hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

রোযা ভঙ্গ হওয়ার কারণ

১. কিছু খাওয়া বা পান করা :

যদি কেউ ইচ্ছা করে কোন কিছু খায় অথবা পান করে, তাহলে তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ করবে, তাকে অবশ্যই বিনীতভাবে তওবা করতে হবে এবং ঐ রোযার কাযা ও কাফফারা আদায় করতে হবে। তবে কেউ যদি ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেলে তবে তার রোযা ভঙ্গ হবে না। কিমত্মু রোযার কথা মনে পড়ার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে দেবে। আর যদি অন্য কেউ তাকে এ অবস্থায় দেখে ফেলে, তাহলে তাকে রোযার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوٰى وَلَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الْاِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللهَؕ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ﴾

তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর।

(সূরা মায়েদা- ২)

২. ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো :

ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি হসত্মমৈথুন করে বা সহবাস ছাড়া অন্য কোন উপায়ে বীর্যপাত ঘটায় তবে তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তার উপর কাযা আদায় করা ওয়াজিব হবে। এটাই জমহুর উলামাদের মতামত। [সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ২য় খন্ড পৃ: ৯৫।]

কেননা এভাবে বীর্যপাত ঘটানোও শাহাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আর রোযাদারের জন্য এটা জায়েয নয়। আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেছেন,

يَدَعُ شَهْوَتَهٗ وَأَكْلَهٗ وَشُرْبَهٗ مِنْ أَجْلِيْ

রোযাদার আমার জন্য তার শাহাওয়াত, খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ করে। [সহীহ বুখারী, হা/৭৪৯২; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৬৩; নাসাঈ, হা/২২১৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৯৬; বায়হাকী, হা/৮১১৫; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৮৭৯৩; জামেউস সগীর, হা/৮৬৬৭; মিশকাত, হা/১৯৫৯।]

৩. ইঞ্জেকশন গ্রহণ করলে :

রোযা অবস্থায় যদি কেউ এমন কোন ইঞ্জেকশন বা স্যালাইন নেয়, যা পুষ্টি বা খাদ্যের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে অন্যান্য ইঞ্জেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কৃত্রিম উপায়ে শরীরে খাদ্য প্রবেশ করানো খাদ্য খাওয়ার শামিল। যেহেতু শক্তি অর্জনের জন্য মানুষ খাদ্য খায়, আর এরূপ ঔষধ দ্বারা সে শক্তিই অর্জন করা হয়। আর রোযার বিধান হলো বান্দা খাদ্যবসত্মু ত্যাগ করবে। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

يَدَعُ شَهْوَتَهٗ وَأَكْلَهٗ وَشُرْبَهٗ مِنْ أَجْلِيْ

রোযাদার আমার জন্য তার শাহাওয়াত, খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ করে। [সহীহ বুখারী, হা/৭৪৯২; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৬৩; নাসাঈ, হা/২২১৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৬৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৯৬; বায়হাকী, হা/৮১১৫; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৮৭৯৩; জামেউস সগীর, হা/৮৬৬৭; মিশকাত, হা/১৯৫৯।]

৪. সহবাসে লিপ্ত হওয়া :

রোযা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমন ব্যক্তিকে খালিস নিয়তে তওবা করতে হবে এবং তাকে কাফফারা আদায় করতে হবে।