hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৫

কাদের রোযা আল্লাহ কবুল করেন

রোযা আমরা অনেকেই রাখি; কিন্তু আমরা সবাই কি রোযার যাবতীয় নিয়ম রক্ষা করে চলি? রোযার উদ্দেশ্য কি আমাদের মাঝে প্রতিফলিত হয়? আমাদের রোযা কতটুকু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে? এ বিষয়গুলো নিয়েও কিছুটা চিন্তা-ভাবনা করা দরকার। নতুবা সারাদিন শুধু উপবাস থেকে তেমন কোন ফলাফল আসবে না। নবী ﷺ বলেছেন,

كَمْ مِّنْ صَائِمٍ لَيْسَ لَهٗ مِنْ صِيَامِه إِلَّا الظَّمَأُ وَكَمْ مِّنْ قَائِمٍ لَيْسَ لَهٗ مِنْ قِيَامِه إِلَّا السَّهَرُ

এমন অনেক রোযাদার আছে কেবল ক্ষুধা আর পিপাসা ছাড়া তাদের ভাগ্যে আর কিছু জোটে না। আবার রাত্রিতে ইবাদাতকারী অনেক রয়েছে, রাত্রি জাগরণের কষ্ট ছাড়া তারা আর কিছুই লাভ করতে পারে না। [মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৬৮৩; সুনানে দারেমী, হা/২৭২০; মিশকাত, হা/২০১৪।]

এ হাদীস থেকে এটা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, শুধু উপবাস থাকলেই রোযার পরিপূর্ণ হক আদায় হয়ে যায় না; বরং রোযাকে ফলপ্রসূ ও সার্থক করতে হলে রোযাকে ত্রুটিযুক্ত করে এমনসব কার্যাবলি থেকে দূরে থাকতে হবে। অনুরূপভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সালাতের নিয়ম-কানুন রক্ষা করে সালাত পড়তে হবে। এটা না করে অন্য কোন উদ্দেশ্যে সালাত পড়লে বা রাতে নফল পড়ার কারণে ফজরের জামা‘আত ছেড়ে দিলে এই সালাত তেমন ফলপ্রসূ হবে না। আবার পরিবারের হক আদায় না করে শুধু রাত্রি জাগরণ করাও ঠিক নয়।

রোযার একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল হচ্ছে রোযা মানুষের জন্য ঢালের কাজ করে। নবী ﷺ বলেছেন : اَلصِّيَامُ جُنَّةٌ অর্থাৎ রোযা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। যুদ্ধের সময় বা যে কোন ক্ষেত্রে ঢাল শত্রুর আক্রমণকে প্রতিহত করে। অনুরূপভাবে রোযা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে, পাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে ঢালের কাজ করে। এর মাধ্যমে বান্দা নিজেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রোযাদারকে রোযা নামক ঢালটিকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য এ কথাটির পরেই নবী ﷺ উম্মতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,

وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ ، وَلَا يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهٗ أَحَدٌ ، أَوْ قَاتَلَهٗ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ

তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রোযা থাকবে তখন সে যেন অশ্লীল কাজ ও ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে মারামারিতে লিপ্ত হয় তবে সে যেন পরিষ্কার বলে দেয় যে, আমি রোযাদার। [সহীহ বুখারী, হা/১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬১১১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৯৭৮; বায়হাকী, হা/৮০৯৪; জামেউস সগীর, হা/৭৭৭৭; মিশকাত, হা/১৯৫৯।]

রোযাদার তো আগে বেড়ে কোন খারাপ কাজ করবেই না; তবুও কেউ যদি তাকে গালি দিয়ে বসে অথবা তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তবে সে এসবের জবাব না দিয়ে স্পষ্টভাবে বলে দেবে যে, ভাই! তোমার গালির জবাব দেয়ার ক্ষমতা আমার থাকলেও আমি তা করব না। আমি রোযা রেখেছি, আমার রোযা এসব পছন্দ করে না, তাই তোমার মোকাবেলা করা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়। সুতরাং রোযাদারকে কেউ গালি দিলে তার বিনিময়ে গালিদাতাকে আমি রোযা রেখেছি বলা সুন্নাত। এই জবাবে রয়েছে দু’টি উপকার; একটিতে রয়েছে নিজের জন্য সতর্কতা এবং অপরটিতে রয়েছে তার বিরোধী পক্ষের জন্য সতর্কতা।

সুতরাং আমরা যখন না খেয়ে রোযা রাখব, তখন আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন : মুখ, চোখ, কান, হাত, পা ও অন্তর এগুলোকেও রোযা রাখাতে হবে। অর্থাৎ এগুলো আল্লাহর নাফরমানী ও গোনাহের কাজে ব্যবহার না করে তাঁর আনুগত্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই আমাদের রোযা ফলপ্রসূ হবে।