hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

রোযার অতীত ও বর্তমান ইতিহাস

 প্রাচীন যুগ থেকে নিয়ে মুহাম্মাদ ﷺ পর্যন্ত সকল নবীদের শরীয়তে রোযার বিধান ছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَاۤ أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ﴾

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, এর মাধ্যমে হয়ত তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে। (সূরা বাকারা- ১৮৩)

অবশ্য রোযার হুকুম-আহকাম, রোযার সংখ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন নবীর শরীয়তে বিভিন্ন রকম ছিল।

 মূসা (আঃ) ও তাঁর উম্মতরা আশুরার দিন রোযা রাখতেন :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ اَلْمَدِيْنَةَ وَجَدَ الْيَهُوْدَ يَصُوْمُوْنَ عَاشُوْرَاءَ فَسُئِلُوْا عَنْ ذٰلِكَ فَقَالُوْا هٰذَا الْيَوْمُ الَّذِيْ أَظْفَرَ اللهُ فِيْهِ مُوْسٰى وَبَنِيْ إِسْرَائِيْلَ عَلٰى فِرْعَوْنَ وَنَحْنُ نَصُوْمُه تَعْظِيْمًا لَه ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ نَحْنُ أَوْلٰى بِمُوْسٰى مِنْكُمْ ثُمَّ أَمَرَ بِصَوْمِه

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ যখন হিজরত করে মদিনায় আগমন করেন, তখন তিনি ইয়াহুদিদেরকে আশুরার রোযা রাখা অবস্থায় পেলেন। তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কিসের রোযা? তারা বলল, এটি একটি মহান দিন। এ দিন আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ) ও বনী ইসরাঈলকে ফিরাউনের উপর বিজয় দান করেছিলেন। ফলে আমরা এর সম্মানস্বরূপ এ দিনে রোযা রেখে থাকি। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, মূসা (আঃ) এর বিষয়ে তোমাদের থেকে আমরাই বেশি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য। তারপর তিনি এ দিনে রোযা রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। [সহীহ বুখারী, হা/৩৯৪৩; আবু দাউদ, হা/২৪৪৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২০৮৪; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৩৭৭; বায়হাকী, হা/৭১৯৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৮২।]

 দাঊদ (আঃ) অর্ধেক বছর রোযা রাখতেন :

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُوْدَ كَانَ يَصُوْمُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় রোযা হলো দাঊদ (আঃ) এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন ইফতার করতেন। অর্থাৎ তিনি বছরের অর্ধেক দিন রোযা রাখতেন। [সহীহ বুখারী, হা/৩৪২০; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৯৬; আবু দাউদ, হা/২৪৫০; নাসাঈ, হা/১৬৩০; ইবনে মাজাহ, হা/১৭১২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৪৯১; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৩৬৪; বায়হাকী, হা/৪৪৩২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৫১; জামেউস সগীর, হা/১৭০; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৬১৭।]