ।
মহারাজের শপথের কথা শুনে আমি নিজে আমার মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছি এবং আমার রাজ্যের এক থলে মাটি রাজদরবারে প্রেরণ করেছি, যাতে তা আপনার পদতলে রাখতে পারেন। তাহলে আমার সম্বন্ধে মহারাজ যে শপথ করেছেন সে শপথ পূর্ণ হবে।
পত্রটি পেয়ে নাজ্জাশী আবরাহার প্রতি সন্তুষ্ট হন। তিনি তার নিকট লিখে পাঠান যে, আমার পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্যন্ত তুমি ইয়ামান রাজ্যে রাজত্ব করে যাও। এভাবে আরবাহা ইয়ামানের শাসন ক্ষমতার অধিষ্ঠিত হয়।
আবরাহার পশ্চাত দিক থেকে তার প্রহরী আতূদা আরয়াতের উপর আক্রমণ চালায় এবং তাকে হত্যা করে। ফলে আরয়াতের অনুগামী সৈন্যরা আবরাহার দলে যোগ দেয়। ইয়ামানে সকল হাবশী সৈন্য আবরাহার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং আবরাহা আরয়াতের স্থলাভিষিক্ত হয়। আবিসিনিয়ার রাজা নাজাশীর দরবারে এই সংবাদ পৌঁছে। তিনি আবরাহার উপর ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়। তিনি বলেন, “সে আমার নিযুক্ত সেনাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং আমার অনুমতি ব্যতীত তাকে হত্যা করেছে। তিনি শপথ করলেন যে, আবরাহার রাজ্য পদানত না করে এবং তার মাথা ন্যাড়া না করে তিনি তাকে ছাড়বেন না। নাজাশীর এই ক্রুদ্ধ মন্তব্য ও শপথের সংবাদ পৌঁছে যায় আবরাহার নিকট। সে নিজে তার মাথা ন্যাড়া করে ফেলে এবং এক থলে ভর্তি ইয়ামানের মাটি নেয়। তারপর তা নাজাশীর নিকট প্রেরণ করে। সাথে এ মর্মে চিঠি লিখে যে, মহারাজ! সেনাপতি আরয়াত আপনার আজ্ঞাবহ ছিল। আমিও আপনার আজ্ঞাবহ। আপনার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। উভয়ের কর্ম তৎপরতা ছিল আপনার প্রতি আনুগত্য নির্ভর। তবে এখানকার হাবশীদের নেতৃত্বের জন্যে আমি তার চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী উপযুক্ত ও দক্ষ।
মহারাজের শপথের কথা শুনে আমি নিজে আমার মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছি এবং আমার রাজ্যের এক থলে মাটি রাজদরবারে প্রেরণ করেছি, যাতে তা আপনার পদতলে রাখতে পারেন। তাহলে আমার সম্বন্ধে মহারাজ যে শপথ করেছেন সে শপথ পূর্ণ হবে।
পত্রটি পেয়ে নাজ্জাশী আবরাহার প্রতি সন্তুষ্ট হন। তিনি তার নিকট লিখে পাঠান যে, আমার পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্যন্ত তুমি ইয়ামান রাজ্যে রাজত্ব করে যাও। এভাবে আরবাহা ইয়ামানের শাসন ক্ষমতার অধিষ্ঠিত হয়।