১
সিয়াম ও যাকাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোযা রাখা
ইবাদাতের ক্ষেত্রে ইসলামের একটি মূলনীতি হচ্ছে, শারীরিক ইবাদাতসমূহে কোন ধরনের প্রতিনিধিত্ব বৈধ নয়। তবে সিয়াম ও হজ্জ এ নীতির অন্তর্ভুক্ত নয়। হাফেয ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেছেন, সালাতের ব্যাপারে সবাই একমত যে, কেউ কারো পক্ষ থেকে সালাত আদায় করবে না, না ফরয, না সুন্নাত, না নফল, না জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে, না মৃত ব্যক্তির। অনুরূপ জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সিয়াম। তাই জীবিতাবস্থায় একের সাওম অপরের পক্ষ থেকে আদায় হবে না। এতে কারো দ্বিমত নেই। কিমত্মু যে মারা যায়, তার জিম্মায় যদি সিয়াম থাকে, তার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। কেউ বলেছেন, উত্তরাধিকারগণ আদায় করবে, আবার কেউ বলেছেন, উত্তরাধিকারগণ আদায় করবে না।
মৃত ব্যক্তির জিম্মায় যদি সিয়াম থাকে তবে তার দুই অবস্থা :
১. কাযার সুযোগ না পেয়ে মারা যাওয়া। সময়ের সংকীর্ণতা অথবা অসুস্থতা অথবা সফর অথবা সাওমের অক্ষমতার দরুণ কাযার সুযোগ পায়নি। অধিকাংশ আলেমদের মতে তার উপর কিছুই আদায় করতে হবে না।
২. মারা যাওয়ার পূর্বে কাযা আদায় করার সুযোগ ছিল অথচ আদায় করেনি, এ ক্ষেত্রে সুন্নাত হচ্ছে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম রাখবে।
মৃতের জিম্মায় যদি অনেক সিয়াম থাকে, আর সে সংখ্যানুসারে তার পক্ষ থেকে কতক লোক যদি একদিন সিয়াম পালন করে, তাহলে শুদ্ধ হবে।
عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : مَنْ مَاتَ ، وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهٗ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে মারা গেল, অথচ তার উপর কাযা সিয়াম রয়েছে; তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম রাখবে। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৫২; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৪৮; আবু দাউদ, হা/২৪০২।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ - - فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ أُمِّىْ مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِيْهِ عَنْهَا فَقَالَ لَوْ كَانَ عَلٰى أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ عَنْهَا . قَالَ نَعَمْ . قَالَ : فَدَيْنُ اللهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضٰى
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী ﷺ এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় আমার মাতা মৃত্যু বরণ করেছেন। কিমত্মু তার উপর রমাযান মাসের রোযা ফরয ছিল। সুতরাং আমি কি তার পক্ষ হতে কাযা আদায় করব? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের কোন ঋণ থাকত, তাহলে তুমি কি তা আদায় করতে না? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর হক তো আরো অধিক আদায়যোগ্য। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৫৩; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৫০; আবু দাউদ, হা/৩৩১২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩৬; দার কুতনী, হা/২৩৪০; বায়হাকী, হা/৮০১৩।]
মৃত ব্যক্তির জিম্মায় যদি সিয়াম থাকে তবে তার দুই অবস্থা :
১. কাযার সুযোগ না পেয়ে মারা যাওয়া। সময়ের সংকীর্ণতা অথবা অসুস্থতা অথবা সফর অথবা সাওমের অক্ষমতার দরুণ কাযার সুযোগ পায়নি। অধিকাংশ আলেমদের মতে তার উপর কিছুই আদায় করতে হবে না।
২. মারা যাওয়ার পূর্বে কাযা আদায় করার সুযোগ ছিল অথচ আদায় করেনি, এ ক্ষেত্রে সুন্নাত হচ্ছে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম রাখবে।
মৃতের জিম্মায় যদি অনেক সিয়াম থাকে, আর সে সংখ্যানুসারে তার পক্ষ থেকে কতক লোক যদি একদিন সিয়াম পালন করে, তাহলে শুদ্ধ হবে।
عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : مَنْ مَاتَ ، وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهٗ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে মারা গেল, অথচ তার উপর কাযা সিয়াম রয়েছে; তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সাওম রাখবে। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৫২; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৪৮; আবু দাউদ, হা/২৪০২।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ - - فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ أُمِّىْ مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِيْهِ عَنْهَا فَقَالَ لَوْ كَانَ عَلٰى أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ عَنْهَا . قَالَ نَعَمْ . قَالَ : فَدَيْنُ اللهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضٰى
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী ﷺ এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় আমার মাতা মৃত্যু বরণ করেছেন। কিমত্মু তার উপর রমাযান মাসের রোযা ফরয ছিল। সুতরাং আমি কি তার পক্ষ হতে কাযা আদায় করব? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের কোন ঋণ থাকত, তাহলে তুমি কি তা আদায় করতে না? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর হক তো আরো অধিক আদায়যোগ্য। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৫৩; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৫০; আবু দাউদ, হা/৩৩১২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩৬; দার কুতনী, হা/২৩৪০; বায়হাকী, হা/৮০১৩।]