hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

রোযার কাফফারা

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ فَقَالَ هَلَكْتُ فَقَالَ وَمَا ذَاكَ قَالَ وَقَعْتُ بِأَهْلِيْ فِيْ رَمَضَانَ قَالَ تَجِدُ رَقَبَةً قَالَ : لَا ، قَالَ : فَهَلْ تَسْتَطِيْعُ أَنْ تَصُوْمَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ : لَا قَالَ فَتَسْتَطِيْعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّيْنَ مِسْكِيْنًا قَالَ : لَا قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ بِعَرَقٍ - وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ - فِيْهِ تَمْرٌ فَقَالَ اذْهَبْ بِهٰذَا فَتَصَدَّقْ بِه فَقَالَ : الرَّجُلُ عَلٰى أَفْقَرَ مِنِّيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ فَوَاللهِ ! مَا بَيْنَ لَابَتَيْهَا يُرِيْدُ الْحَرَّتَيْنِ أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِيْ، فَضَحِكَ النَّبِيُّ حَتّٰى بَدَتْ أَنْيَابُه ثُمَّ قَالَ : ‏أَطْعِمْهُ أَهْلَكَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এসে বলতে লাগল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। নবী ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ জিনিস তোমাকে ধ্বংস করেছে? সে বলল, আমি রমাযান মাসে দিনের বেলায় রোযা অবস্থায় সহবাসে লিপ্ত হয়ে পড়েছি। তখন (কাফফারা আদায়ের জন্য) নবী ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি গোলাম আযাদ করার মতো সামর্থ্য আছে? সে বলল, না। আবার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এক নাগাড়ে দুই মাস রোযা রাখতে পারবে কি? সে বলল, না। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ৬০ জন মিসকীনকে খাবার দিতে পারবে? সে বলল, না। নবী ﷺ তাকে বললেন, তুমি বসো। অতঃপর নবী ﷺ এর নিকট একটি বড় খেজুর ভর্তি ঝুড়ি আনা হলো। নবী ﷺ বললেন, তুমি এগুলো সাদাকা করে দাও। তখন সে বলল, ‘‘মদিনার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত আমার চেয়ে গরীব আর কেউ নেই।’’ নবী তার এ কথা শুনে হাসলেন, এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলোও বের হয়ে গিয়েছিল। এবার নবী ﷺ বললেন, এগুলো তুমিই নাও এবং তোমার পরিবারকে খেতে দাও। [সহীহ বুখারী, হা/১৯৩৬; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৬৫৭; আবু দাউদ, হা/২৩৯৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৬৯৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৯৪৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৫২৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৮০৭৩; দার কুতনী, হা/২৩৯৭; মিশকাত, হা/২০০৪।]

অতএব যদি কারো রোযার কাফফারা প্রদান করা ওয়াজিব হয়ে যায়, তাহলে একটি গোলাম আযাদ করতে হবে। কিমত্মু যদি কোনভাবে এ কাজ করতে সম্ভব না হয়, তাহলে একাধারে ২ মাস তথা ৬০টি রোযা রাখতে হবে। কিমত্মু যদি কোন ভাবে এটাতেও অক্ষম হয়, তাহলে ৬০টি মিসকীনকে মধ্যম মানের আহার করাতে হবে। এক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত প্রথম সত্মরের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করতে সক্ষম থাকাবস্থায় দ্বিতীয় সত্মরের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করা বৈধ হবে না।

উল্লেখ যে, কাফফারা হিসেবে পূর্ণ দুই মাস রোযা রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। তবে কেউ যদি একামত্মই সক্ষম না হয়, তাহলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে রোযা রাখলেও চলবে। অধিকাংশ আলেম এ মত পোষণ করেছেন।

একাধিকবার সহবাস করলে তার বিধান কী :

১. যে ব্যক্তি রমাযান মাসে একই দিনে একাধিকবার সহবাস করবে তাকে একবারই কাফফারা আদায় করতে হবে।

২. যে ব্যক্তি রমাযান মাসের কোন এক দিনে সহবাস করবে, তারপর তার জন্য কাফফারা আদায় করবে; অতঃপর সে ব্যক্তি যদি পুনরায় অন্য দিন সহবাস করে, তাহলে তাকে পুনরায় কাফফারা দিতে হবে।

৩. যে ব্যক্তি রমাযানের কোন এক দিনে সহবাস করল এবং কাফফারা আদায় করার পূর্বেই অন্য দিন আবার সহবাস করল, তার ক্ষেত্রে একটি মত হচ্ছে, তাকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে আলাদা কাফফারা দিতে হবে। আর অপর মত হচ্ছে, তার জন্য একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে। আর এ মতটিই অধিক নির্ভরযোগ্য। [সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ২য় খন্ড পৃ: ৯৯।]

স্ত্রীর উপর কাফফারা আসবে কি :

স্বামী-স্ত্রী উভয়ে রাজী হয়ে সহবাস করলে উভয়ের উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে কি না- এ ব্যাপারে দুটি মত আছে। একটি মত হলো, মহিলার উপর কাফফারা আসবে না। কেননা নবী ﷺ শুধু পুরুষকেই কাফফারা আদায় করার কথা বলেছেন, নারীকে বলেননি। অপর মত হলো মহিলার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে। যেহেতু সে এ কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করেছে এবং রোযার মর্যাদা নষ্ট করেছে। এ ক্ষেত্রে উভয়ের উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে- এটিই সঠিক মত। [সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ২য় খন্ড পৃ: ৯৮।]

যদি স্বামী স্ত্রীকে বাধ্য করে অথবা সে ভুলে সহবাসে লিপ্ত হয় তাহলে মহিলার উপর সঠিক মত অনুযায়ী কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে না। অনুরূপভাবে পুরুষও যদি ভুলে সহবাসে লিপ্ত হয় তবে তাকে কাযা ও কাফফারা আদায় করতে হবে না। [সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ ২য় খন্ড পৃ: ৯৮।]