hadith book logo

সিয়াম ও যাকাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

লাইলাতুল কদর কোন্টি

কদরের রাত কোন্ তারিখে- তা একেবারে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে কিছু দলীলের ভিত্তিতে এ রাতটি রমাযান মাসে হওয়ার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পারি। যেমন সূরা কদরের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, কুরআন কদরের রাতে নাযিল হয়েছে। আবার সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, রমাযান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। সুতরাং এ আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে এটা নির্দিষ্ট হয়ে গেল যে, কদরের রাতটি রমাযান মাসেই রয়েছে। রমাযান মাসের কোন্ রাত? এ ব্যাপারে হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, লাইলাতুল কদরকে তোমরা রমাযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে খোঁজ করো। [সহীহ বুখারী, হা/২০১৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৪৮৯; বায়হাকী, হা/৮৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮৩৪; জামেউস সগীর, হা/৫২৩৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৬১৬; মিশকাত, হা/২০৮৩।]

এ হাদীস দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, এ রাতটি রমাযানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলোতে রয়েছে। আবার এ রাতটি পরিবর্তন হয়, অর্থাৎ এ বেজোড় তারিখগুলোর মধ্যে একেক বছর একেক তারিখে হতে পারে।

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কদরের রাতের তারিখ জানানোর জন্য বের হলেন, তখন মুসলমানদের দু’ব্যক্তি বিতর্কে লিপ্ত হলো, ফলে নবী ﷺ -কে এ রাতটি ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। [মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হা/৬৯৬; সহীহ বুখারী, হা/৪৯; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৩৩৮০; মা‘রেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হা/২৭৫২; জামেউস সগীর, হা/৪২২৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৫৯২।]

তবে এ রাতটি নির্দিষ্ট না করার মধ্যে বিরাট কল্যাণ ও হিকমত রয়েছে। এটি নির্দিষ্ট থাকলে কেবল ঐ তারিখেই মানুষ আল্লাহর ইবাদাত করত, এখন অনির্দিষ্ট থাকাতে শেষ দশকের বেজোড় পাঁচটি রাতেই আল্লাহর বান্দারা বেশি বেশি ইবাদাত করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পাবে।

عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهٗ وَأَحْيَا لَيْلَهٗ وَأَيْقَظَ أَهْلَهٗ

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ রমাযানের শেষ দশকের রাতগুলোতে কোমর কষে বাঁধতেন। তিনি নিজে জাগতেন এবং পরিবারের লোকদেরকেও জাগাতেন। [সহীহ বুখারী, হা/২০২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৪২২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮২৯; জামেউস সগীর, হা/৮৮৪২; মিশকাত, হা/২০৯০।]

লাইলাতুল কদরে পড়ার দু‘আ :

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি নবী ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমি যদি লাইলাতুল কদর পাই তবে কী পড়ব? তিনি বলেন এ দু‘আ পড়ো,

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তুহিববুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি বড়ই ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে তুমি ভালোবাস। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। [তিরমিযী, হা/৩৫১৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪২৩; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/১৯৪২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৩৩৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৩৯১; মিশকাত, হা/২০৯১।]