hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৬

যাকাতের হুকুম

যাকাত আদায় করা ফরয। যার উপর যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া যাবে, তাকে অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এটাকে অস্বীকার করবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং মুরতাদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

যাকাত অমান্যকারী কাফির :

যাকাত হচ্ছে একটি ফরয ইবাদাত। সুতরাং যে ব্যক্তি এর ফরয হওয়াকে অস্বীকার করবে, সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে।

আর যারা এটাকে মৌখিকভাবে স্বীকার করে; কিমত্মু আমলগতভাবে যাকাত দিতে অস্বীকার করে তাদের ব্যাপারে বড় বড় ফিকহবিদগণের বক্তব্য হচ্ছে, কেউ যদি যাকাত ফরয হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা সত্ত্বেও যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তাহলে দেখতে হবে যে, সে কেন তা অস্বীকার করছে- সে কি নওমুসলিম হিসেবে এ ব্যাপারে এখনও অবহিত হতে পারেনি, নাকি ইসলামী সমাজসভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার কারণে এরূপ মনোভাব পোষণ করছে; যদি এরূপ হয়, তাহলে তাকে কাফির বলা যাবে না। তখন প্রথমে তাকে ভালোভাবে বুঝাতে হবে; তারপর তার কাছ থেকে যাকাত নিয়ে নিতে হবে। এরপরও সে যদি যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তাহলে অবশ্যই তাকে কাফির বলতে হবে।

আর যদি বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পরও সে তা অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফির বলে গণ্য হবে এবং তার উপর মুরতাদ হওয়ার শাসিত্ম কার্যকর হবে। প্রথমে তাকে তওবা করতে বলা হবে এবং তওবা না করলে তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। কেননা যাকাত ফরয হওয়ার বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত এবং তা দ্বীন-ইসলামের অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ। কাজেই তা অস্বীকার করা হলে আল্লাহকেই অস্বীকার করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ কেও অমান্য করা হয়। অতএব তাদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকে না। নিচে এ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

যাকাত আদায়ের জন্য আল্লাহর নির্দেশ :

আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদের অনেক আয়াতেই সালাত কায়েমের সাথে সাথে যাকাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন- তিনি বলেন,

﴿وَاَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَاٰتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ﴾

আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করো ও যাকাত প্রদান করো এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ করো। (সূরা বাকারা- ৪৩)

﴿وَاَقِيْمُوا الصَّلَاةَ وَاٰتُوا الزَّكَاةَ وَاَقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا﴾

সালাত প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও।

(সূরা মুয্যাম্মিল- ২০)

মহিলাদের প্রতিও যাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে :

﴿وَاَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَاٰتِيْنَ الزَّكَاةَ وَاَطِعْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ﴾

তোমরা (মহিলারা) সালাত আদায় করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। (সূরা আহযাব- ৩৩)

অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা এককভাবে মহিলাদেরকেও যাকাত প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

যাকাত আদায় করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশ :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ ادْعُهُمْ إِلٰى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَنِّيْ رَسُوْلُ اللهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذٰلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِيْ كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لِذٰلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِيْ أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلٰى فُقَرَائِهِمْ

ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন, প্রথমে তুমি তাদেরকে এই কালেমার সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরয করেছেন। যদি তারা এটারও আনুগত্য করে তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাদের মালের মধ্যে যাকাত ফরয করেছেন। যা তাদের ধনীদের থেকে নেয়া হবে এবং তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। [সহীহ বুখারী, হা/১৩৯৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৩০; আবু দাউদ, হা/১৫৮৬; তিরমিযী, হা/৬২৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৮৩; নাসাঈ, হা/২৫২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৭১; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২৭৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৯২৪; দার কুতনী, হা/২০৫৮; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২১১৫; বায়হাকী, হা/৭০৬৮; সুনানে দারেমী, হা/১৬১৪; মিশকাত, হা/১৭৭২।]

উপরোক্ত আয়াত এবং হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, যাকাত আদায় করা ফরয। সুতরাং যার উপর যাকাত ফরয হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া যাবে, তাকে অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে।