১
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২য় খন্ড
লেখকঃ আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসীর আদ-দামেশকী (র) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৮
আঞ্চলিক রাজাদের বিবরণ
ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে হাযর অধিপতি সাতিরুন ছিল আঞ্চলিক রাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তার মেসিডোনিয়ার ফিলিপস তনয় গ্রীকসম্রাট আলেকজান্ডারের যুগ। কারণ তিনি যখন পারস্য সম্রাট দারা ইবন দারার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন, তার সম্রাজ্য পদানত করেন এবং তার শহর নগর বিধ্বস্ত করে দিয়ে তার কোষাগারসমূহ লুট করে, পারসিকদের শক্তিকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে যেন তখন তিনি এই সংকল্পও করেন যে, অতঃপর তারা যেন কোন প্রকারেই ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে। এজন্যে তিনি তাদের এক একজন লোককে আরব-অনারব অঞ্চলের এক একটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের জনগণের জন্য রাজা রূপে মনোনীত করেন। এদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা বিধান করে। বহিরাক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করত এবং কর আদায় করত। সংশ্লিষ্ট কোন রাজার মৃত্যু হলে তারই কোন পুত্র কিংবা ঐ সাম্প্রদায়ের অন্য কাউকে তার স্থলে রাজা রূপে নিয়োগ করা হতো। প্রায় ৫০০ বছর এভাবেই অতিবাহিত হয়। তারপর আবির্ভাব হয় সম্রাট “আরদশীর ইবন বাবকের’। তিনি ছিলেন সাসান (ইবন বাহমান ইবন ইসকান দিয়ার ইবন ইয়াশতাসিব ইবন লাহরাসিব)-এর অন্যতম পুত্র। তিনি পারস্য রাজ্য পুনরুদ্ধার করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়। তিনি সকল আঞ্চলিক রাজ্য তার অধীনে নিয়ে আসেন আঞ্চলিক সকল রাজার রাজ্যের তিনি বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। তাদের কোন ধন সম্পদ তিনি অক্ষুন্ন রাখেননি। তাদের সংশ্লিষ্ট রাজ্য হাযর পুনর্দখল হয় অনেক দেরীতে। আরদশীরের মৃত্যুর পর তার পুত্র সাপুর তা অবরোধ করেন এবং তা দখল করে নেন। ইতিপূর্বে এ ঘটনা আলোচনা হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন।