১
সিয়াম ও যাকাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার বিধান
মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুমতি :
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى الْعَوَاتِقَ وَالْحُيَّضَ وَذَوَاتِ الْخُدُوْرِ فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلَاةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِيْنَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِحْدَانَا لَا يَكُوْنُ لَهَا جِلْبَابٌ قَالَ لِتُلْبِسْهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا
উম্মে আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন, যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঋতুবতী, সাবালিকা এবং পর্দাশীল নারীদেরকে নিয়ে বের হই। অতঃপর ঋতুবতী নারীরা সালাত আদায় করা হতে পৃথক থাকতেন। কিমত্মু তারা অন্যান্য উত্তম কাজসমূহ ও মুসলিমদের দু‘আয় অংশগ্রহণ করতেন। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে এমন অনেক নারী আছে, যাদের কোন চাদর নেই। তখন তিনি বললেন, তাদের বোন যেন তাদেরকে চাদর ধার দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৩২৪; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৮১৮।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ، يَأْمُرُ بَنَاتَهٗ وَنِسَاءَهٗ أَنْ يَخْرُجْنَ فِيْ الْعِيْدَيْنِ
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার কন্যা ও স্ত্রীদেরকে দুই ঈদে বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৪; জামেউস সগীর, হা/৯০১৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৫।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ - - خَرَجَ يَوْمَ أَضْحٰى أَوْ فِطْرٍ فَصَلّٰى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهٗ بِلَالٌ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِىْ خُرْصَهَا وَتُلْقِىْ سِخَابَهَا
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুলস্নাহ ﷺ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করলেন না। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে সাদাকা করার আদেশ দেন। ফলে মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার সাদাকা করতে লাগল। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৪; বায়হাকী, হা/৬০২০; আবু দাউদ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৩৬; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২০৯৮।]
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْرُجَ يَوْمَ الْعِيْدِ حَتّٰى نُخْرِجَ الْبِكْرَ مِنْ خِدْرِهَا حَتّٰى نُخْرِجَ الْحُيَّضَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيْرِهِمْ وَيَدْعُوْنَ بِدُعَائِهِمْ يَرْجُوْنَ بَرَكَةَ ذٰلِكَ الْيَوْمِ وَطُهْرَتَهٗ
উম্মে আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেয়া হতো। এমনকি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুবতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকত এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত ও তাদের জিকির">দু’আর সাথে দু’আ করত। আর তারা সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতার আশা করত। [সহীহ বুখারী, হা/৯৭১।]
উপরোক্ত হাদীসগুলো হতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ প্রাপ্তবয়স্কা, গৃহবাসিণী এবং ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদেরকেও দুই ঈদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আরো প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ মহিলাদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, যদি কোন মহিলার ওড়না/চাদর না থাকে তাহলে তাকে তার অপর বোনের চাদর ধার নিয়ে হলেও ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ঋতুবতী মহিলারা নামাযের সময় নামায পড়া হতে বিরত থাকবে এবং অন্যান্য কল্যাণকর কাজে ও মুসলিমদের দু‘আয় শরীক হবে।
অপর হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ الصَّلَاةَ يَوْمَ الْعِيْدِ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ ثُمَّ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلٰى بِلَالٍ فَأَمَرَ بِتَقْوَى اللهِ وَحَثَّ عَلٰى طَاعَتِه وَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ ثُمَّ مَضٰى حَتّٰى أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ فَقَالَ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّ أَكْثَرَكُنَّ حَطَبُ جَهَنَّمَ فَقَامَتِ امْرَأَةٌ مِنْ سِطَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ الشَّكَاةَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ قَالَ فَجَعَلْنَ يَتَصَدَّقْنَ مِنْ حُلِيِّهِنَّ يُلْقِيْنَ فِىْ ثَوْبِ بِلَالٍ مِنْ أَقْرِطَتِهِنَّ وَخَوَاتِمِهِنَّ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন- আযান-ইকামত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ) এর উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং ‘‘আল্লাহ ভীতি’’ অর্জন করার আদেশ করলেন ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। অতঃপর তিনি সমবেত জনতার সামনে উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বক্তৃতা শেষ করে মহিলাদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি তাদের সামনেও উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বললেন, তোমরা সাদাকা করো। কেননা তোমাদের বেশির ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্য থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একজন মহিলা দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন- হে আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কেননা তোমরা বেশি বেশি অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যাচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলারা তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৮৫; নাসাঈ, হা/১৫৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৪৬০; সুনানে দারেমী, হা/১৬১০; বায়হাকী, হা/৬০১৫।]
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ ঈদের সালাত আদায় করে বিলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট গিয়েছেন। তাদেরকে দান সাদাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন, এমনকি মহিলারা রাসূলুলস্নাহ ﷺ এর ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করে তাদের কানের রিং ও গলার হার পর্যমত্মও দান করে দিয়েছেন। উক্ত দানগুলো বিলাল (রাঃ) একত্রিত করে নিয়ে এসেছেন।
কিমত্মু বড় অনুতাপের বিষয় হলো এই যে, মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুলস্নাহ ﷺ এর সহীহ হাদীস ও অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অনেক মুসলিম সমাজ মহিলাদেরকে মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া এবং মুসলিমদের দু‘আ, দ্বীন শিক্ষা ও ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করা হতে বঞ্চিত করছে।
ঈদের সালাতের সময় :
সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে ঈদের সালাতের সময় আরম্ভ হয় এবং দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় এ সালাত আদায় করা যায়।
ঈদুল আযহার সালাত একটু আগে পড়া উত্তম। যেহেতু এরপর পশু কুরবানী করতে হয়। আর ঈদুল ফিতরের সালাত একটু দেরিতে পড়া উত্তম, যাতে লোকেরা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করে ঈদগাহে আসতে পারে। [সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, ১/৫২৮।]
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى الْعَوَاتِقَ وَالْحُيَّضَ وَذَوَاتِ الْخُدُوْرِ فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلَاةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِيْنَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِحْدَانَا لَا يَكُوْنُ لَهَا جِلْبَابٌ قَالَ لِتُلْبِسْهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا
উম্মে আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন, যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঋতুবতী, সাবালিকা এবং পর্দাশীল নারীদেরকে নিয়ে বের হই। অতঃপর ঋতুবতী নারীরা সালাত আদায় করা হতে পৃথক থাকতেন। কিমত্মু তারা অন্যান্য উত্তম কাজসমূহ ও মুসলিমদের দু‘আয় অংশগ্রহণ করতেন। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে এমন অনেক নারী আছে, যাদের কোন চাদর নেই। তখন তিনি বললেন, তাদের বোন যেন তাদেরকে চাদর ধার দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৩২৪; সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৮১৮।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ، يَأْمُرُ بَنَاتَهٗ وَنِسَاءَهٗ أَنْ يَخْرُجْنَ فِيْ الْعِيْدَيْنِ
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার কন্যা ও স্ত্রীদেরকে দুই ঈদে বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৪; জামেউস সগীর, হা/৯০১৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৫।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ - - خَرَجَ يَوْمَ أَضْحٰى أَوْ فِطْرٍ فَصَلّٰى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهٗ بِلَالٌ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِىْ خُرْصَهَا وَتُلْقِىْ سِخَابَهَا
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুলস্নাহ ﷺ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন এবং এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করলেন না। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে সাদাকা করার আদেশ দেন। ফলে মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার সাদাকা করতে লাগল। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৪; বায়হাকী, হা/৬০২০; আবু দাউদ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৩৬; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২০৯৮।]
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْرُجَ يَوْمَ الْعِيْدِ حَتّٰى نُخْرِجَ الْبِكْرَ مِنْ خِدْرِهَا حَتّٰى نُخْرِجَ الْحُيَّضَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيْرِهِمْ وَيَدْعُوْنَ بِدُعَائِهِمْ يَرْجُوْنَ بَرَكَةَ ذٰلِكَ الْيَوْمِ وَطُهْرَتَهٗ
উম্মে আতিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেয়া হতো। এমনকি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুবতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকত এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত ও তাদের জিকির">দু’আর সাথে দু’আ করত। আর তারা সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতার আশা করত। [সহীহ বুখারী, হা/৯৭১।]
উপরোক্ত হাদীসগুলো হতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ প্রাপ্তবয়স্কা, গৃহবাসিণী এবং ঋতুবতী মহিলাদেরকেও উভয় ঈদে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদেরকেও দুই ঈদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আরো প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ মহিলাদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, যদি কোন মহিলার ওড়না/চাদর না থাকে তাহলে তাকে তার অপর বোনের চাদর ধার নিয়ে হলেও ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ঋতুবতী মহিলারা নামাযের সময় নামায পড়া হতে বিরত থাকবে এবং অন্যান্য কল্যাণকর কাজে ও মুসলিমদের দু‘আয় শরীক হবে।
অপর হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ الصَّلَاةَ يَوْمَ الْعِيْدِ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ ثُمَّ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلٰى بِلَالٍ فَأَمَرَ بِتَقْوَى اللهِ وَحَثَّ عَلٰى طَاعَتِه وَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ ثُمَّ مَضٰى حَتّٰى أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ فَقَالَ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّ أَكْثَرَكُنَّ حَطَبُ جَهَنَّمَ فَقَامَتِ امْرَأَةٌ مِنْ سِطَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ الشَّكَاةَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ قَالَ فَجَعَلْنَ يَتَصَدَّقْنَ مِنْ حُلِيِّهِنَّ يُلْقِيْنَ فِىْ ثَوْبِ بِلَالٍ مِنْ أَقْرِطَتِهِنَّ وَخَوَاتِمِهِنَّ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন- আযান-ইকামত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলাল (রাঃ) এর উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং ‘‘আল্লাহ ভীতি’’ অর্জন করার আদেশ করলেন ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। অতঃপর তিনি সমবেত জনতার সামনে উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বক্তৃতা শেষ করে মহিলাদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি তাদের সামনেও উপদেশমূলক বক্তৃতা প্রদান করলেন। তারপর বললেন, তোমরা সাদাকা করো। কেননা তোমাদের বেশির ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্য থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একজন মহিলা দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন- হে আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কেননা তোমরা বেশি বেশি অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যাচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলারা তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৮৫; নাসাঈ, হা/১৫৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৪৬০; সুনানে দারেমী, হা/১৬১০; বায়হাকী, হা/৬০১৫।]
এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ ঈদের সালাত আদায় করে বিলাল (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট গিয়েছেন। তাদেরকে দান সাদাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন, এমনকি মহিলারা রাসূলুলস্নাহ ﷺ এর ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করে তাদের কানের রিং ও গলার হার পর্যমত্মও দান করে দিয়েছেন। উক্ত দানগুলো বিলাল (রাঃ) একত্রিত করে নিয়ে এসেছেন।
কিমত্মু বড় অনুতাপের বিষয় হলো এই যে, মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুলস্নাহ ﷺ এর সহীহ হাদীস ও অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অনেক মুসলিম সমাজ মহিলাদেরকে মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া এবং মুসলিমদের দু‘আ, দ্বীন শিক্ষা ও ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করা হতে বঞ্চিত করছে।
ঈদের সালাতের সময় :
সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে ঈদের সালাতের সময় আরম্ভ হয় এবং দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত যে কোন সময় এ সালাত আদায় করা যায়।
ঈদুল আযহার সালাত একটু আগে পড়া উত্তম। যেহেতু এরপর পশু কুরবানী করতে হয়। আর ঈদুল ফিতরের সালাত একটু দেরিতে পড়া উত্তম, যাতে লোকেরা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করে ঈদগাহে আসতে পারে। [সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, ১/৫২৮।]