hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

রমাযানের চাঁদ

মহান আল্লাহ চাঁদকে মানুষের জন্য সময় নির্দেশক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এর দ্বারা মানুষ নিজেদের ইবাদাত ও অন্যান্য বিষয়ের সময় ও তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। সুতরাং বান্দার প্রতি আল্লাহর খাস রহমত এই যে, তিনি ফরয রোযা শুরু হওয়ার বিষয়টি এমন একটি স্পষ্ট চিহ্নের উপর নির্ভরশীল করেছেন, যা সবার সামনে প্রকাশ পায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَسْأَلُوْنَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ﴾

লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন! তা হলো মানুষ ও হজ্জের জন্য সময় নির্দেশক। (সূরা বাকারা- ১৮৯)

 চাঁদ দেখে রোযা রাখতে হবে :

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ ، يَقُوْلُ : قَالَ النَّبِيُّ ، أَوْ قَالَ : قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صُوْمُوْا لِرُؤْيَتِه وَأَفْطِرُوْا لِرُؤْيَتِه فَإِنْ غُبِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوْا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِيْنَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে সাওম শুরু করো আবার চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদুল ফেতর) করো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তাহলে শা’বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। তারপর সিয়াম শুরু করো। [সহীহ বুখারী, হা/১৯০৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৮; তিরমিযী, হা/৬৮৪; নাসাঈ, হা/২১১৭; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৪৫৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৪৫৯; মুসনাদে দারেমী, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/১৯৭০।]

 চাঁদ দেখা না গেলে রমাযান প্রবেশ হওয়া প্রমাণ করার উপায় হলো, শা’বান মাসকে ৩০ দিন পূর্ণ করে নেয়া। অবশ্য এ জন্য শা’বান মাসের শুরুর হিসাব রাখতে হবে।

 পূর্ব সতর্কতামূলকভাবে রমাযানের এক দিন আগে থেকে রোযা রাখা বৈধ নয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন রমাযানের আগে একটি বা দু’টি রোযা না করে। তবে তার কথা ভিন্ন, যে সেদিনে রোযা রাখায় অভ্যস্ত। যেমন- কেউ প্রতি সোমবার রোযা রাখে, এখন রমাযানের আগের দিন সোমবার হলে সে রোযা রাখতে পারে। [সহীহ বুখারী, হা/১৭১৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯২৭২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৫৯২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৭৩১৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯১২৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭১৮; বায়হাকী, হা/৭৭৩১; মিশকাত, হা/১৯৭৩।]