১
সিয়াম ও যাকাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
রোযা ফরয হওয়ার শর্তাবলি
১. মুসলিম হওয়া। কেননা অমুসলিমের উপর রোযা ফরয নয়, সে রোযা রাখলেও তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। যেহেতু কোন ইবাদাত কবুল হওয়ার জন্য মূল শর্ত হলো ইসলাম গ্রহণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّاۤ أَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللهِ وَبِرَسُوْلِه ﴾
তাদের দান গ্রহণে বাধা কেবল এই ছিল যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করে। (সূরা তওবা- ৫৪)
যদি কোন কাফির রমাযান মাসে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার পেছনের সিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿قُلْ لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ إِنْ يَنْتَهُوْا يُغْفَرْ لَهُمْ مَّا قَدْ سَلَفَ﴾
কাফিরদেরকে বলে দাও! যদি তারা কুফরী থেকে বিরত হয়, তাহলে তাদের অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (সূরা আনফাল- ৩৮)
২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া।
৩. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। উপরোক্ত উভয় শর্তের দলীল নিম্নোক্ত হাদীসটি,
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ، قَالَ : رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ : عَنِ النَّائِمِ حَتّٰى يَسْتَيْقِظَ ، وَعَنِ الصَّغِيْرِ حَتّٰى يَكْبَرَ ، وَعَنِ الْمَجْنُوْنِ حَتّٰى يَعْقِلَ ، أَوْ يُفِيْقَ .
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তিন ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে (অর্থাৎ তাদের জন্য সওয়াব ও গোনাহ লেখা হয় না)। (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত। (২) নাবালেগ বাচ্চা বালেগ হওয়া পর্যন্ত। (৩) পাগল ব্যক্তি জ্ঞান ফিরে পাওয়া পর্যন্ত। [সুনানে নাসাঈ, হা/৩৪৩২; ইবনে মাজাহ, হা/২০৪১; আবু দাউদ, হা/৪৪০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৩৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৪২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯০৫৫; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৪৪০০; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২৩৫০; ।]
৪. সুস্থ হওয়া।
৫. মুকীম হওয়া। কেননা অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য রমাযান মাসে সিয়াম না রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে সুস্থ ও মুকীম হওয়ার পর ছুটে যাওয়া সাওমের কাযা করে নেবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
﴿اَيَّامًا مَّعْدُوْدَاتٍؕ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِيْضًا اَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَ﴾
(রোযা ফরয করা হয়েছে) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, তবে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, তবে সমপরিমাণ দিনের রোযা (সুস্থ হয়ে অথবা সফর থেকে ফিরে এসে) কাযা আদায় করে নেবে। (সূরা বাকারা- ১৮৩)
৬. মহিলারা হায়েয ও নেফাস থেকে মুক্ত হওয়া।
উপরোক্ত শর্তাবলির অধিকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই সিয়াম পালন করতে হবে।
অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য শিশুদেরকে রোযা রাখানো :
অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য শিশুদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিতে হবে। শিশু রোযা রাখলে শুদ্ধ হবে এবং সওয়াবও পাবে। আর তার পিতা-মাতার জন্যও রয়েছে ভালো কাজের নির্দেশ দেয়ার সওয়াব।
عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ قَالَتْ أَرْسَلَ النَّبِيُّ غَدَاةَ عَاشُوْرَاءَ إِلٰى قُرَى الْأَنْصَارِ مَنْ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِه ، وَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا فَلْيَصُمْ قَالَتْ فَكُنَّا نَصُوْمُهٗ بَعْدُ وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا وَنَجْعَلُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ الْعِهْنِ فَإِذَا بَكٰى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهُ ذَاكَ حَتّٰى يَكُوْنَ عِنْدَ الْإِفْطَارِ
রুবাইয়্যি বিনতে মুআওয়াজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে রোযা রাখাতাম এবং তাদের জন্য খেলনা রাখতাম। তাদের মধ্যে কেউ যখন খাবারের জন্য কাঁদত তখন আমরা ঐ খেলনা দিতাম। এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৬০; সহীহ মুসলিম, হা/২৭২৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৮৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৬২০; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০১৬২।]
﴿وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّاۤ أَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللهِ وَبِرَسُوْلِه ﴾
তাদের দান গ্রহণে বাধা কেবল এই ছিল যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করে। (সূরা তওবা- ৫৪)
যদি কোন কাফির রমাযান মাসে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার পেছনের সিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿قُلْ لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ إِنْ يَنْتَهُوْا يُغْفَرْ لَهُمْ مَّا قَدْ سَلَفَ﴾
কাফিরদেরকে বলে দাও! যদি তারা কুফরী থেকে বিরত হয়, তাহলে তাদের অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (সূরা আনফাল- ৩৮)
২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া।
৩. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। উপরোক্ত উভয় শর্তের দলীল নিম্নোক্ত হাদীসটি,
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ، قَالَ : رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ : عَنِ النَّائِمِ حَتّٰى يَسْتَيْقِظَ ، وَعَنِ الصَّغِيْرِ حَتّٰى يَكْبَرَ ، وَعَنِ الْمَجْنُوْنِ حَتّٰى يَعْقِلَ ، أَوْ يُفِيْقَ .
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তিন ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে (অর্থাৎ তাদের জন্য সওয়াব ও গোনাহ লেখা হয় না)। (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত। (২) নাবালেগ বাচ্চা বালেগ হওয়া পর্যন্ত। (৩) পাগল ব্যক্তি জ্ঞান ফিরে পাওয়া পর্যন্ত। [সুনানে নাসাঈ, হা/৩৪৩২; ইবনে মাজাহ, হা/২০৪১; আবু দাউদ, হা/৪৪০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৩৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৪২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯০৫৫; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৪৪০০; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২৩৫০; ।]
৪. সুস্থ হওয়া।
৫. মুকীম হওয়া। কেননা অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য রমাযান মাসে সিয়াম না রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে সুস্থ ও মুকীম হওয়ার পর ছুটে যাওয়া সাওমের কাযা করে নেবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
﴿اَيَّامًا مَّعْدُوْدَاتٍؕ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِيْضًا اَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَ﴾
(রোযা ফরয করা হয়েছে) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, তবে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, তবে সমপরিমাণ দিনের রোযা (সুস্থ হয়ে অথবা সফর থেকে ফিরে এসে) কাযা আদায় করে নেবে। (সূরা বাকারা- ১৮৩)
৬. মহিলারা হায়েয ও নেফাস থেকে মুক্ত হওয়া।
উপরোক্ত শর্তাবলির অধিকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই সিয়াম পালন করতে হবে।
অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য শিশুদেরকে রোযা রাখানো :
অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য শিশুদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিতে হবে। শিশু রোযা রাখলে শুদ্ধ হবে এবং সওয়াবও পাবে। আর তার পিতা-মাতার জন্যও রয়েছে ভালো কাজের নির্দেশ দেয়ার সওয়াব।
عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ قَالَتْ أَرْسَلَ النَّبِيُّ غَدَاةَ عَاشُوْرَاءَ إِلٰى قُرَى الْأَنْصَارِ مَنْ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِه ، وَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا فَلْيَصُمْ قَالَتْ فَكُنَّا نَصُوْمُهٗ بَعْدُ وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا وَنَجْعَلُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ الْعِهْنِ فَإِذَا بَكٰى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهُ ذَاكَ حَتّٰى يَكُوْنَ عِنْدَ الْإِفْطَارِ
রুবাইয়্যি বিনতে মুআওয়াজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে রোযা রাখাতাম এবং তাদের জন্য খেলনা রাখতাম। তাদের মধ্যে কেউ যখন খাবারের জন্য কাঁদত তখন আমরা ঐ খেলনা দিতাম। এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৬০; সহীহ মুসলিম, হা/২৭২৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৮৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৬২০; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০১৬২।]