hadith book logo

আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড

লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১

পরিচ্ছেদ

হযরত ঈসা মাসীহ্ (আ)-কে আসমানে উঠানোর পর তাঁর সম্পর্কে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন মতামতের সৃষ্টি হয়। ইবন আব্বাসসহ প্রথম যুগের অনেক মনীষী এ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। আমরা সূরা সাফ-এর আয়াত- “পরে আমি মুমিনদেরকে শক্তিশালী করলাম তাদের শত্রুদের মুকাবিলায়; ফলে তারা বিজয়ী হল।” (৬১ সাফঃ ১৪)-এর ব্যাখ্যায় ইবন আব্বাস (রা) প্রমুখ বলেছেন, তাদের একদল বিশ্বাস করে যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি আমাদের মধ্যে ছিলেন, এখন তাঁকে আসমানে তুলে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দল বলে, তিনি হলেন স্বয়ং আল্লাহ। তৃতীয় দলের মতে, তিনি আল্লাহর পুত্র। বস্তৃত প্রথম দলের বিশ্বাসই যথার্থ। অন্য দল দু’টির বক্তব্য জঘন্য কুফরী। তাদের মতবিরোধ সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ “অতঃপর দলগুলো নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করল, সুতরাং দুর্ভোগ কাফিরদের মহাদিবস আগমনকালে।” (১৯ মারয়ামঃ ৩৭)

এ ছাড়া ইনজীলের চারজন বর্ণনাকারীর বর্ণনা উদ্ধৃত করার মধ্যেও কম, বেশী পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে। তারপর হযরত ঈসা (আ)-এর তিনশ’ বছর পর ইনজীল ও ঈসায়ী ধর্মের উপর বিরাট দুর্যোগ নেমে আসে। চার দলের চারজন আর্ক বিশপ, পাদ্রী ও সাধু-সন্ন্যাসীগণ মাসীহ সম্পর্কে এত অসংখ্য মতে বিভক্ত হয়ে পড়েন, নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা তাদের এ বিরোধের ফয়সালার জন্যে কনষ্টান্টিনোপল নগরীর প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট কনস্টান্টাইনের শরণাপন্ন হয়। এটা ছিল তাদের প্রথম মহাসম্মেলন। সম্রাট সবকিছু শুনে অধিকাংশ দল যে মতের উপর ঐকমত্য পোষণ করে, সে মতকেই গ্রহণ করেন। এই দলের নামকরণ করা হয় মালাইকা (মালাকিয়া)। এ মতের বাইরে যারা ছিল তাদেরকে নির্যাতীত করেন ও দেশান্তরিত করেন। আবদুল্লাহ ইবন আদয়ুসের অনুসারী যারা ঈসা (আ)-কে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করতেন তারা একঘরে হয়ে পড়েন। তারা বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে ও উপত্যকায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। তারা সেখানে ইবাদতখানা, গীর্জা ও উপাসনালয় তৈরি করেন এবং সন্ন্যাসী জীবন-যাপন করতে থাকেন। এঁরা উপরোক্ত ফের্কাসমূহের সংশ্রব থেকে দূরে থাকেন। অপরদিকে মালাইকা সম্প্রদায় গ্রীক স্থাপত্যের অনুকরণে বিভিন্ন জায়গায় বিরাট বিরাট গীর্জা স্থাপন করে। তারা তাদের কিবলা পূর্ব দিকে পরিবর্তন করে, যদিও কিবলা ইতিপূর্বে উত্তরে জাদাইর দিকে ছিল।