hadith book logo

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড

লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

পরিচ্ছেদ

ইবন জারীর ও অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ বলেন যে, উপরোক্ত ঘটনার পর বনী-ইসরাঈলের মধ্যে অনেক গুরুতর ঘটনা ঘটে এবং অপরাধ সংঘটিত হয়। এমনকি বহু নবীকে তারা হত্যা করে। আল্লাহ তখন নবীগণের পরিবর্তে অত্যাচারী রাজা-বাদশাদেরকে তাদের উপর চাপিয়ে দেন। যারা তাদের উপর অত্যাচারের ষ্টীম রোলার চালায় এবং নির্বিচারে তাদেরকে হত্যা করে। এছাড়া আল্লাহ তাদেরকে শক্রদের পদানত করে দেন। ইতিপূর্বে বনী ইসরাঈল যখন কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হত তখন তাদের ঐতিহাসিক সিন্দুকটি ( তাবূত) কাছে রাখত এবং যুদ্ধের ময়দানে একটি তাঁবুর মধ্যে তা সংরক্ষণ করত। এই সিন্দুকের বরকতে আল্লাহ তাদেরকে বিজয় দান করতেন। এ ছিল তাদের সেই পবিত্র সিন্দুক যাতে ছিল হযরত মূসা ও হারূন (আ)-এর উত্তরসূরীদের পরিত্যক্ত বরকতময় সম্পদ ও শান্তিদায়ক বস্তু সমূহ। কিন্তু বনী ইসরাঈলের এই বিপর্যয়কালে গাজা ও ‘আসকালান এলাকার অধিবাসীদের [এখানে আমালিকাদেরকে বুঝানো হয়েছে।] সাথে তাদের এক যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বনী ইসরাঈলরা পরাজয় বরণ করে। শত্রুরা বনী ইসরাঈলদের উপর নিষ্পেষণ চালিয়ে তাদের থেকে সিন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বনী ইসরাঈলের তৎকালীন বাদশাহর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তার ঘাড় বেঁকে যায় এবং দুঃখে-ক্ষোভে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় বনী ইসরাঈলের অবস্থা দাঁড়ায় রাখাল বিহীন মেষপালের মত। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত হয়ে তারা যাযাবরের ন্যায় জীবন কাটাতে থাকে। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকার পর আল্লাহ শামুয়েল ( شمويل ) নবীকে তাদের মধ্যে প্রেরণ করেন। এবার তারা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে একজন বাদশাহ নিযুক্ত করার জন্যে নবীর নিকট প্রার্থনা করে। এর পরের ঘটনা আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন; আমরা পরে তা আলোচনা করব। ইবন জারীর বলেন, ইউশা ইবন নুনের ইনতিকালের ৪৬০ বছর পর আল্লাহ শামুয়েল ইবন বালীকে নবীরূপে প্রেরণ করেন। ইবন জারীর বনী-ইসরাঈলের এই সময়কার বিস্তারিত আলোচনা প্রসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সকল বাদশাহর বিবরণ দিয়েছেন। আমরা সে আলোচনা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিরত রইলাম।