hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০১

গৃহপালিত পশুর উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য শর্তসমূহ

১. নিসাব পরিমাণ হওয়া :

যাকাত আদায়ের প্রধান শর্তই হচ্ছে সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়া। যদি নিসাব সংখ্যক পশু থেকে একটিও কম থাকে, তাহলে যাকাত ফরয হবে না। যেমন- হাদীসে এসেছে,

عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : لَيْسَ فِيْمَا دُوْنَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ مِنَ الْإِبِلِ

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, পাঁচের কম সংখ্যক উটের মধ্যে কোন যাকাত নেই। [সহীহ বুখারী, হা/১৪৪৭; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৫৭৭।]

২. পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া :

এসব পশুর উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য আরো একটি শর্ত হচ্ছে, পশু ব্যক্তির মালিকানায় আসার দিন থেকে নিয়ে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত করতে হবে; নতুবা যাকাত ফরয হবে না। কেননা হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ يَقُوْلُ : لَا زَكَاةَ فِيْ مَالٍ حَتّٰى يَحُوْلَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, সম্পদের মালিকানা এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর উপর যাকাত আরোপিত হয় না। [ইবনে মাজাহ, হা/১৭৯২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩০৪; দার কুতনী, হা/১৮৮৯; জামেউস সগীর, হা/১৩৪৫৪।]

৩. কাজে ব্যবহৃত পশু না হওয়া :

যেসব গৃহপালিত পশু চাষাবাদের কাজে, পরিবহণের কাজে অথবা অন্য কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেসব পশুর উপর যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে না। হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَلِىِّ بْنِ أَبِىْ طَالِبٍ أَنَّ النَّبِىَّ - - قَالَ : لَيْسَ فِى الْخَضْرَاوَاتِ صَدَقَةٌ وَلَا فِى الْعَرَايَا صَدَقَةٌ وَلَا فِى أَقَلَّ مِنْ خَمْسَةِ اَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَّلَا فِى الْعَوَامِلِ صَدَقَةٌ وَّلَا فِى الْجَبْهَةِ صَدَقَةٌ . قَالَ الْصَقْرُ الْجَبْهَةُ الْخَيْلُ وَالْبِغَالُ وَالْعَبِيْدُ

আলী ইবনে আবি তালেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, শাক-সবজিতে যাকাত নেই, আরিয়াতে যাকাত নেই, পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই, কাজে নিয়োজিত পশুতে যাকাত নেই এবং যাবহাতেও যাকাত নেই। সাকার বলেন, জাবহা অর্থ হল, ঘোড়া, খচ্ছর এবং দাস-দাসী। [সুনানে দার কুতনী, হা/১৯৩০; মিশকাত, হা/১৮১৩।]

৪. সায়েমা হওয়া :

সায়েমা এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বিচরণশীল। ইসলামী পরিভাষায় সায়েমা বলা হয় ঐসব পশুকে, যেগুলো বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে এবং সেগুলোকে কেবল বংশবৃদ্ধি ও দুগ্ধ দোহনের জন্য লালন-পালন করা হয়।

সুতরাং কোন মালিক যদি বছরের অধিকাংশ সময় নিজে খাদ্য সংগ্রহ করে পশুকে খাওয়ায়, তাহলে ঐ পশুর উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

وَفِيْ صَدَقَةِ الْغَنَمِ فِيْ سَائِمَتِهَا اِذَا كَانَتْ اَرْبَعِيْنَ اِلٰى عِشْرِيْنَ وَمِئَةٍ شَاةٌ

বিচরণশীল ছাগলের যাকাত চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যমত্ম একটি ছাগল। [সহীহ বুখারী, হা/১৪৫৪; নাসাঈ, হা/২৪৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৬১; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/১২৭; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৪৯৯; মিশকাত, হা/১৭৯৬।]

অন্য হাদীসে তিনি বলেন,

فِيْ كُلِّ اِبِلٍ سَائِمَةٍ فِيْ كُلِّ اَرْبَعِيْنَ ابْنَةُ لَبُوْنٍ

বিচরণশীল প্রত্যেক ৪০টি উটে একটি বিনতু লাবুন [বিনতু লাবুন বলা হয় ঐ উটকে, যার বয়স দু’বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।]। [নাসাঈ, হা/২৪৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০০৩০; মুসনাদে দারেমী, হা/১৭১৯।]